১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সহজ জয়ে এগিয়ে গেল কিউইরা


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ হার এড়াতে পারল না শ্রীলঙ্কা। ডুনেডিন টেস্টে নিউজিল্যান্ডের কাছে ১২২ রানের বড় ব্যবধানে ধরাশায়ী হলো সফরকারীরা। বড় জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল স্বাগতিক কিউইরা। ৪০৫ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে লঙ্কানরা অলআউট হয় ২৮২ রানে। প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ২৯৪। আর দাপুটে ম্যাচে নিউজিল্যান্ড করে ৪৩১ ও ২৬৭/৩ (ডিক্লে.)। ১৫৬ ও ৪৬ রানের দুরন্ত দুই ইনিংস উপহার দিয়ে ম্যাচসেরা কিউই ওপেনার মার্টিন গাপটিল। দারুণ জয়ে (ঘরের মাটিতে টানা ১২ অপরাজেয়) যারপরনাই সন্তুষ্ট অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম। ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট (বক্সিং ডে) ২৬ ডিসেম্বর থেকে। ওই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অতিথি অধিনায়ক এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।

হার এড়াতে শেষ দিনে মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হতো শ্রীলঙ্কানদের। ব্যাট হাতে চেষ্টা অনেকেই করেছেন, ক্ষীণ আশা জাগিয়ে দপ করে নিভে গেছে প্রদীপ। একাধিক ব্যাটসম্যান ভাল শুরু করেও ইনিংস দীর্ঘ করতে পারেননি। ইনফর্ম দিনেশ চান্দিমাল ৫৮ রান করে চেষ্টা চালিয়েছিলেন, কিন্তু সফল হননি। অধিনায়ক ম্যাথুস (২৫) সামনে থেকে নেতৃত্বের ভীত গড়েছিলেন, পারেননি তিনিও। একই গল্প কিথরুয়ান ভিতানাগে (৩৮) আর মিলিন্দা শ্রীবর্ধনের (২৯) বেলায়। ফলে লড়াইটা জমিয়ে তুলতে পারেনি লঙ্কানরা। নেইল ওয়াগনারের দারুণ এক ডেলিভারিতে ম্যাথুস ফেরার সঙ্গে সঙ্গে সফরকারীদের স্বপ্ন দূরে সরে যায়। প্রতিরোধ গড়া চান্দিমালকে তুলে নেন মিচেল স্যান্টনার। এরপর ভিতানাগে-শ্রীবর্ধনের লড়াই হারের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র। শেষ অবধি কাজের কাজ কিছু হয়নি। টেলএন্ডে সুরাঙ্গা লাকমল ২৩ আর দুশমন্থা চামিরা ১৪ রান করে হার প্রলম্বিত করেছেন।

টিম সাউদি ৫২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে অতিথিদের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছেন। ২টি করে শিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ট্রেন্ট বোল্ট, স্যান্টনার ও ওয়াগনারের। এই জয়ে দারুণ এক ধারাবাহিকতা রক্ষা করল কিউইরা। ২০১২ সালে হ্যামিল্টনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের পর ঘরের মাটিতে টানা ১২ টেস্টে অপরাজেয় (১ ড্র) থাকার কৃতিত্ব দেখাল নিউজিল্যান্ড। দুর্বার কিউরা সেটিকে ১৩Ñএ উন্নিত করে রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়ার অপেক্ষায় ...! ‘ওয়াগনার যখন ম্যাথুসকে ফিরিয়ে দিল তখনই আমরা মোটামুটি চাপমুক্ত হয়ে যাই। ওর ডেলিভারিটি ছিল সত্যি মিরাকল। লেগ স্টাম্পের একেবারে ভিতে আঘাত করার চেষ্টা করেছিল। একটা পর্যায়ে ম্যাথুসের প্রতিরোধ ভেঙ্গে যায়। ঘরের মাটিতে রেকর্ড জয়ের দিকে এগিয়ে যেতে এটি আরও এক সাফল্য। আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’ বলেন ম্যাককুলাম। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস স্বীকার করেছেন যে তিনি ওয়াগনারের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন। হেরে যাওয়া টেস্টটিকে নিজেদের জন্য শিক্ষা বলেও অভিহিত করেন তিনি, ‘ডুনেডিনের ম্যাচটা এক রকমের শিক্ষা। আমাদের প্রায় সব ব্যাটসম্যানই ভাল। তারা প্রতিভাবান, টেকনিকেও সমস্যা নেই। সমস্যা কেবল মানসিকতায়। সেই শিক্ষাটা আমার ভালভাবেই পেয়েছি।’ বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান থাকলে টেস্টে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ দিনটি কাটিয়ে দেয়া অসম্ভব নয়। এখানেই বড় আক্ষেপ থাকবে লঙ্কানদের। কিছুদিন আগে অবসর নিয়েছেন গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারা, তার আগে বন্ধু মাহেলা জয়াবর্ধনে। ঘরের মাটিতে পাকিস্তান ও ভারতের কাছে টানা দুটি সিরিজে হারে ম্যাথুসের দল। ডুনেডিনে এই ব্যর্থতার পর দুই গ্রেটকে আরও বেশি করে মনে পড়বে লঙ্কানদের।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: