২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অভিবাদন জানান জেনারেল ওসমানী


স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও অনেক বধ্যভূমি ও গণকবরের স্থান রয়ে গেছে অযতœ অবহেলায়। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর বিজয়ের প্রাক্কালে সিলেটের বালুচর এলাকায় পাক হায়েনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হয় মুক্তিযোদ্ধারা। এতে আলুরতল এলাকায় শহীদ হন প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট বিডি কোম্পানির বেশ ক’জন সৈনিক। ২০১৩ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় সেনাবাহিনী বালুচর এলাকার গণকবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। বালুচর এলাকায় বন বিভাগ, সিলেটে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, এমসি কলেজ ও জেলা দুগ্ধ খামারের ভূমিতে নির্মাণ করা হয় সমাধিসৌধ। সমাধিসৌধের সামনে টানানো হয় একাত্তরের সম্মুখযুদ্ধে শহীদ সেনা সদস্যদের নামের তালিকা।

খাদিমনগর বধ্যভূমি ॥ সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর চা বাগানে একাত্তরের ১৯ এপ্রিল ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। চা বাগানের শ্রমিকদের কাজ দেয়ার কথা বলে এক স্থানে দাঁড় করিয়ে তাদের গুলি কওে হত্যা করা হয়। এতে মারা যায় ৬৪ শ্রমিক। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাগান কর্তৃপক্ষ শহীদদের স্মরণে বাগানের প্রবেশপথে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে।

স্টার চা বাগান ॥ শহরসংলগ্ন এই চা বাগানের মালিক ছিলেন রাজেন্দ্র লাল গুপ্ত। একাত্তরের ১৮ এপ্রিল পাকিস্তানী মিলিটারি বাগানে প্রবেশ করে। তারা গুলি করে হত্যা করে রাজেন্দ্র লাল গুপ্তের পরিবার ও বাগানের শ্রমিকসহ ৩৮ জনকে। শহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে স্বাধীনতার পর বাগান কর্তৃপক্ষ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে।

কাঁঠালতলা (বিয়ানীবাজার) ॥ কাঁঠালতলায় শতাধিক কঙ্কাল আবিষ্কার করা হয় স্বাধীনতার পর। সেগুলো গর্তে মাটি চাপা দিয়ে সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানিয়েছিলেন জেনারেল ওসমানী। কিন্তু ৭৫ পরবর্তী সময়ে সেখানে নির্মিত হয়েছে বহুতল ভবন। আজ আর এই বধ্যভূমিটির চিহ্ন নেই।

তামাবিল (গোয়াইনঘাট) ॥ গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিলে পাক সেনাদের শক্তঘাঁটি ছিল। একাত্তরের মে মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এখানে অবস্থান করে পাকসেনা। যুদ্ধ শেষের দিকে মুক্তিযোদ্ধারা পাকঘাঁটি দখল করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হলেও সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হয় অনেক মুক্তিযোদ্ধা। এদের মধ্যে ৫০ জনকে সমাহিত করা হয় তামাবিলে। যুদ্ধের পর দেয়াল নির্মাণ করে গণকবরটি চিহ্নিত করা হলেও এখন এটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।

Ñসালাম মশরুর

সিলেট থেকে