মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ আগস্ট ২০১৭, ৬ ভাদ্র ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

তাভেলা হত্যার নির্দেশদাতা বিএনপি নেতা কাইয়ুম

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০১৫
  • জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শংকর কুমার দে ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যাকা-ের নির্দেশদাতা বিএনপির সাবেক কমিশনার এম এ কাইয়ুম। একটি বেসরকারী টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিজার হত্যাকা-ে কাইয়ুমের নাম উঠে এসেছে। কাইয়ুমের নির্দেশেই সিজার হত্যাকা- ঘটে। গভীর রাতে কয়েকটি গণমাধ্যমকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তদন্তে আমরা এ পর্যন্ত পেয়েছি যে কাইয়ুমের নির্দেশেই এ হত্যাকা- ঘটেছে।

তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, বিদেশী হত্যার সঙ্গে জড়িত কথিত বড় ভাই কাইয়ুম কমিশনারের নির্দেশদাতা হিসেবে আরেক বড় ভাই জড়িয়ে আছেন। নির্দেশদাতা ওই বড় ভাইকেও খোঁজা হচ্ছে। কমিশনার কাইয়ুম ও নির্দেশদাতা আরেক ভাই প্রবাসে রয়েছেন। সূত্র মতে, সিজার তাভেলা হত্যাকা-ের শিকড় অনেক গভীরে।

জানা গেছে, কমিশনার কাইয়ুম বিদেশে পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ডজন খানেকের বেশি মামলা রয়েছে। কাইয়ুম কমিশনার ও নির্দেশদাতা এক বা একাধিক বড় ভাইকেও খোঁজা হচ্ছে। কাইয়ুম কমিশনারকে গ্রেফতারের পরই জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসতে পারে বিদেশী হত্যার পেছনে মূলত কারা সম্পৃক্ত। বিদেশী হত্যাকা- ব্যক্তিগত না রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ কাইয়ুমকে গ্রেফতারের পরই তা পরিষ্কার হবে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ইতালীয় নাগরিক হত্যাকা-ের নির্দেশদাতা মধ্যম সারির একজন রাজনীতিক। তিনি দেশের ভেতরেই আছেন এবং গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। কথিত বড় ভাইয়ের পরিচয় জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, সময়মতো বড় ভাইয়ের পরিচয় প্রকাশ করা হবে। তদন্ত চলছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতালীয় নাগরিক হত্যাকা-ের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই খুনে সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং একজন মোটরসাইকেল সরবরাহকারী।

এছাড়াও মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দুই বিদেশী হত্যাকা- ঘটনায় কথিত বড় ভাইসহ রাজনীতিবিদরা জড়িত রয়েছেন। ইতালির নাগরিক তাভেলা হত্যাকা-ে শুধু ‘বড় ভাই’ আসল নয়, তার পেছনে যারা রয়েছেন তারা রাজনীতিবিদ। তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা দেশে রয়েছেন তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তথ্য প্রমাণ বিচার বিশ্লেষণ করে দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা হবে। যারা বিদেশে রয়েছেন তাদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দুই বিদেশী হত্যাকা-ের রহস্য দু-একদিনের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হবে। গোয়েন্দারা হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন করেছে। তা মিলিয়ে দেখার জন্য বিলম্ব হচ্ছে। হত্যাকা- নিয়ে জজ মিয়া নাটক সাজানো হবে না। তিনি বলেন, সব কিছু গুছিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশী হত্যাকা- আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্র। আমাদের দেশকে জঙ্গীরাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে চায় ষড়যন্ত্রকারীরা। দুই হত্যাকা-ের পরিকল্পনা একই জায়গা থেকে হয়েছে।

রাজধানীর পুরান ঢাকায় হোসেনী দালানে শিয়া মতাবলম্বীদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমা হামলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা সব ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। অচিরেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, দুই বিদেশী ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা ও জাপানী নাগরিক হোশি কুনিও হত্যাকা-ের নির্দেশদাতা হিসেবে বিএনপির ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী সোহেলকে খোঁজা হচ্ছে। তিনি কথিত বড় ভাই কিনা সেই বিষয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। তাকে গ্রেফতারের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে র‌্যাব, ডিবি, পুলিশ, সিআইডি, এসবিসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে। খুনের রহস্য উদঘাটনে বিলম্বের সুযোগ নিয়ে অন্তর্ধান হয়ে গেছেন সোহেল। দেশের ভেতরেই সে আছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। সোহেলকে গ্রেফতার করা গেলেই বড় ভাইয়ের চেয়ে আরও বড় ভাইয়ের কানেকশন পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ইতালীয় নাগরিক তাভেলা হত্যাকা-ের সঙ্গে বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আবদুল কাইয়ুম, তার ভাই আবদুল মতিনসহ বিএনপির একাধিক নেতা ফেঁসে যেতে পারেন এবং এ হত্যাকা-টি রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

তদন্ত সূত্র জানান, হাবিব উন নবী সোহেলের ভাই রাশেদুন নবী বিপ্লব জাপানী নাগরিক হোশি কুনিও হত্যাকা-ে গ্রেফতার হয়ে এখন কারাবন্দী। কাইয়ুমের ভাই আবদুল মতিন গুলশানের তাভেলা হত্যাকা-ের পর কেউ বলছেন গোয়েন্দা হেফাজতে আবার কেউ বলছেন নিজে থেকেই ঘটনার পর থেকে হয়েছেন রহস্যজনক অন্তর্ধান। নির্দেশদাতা বড় ভাইয়ের ওপর আরও বড় ভাই আছেন যার অবস্থান লন্ডনে এবং লন্ডন কানেকশনের ফসলই হচ্ছে দুই বিদেশী হত্যাকা-সহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র। দুই বিদেশী হত্যাকা-ের মধ্যে ইতালীয় নাগরিক তাভেলা হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটনে সিসি টিভির ফুটেজ, মোবাইল টেলিফোনের কথোপকথন, খুনের সময়ে খুনীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, সাক্ষ্য, প্রমাণ, আলামতের ভিত্তিতে খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজনসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা।

তদন্তের তদারকারী একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলেছেন, কান টানলে মাথা আসে প্রবাদের মতোই নির্দেশদাতা বড় ভাই হাবিব উন নবী সোহেলকে গ্রেফতার করা গেলেই দুই বিদেশী হত্যাকা-সহ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার সকল ষড়যন্ত্রের রহস্য উদঘাটিত হবে। আর গুলশানের সাবেক কমিশনার আবদুল কাইয়ুমকে গ্রেফতার করা গেলে ইতালীয় নাগরিক তাভেলা হত্যাকা-ের পরিকল্পনা কোথায় কিভাবে করা হয়েছে সেই বিষয়ে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। সিজার তাভেলা হত্যায় যেই চারজন গ্রেফতার হয়েছে তাদের কাছ থেকে হত্যাকা-ের জন্য কে কত টাকায় কিভাবে তাদের ভাড়া করেছে সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গুলশানের সাবেক কমিশনার আবদুল কাইয়ুমের ভাই আবদুল মতিনের মাধ্যমেই তাভেলা হত্যাকা-ের ভাড়াটিয়া কিলারদের নিয়োগ দেয়ার মতো তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাভেলা হত্যাকা-ের আগে থেকেই কাইয়ুম কমিশনার উধাও এবং হত্যাকা-ের পর থেকে তার ভাইও অন্তর্ধান। ইতালীয় নাগরিক তাভেলা হত্যাকা-ের অভিযোগে মোঃ রাসেল চৌধুরী ওরফে চাক্কি রাসেল ওরফে বিদ্যুত রাসেল, মিনাহাজুল আরেফিন রাসেল ওরফে ভাগ্নে রাসেল ওরফে কালা রাসেল, তামজিদ আহমেদ ওরফে রুবেল, মোঃ শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরিফকে গ্রেফতার করার পর আট দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকারীদের মধ্যে শুটার রুবেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে কারা কিভাবে হত্যাকা- সংঘটিত করেছে তার বর্ণনা করেছে। তাভেলা হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতরা ভাড়াটিয়া কিলার হলেও তারা বিএনপির রাজনীতির আদর্শের অনুসারী এবং বিভিন্ন মিটিং, মিছিল ও বিএনপির পেট্রোলবোমার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার কর্মসূচীতেও অংশ নিয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে।

তদন্ত সূত্র জানান, ইতালীয় নাগরিক তাভেলাসহ দুই বিদেশী নাগরিক খুনের নির্দেশদাতা বড় ভাই-ই মাস্টারমাইন্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের খোঁজে মাঠে নেমেছে তদন্তকারী সংস্থা ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইউনিটগুলো। তাকে সর্বশেষ গত এপ্রিলে সিটি নির্বাচনের প্রাক্কালে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই উধাও এই বিএনপি নেতা। রংপুরে জাপানী নাগরিক হোশি কুনিও হত্যাকা-ে হাবিব উন নবী খান সোহেলের সরাসরি সম্পৃক্ততার কিছু সাক্ষ্য এবং তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দারা। যে কারণে তাকে ধরতে এখন মরিয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোহেলের দেশত্যাগের ওপর আগে থেকেই রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। আত্মগোপনে থেকেই সাবেক ছাত্রনেতা সোহেল বিদেশী খুনের পরিকল্পনার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। কুনিও খুনের ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে তার ছোট ভাই রাশেদ উন নবী বিপ্লবকে গ্রেফতার করেছে।

তদন্ত সূত্র জানান, দুই বিদেশী খুনে লন্ডন কানেকশনের বিষয়ে খুনের ঘটনা সংঘটিত করার আগে লন্ডন থেকেও কিছু দিকনির্দেশনা আসে ঢাকায়। পরে ঢাকার পরিকল্পনাকারীরা নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভাড়াটে কিলার সংগ্রহ, অস্ত্র ও অর্থের জোগান, খুনের পর কিলাররা আক্রান্ত হলে যেন প্রতিরোধ করা যায় এজন্য আরেকটি অস্ত্রধারী গ্রুপকে ঘটনাস্থলে রাখার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

লন্ডনে ইতোমধ্যেই গুলশানের কাইয়ুম কমিশনার অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। মালয়েশিয়া হয়ে লন্ডনে যাওয়ার পরই গুলশানে ইতালীয় নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যাকা- সংঘটিত হয়।

তদন্ত সূত্র জানায়, জাপানী নাগরিক খুনের আগে মৎস্যজীবী দলের রংপুরের আহ্বায়ক কামাল হোসেনের টেলিফোনে দফায়-দফায় ফোন যায় ঢাকা থেকে। যে ফোন নাম্বারগুলোর বেশিরভাগই ঘটনা পরবর্তীকালে বন্ধ হয়ে যায়। মৎস্যজীবী দলের এ নেতাকেও ঘটনার পর পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার পর থেকে তিনিও উধাও। কামাল হোসেনের বড় ভাই হুমায়ুন কবির হীরা। জাপানী নাগরিক হোশি কুনিওকে যেদিন খুন করা হয় সেদিন তাকেও খামারে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। জাপানী নাগরিক খুনের পাশাপাশি এই টাকার বিষয়েও হীরাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশ হীরার ছোট ভাই তিতাসকেও আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা সবাই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন মৎস্যজীবী দলের স্থানীয় নেতাকর্মী। মৎস্যজীবী দলের নেতা কামাল হোসেনকে ভবিষ্যতে বড় পদ-পদবির প্রলোভন দিয়েছিলেন হাবিব উন নবী খান সোহেল। এজন্য তাকে যে কোন একজন বিদেশীকে হত্যার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী কামাল হোসেনই মুখোশ পরিহিত কিলারদের দিয়ে জাপানী নাগরিককে খুন করান, যার মাস্টার মাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে হাবিব উন নবী সোহেল। ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা খুনের ঘটনাতেও সাবেক ছাত্রনেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম এসেছে নির্দেশদাতা বড় ভাই। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা ও সদস্য সচিব আবদুস সালামের কমিটি ভেঙে দিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়। মির্জা আব্বাসের বিষয়েও গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে।

তদন্ত সূত্র জানায়, ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যাকা-ের নির্দেশদাতাদের একজন হিসাবে রাজধানীর বাড্ডার আলোচিত বিএনপি নেতা সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আবদুল কাইয়ুম প্রায় এক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। বিদেশী খুনের মিশন বাস্তবায়ন করতে মালয়েশিয়া থেকে লন্ডনে চলে যান আবদুল কাইয়ুম। বহু আগে থেকেই কাইয়ুম পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ানডেট হিসেবে চিহ্নিত। রাজধানীর বাড্ডার সাবেক এ ওয়ার্ড কমিশনার বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে নানা অপকর্ম আর ক্যাডার বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়ার কারণে রাতারাতি আলোচনায় উঠে আসেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুই ডজনের বেশি মামলা সচল রয়েছে। অপরদিকে রংপুরে কাচু আলুটারি গ্রামে জাপানী নাগরিক কুনিওকে খুন করার পরপরই গা-ঢাকা দেন বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল। হাবিব উন নবী খান সোহেল রংপুরে জাপানী নাগরিক হত্যাকা-ের পরপরই সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে ভারতের কলকাতায় চলে যান বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে। ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তিনি ঢাকা ও রংপুরে ফোন করে পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন সোহেল। গোয়েন্দাদের হাতে আসা সোহেলের মোবাইল ফোনের কথোপকথনের রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন কর্মকর্তা বলেন, হাবিব উন নবী সোহেল ভারতে বা বিদেশে চলে গেছেন এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। হাবিব উন নবী সোহেল, কাইয়ুম কমিশনার, তার ভাই আবদুল মতিন-সহ বিএনপির একাধিক নেতার গ্রেফতারের চেষ্টার অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০১৫

২৮/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: