মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

নার্সরা ডিএসসিসির হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫
  • দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীতকরণে বিলম্ব

মশিউর রহমান খান ॥ সরকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র কাজে যোগ দিচ্ছেন সেবাদানকারী স্টাফ নার্সরা। ডিএসসিসির ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতাল ও ৩১ শয্যাবিশিষ্ট নাজিরাবাজার মাতৃসদনে কর্মরত স্টাফ নার্সরা বিগত প্রায় পাঁচ বছর যাবত অপেক্ষা করেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সাড়া না পেয়েই অন্যত্র কাজে যোগ দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সরকার ২০১১ সালে ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারী স্টাফ নার্সদের চাকরির মর্যাদা তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করার প্রজ্ঞাপন জারি করে। নিয়মানুযায়ী ডিএসসিসির তিনটি হাসপাতালের নার্সরা সে সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও প্রায় পাঁচ বছরেও সে সুবিধা পাননি। সরকার ঘোষিত প্রাপ্য মর্যাদা প্রদানে সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কয়েক দফা চিঠি চালাচালি হলেও অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কবে নাগাদ এটি বাস্তবায়ন করা হবে সে সম্পর্কেও কোন আভাস না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে এসব নার্স বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এর ফলে এ তিন হাসপাতালে আগত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যারা সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে বলে অপেক্ষায় রয়েছেন তাদের মাঝেও চরম হতাশা বিরাজ করছে। সম্প্রতি সরকারের ঘোষণা বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা থাকায় ১০ জন নার্স চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। আরও কয়েকজন চাকরি ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নার্স জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ৬ এপ্রিল সরকার ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারী স্টাফ নার্সদের তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদায় উন্নীতকরণের জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারী অনেক হাসপাতালের নার্সদের ২০০৯ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা এবং প্রাপ্য বেতন-ভাতা প্রদান করছে। সরকারের ঘোষণা বাস্তবায়নে নার্সরা গত ২ জুন ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। মেয়রকে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০০৯ সালে ডিপ্লোমাধারী স্টাফ নার্সদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করার কথা বলা হলেও আজও তার বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে আট হাজার টাকা বেতন হওয়ার কথা থাকলেও সিটি কর্পোরেশনের তিন হাসপাতালে ছয় হাজার ৪০০ টাকা বেতন দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নগর ভবনের কর্মকর্তাদের কাছে নার্সরা গেলেও কোন সুফল পাননি। সিটি কর্পোরেশনের তিনটি হাসপাতালে মোট ৬২ জন স্টাফ নার্স থাকলেও বর্তমানে ৫২ জন কর্মরত। ১০ জন হতাশায় চাকরি ছেড়ে অন্য সরকারী হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন। নার্সরা এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত ২৩ মার্চ ডিএসসিসির তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনছার আলী খান নার্সদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি করতে সরকারের ঘোষণা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি চিঠি দেন।

চিঠিতে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের ২০১১ সালের দুটি চিঠির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ডিপ্লোমাধারী নার্সদের পদমর্যাদা আর্থিক সুবিধাসহ তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছে। সে আলোকে সরকারী এবং বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতাল, কিনিক ও স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রের নার্সরা দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা পাচ্ছেন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের তিন হাসপাতালের নার্সদের সরকার ঘোষিত পদমর্যাদা বাড়েনি। এ কারণে নার্সদের মধ্যে কর্মস্পৃহা ও উদ্দীপনা কমে গেছে এবং সেবা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। সরকারের ঘোষণার পর থেকেই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রচেষ্টা চালালেও কাজে কোন অগ্রগতির দেখা মিলছে না।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার চিঠির প্রেক্ষিতে গত ৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোজ কুমার নাথ এক চিঠিতে সিটি কর্পোরেশনকে নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীতকরণ ও বেতন স্কেল উন্নীতকরণ বিষয়ে অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর আলোকে মতামতসহ তাদের কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানান। সে অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন গত ২ জুলাই এক চিঠিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানায়, ১৯৯০ সালের সাংগঠনিক কাঠামো অনুসারে হাসপাতাল তিনটির স্টাফ নার্সের পদ সংখ্যা ৭৫ এবং প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুসারে এ সংখ্যা হবে ৬৬টি। বেতন স্কেল ও গ্রেড সংখ্যাও উল্লেখ করা হয় ওই চিঠিতে। সিটি কর্পোরেশন চিঠিতে নার্সদের শ্রেণী উন্নীত না হওয়ায় ১০ জন হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন বলেও জানায়। সেজন্য দ্রুত দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীতকরণের দাবি জানায় ডিএসসিসি। কিন্তু গত ২৮ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আবারও সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দিয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের চাকরি বিধিমালা, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো, সেবিকা পদ সৃষ্টি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের (সিটি কর্পোরেশন) কর্মচারীদের পদোন্নতির বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিসহ সাতটি বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়। এভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশন চিঠি চালাচালি করলেও এখনও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। এ কারণে নার্সদের মধ্যে হতাশা চরম আকার ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, নার্সদের বিষয়ে সরকারের দেয়া পদমর্যাদা বৃদ্ধির ঘোষণা বাস্তবায়নে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নিয়মানুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫

১৯/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: