মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ আগস্ট ২০১৭, ৭ ভাদ্র ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বৌদ্ধ নিদর্শনে পর্যটন বিকাশের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০১৫
বৌদ্ধ নিদর্শনে পর্যটন বিকাশের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
  • ঢাকায় দু’দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

বিডিনিউজ ॥ বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মের সুপ্রাচীন ও সমৃদ্ধ ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পর্যটনের সংযোগ স্থাপনের তাগিদ দিয়েছেন। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বৌদ্ধ পর্যটন সার্কিট উন্নয়ন’ বিষয়ক দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ফোরামের সঙ্গে বাংলাদেশকে পর্যটনের অন্যতম গন্তব্য হিসাবে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতিনিধিরা পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারে একটি ‘ ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করবেন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সহায়তায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দেশে প্রথমবারের মত এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মহাপরিচালক তালেব রিফাই, প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল এ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী মারিও হার্ডিসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের হাজার বছরের বৌদ্ধ সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন বিকাশে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রাচীনকালের নান্দনিক স্থাপত্যকলা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ পর্যটনের ইতিহাসের এক বিশেষ অধ্যায়। এ ইতিহাস আড়াই হাজার বছরব্যাপী বিস্তৃত। জনশ্রুতি রয়েছে, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে গৌতম বুদ্ধ এদেশে আগমন করেন। তিনি প্রায় তিন মাস অবস্থান ও ধর্মপ্রচার করেন।’

পরবর্তীতে সম্রাট অশোকের শাসনামলে বিহার, মূর্তি ও স্তম্ভ নির্মাণ, সম্রাট কণিষ্কের সময়ে বৌদ্ধধর্মের প্রসার, পঞ্চম থেকে সপ্তম শতকে চীনা পরিব্রাজকদের এদেশে আগমন এবং অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত পাল রাজত্বকালে বাঙালীর জীবন ও সংস্কৃতিতে বৌদ্ধধর্মের গভীর প্রভাবের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি পর্যটনের বিকাশে বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ঘোষণা, ৬০টিরও বেশি দেশের জন্য অন-এ্যারাইভাল ভিসা চালু, ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রতিষ্ঠা এবং ২০১৬ সালকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণার কথা বলেন।

শেখ হাসিনা জানান, আন্তর্জাতিক ক্রুজেও বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-পর্যটনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক নৌ-পর্যটনে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌ-প্রটোকলে যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পর্যটকসহ যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন) ‘মোটর ভেহিকেল এগ্রিমেন্ট’ (এমভিএ) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বলেও জানান তিনি।

ভ্রমণ ও পর্যটন সংক্রান্ত খোলা চিঠি গ্রহণ ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি জোরদার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশের পর্যটন সামর্থ্যরে স্বীকৃতি হিসেবে ‘ভ্রমণ ও পর্যটন সংক্রান্ত খোলা চিঠি’ গ্রহণ করেছেন।

জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডাব্লিউটিও) সফররত মহাসচিব তালেব রিফাই মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে তাঁর হাতে এই চিঠি হস্তান্তর করেন।

ইউএনডাব্লিউটিও এবং বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন পরিষদ (ডাব্লিউটিটিসি) প্রদত্ত এই চিঠিতে আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি এবং এই খাতকে জাতীয় নীতিতে উচ্চতর অগ্রাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে সারা বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, তারা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পর্যটনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ইউএনডাব্লিউটিও মহাসচিব বলেন, পর্যটন মানব জাতির জন্য কল্যাণকর এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে। এটি একটি শ্রমঘন শিল্প।

এ প্রসঙ্গে তালেব রিফাই আরও বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে সারা ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও, পর্যটন এ অঞ্চলে অর্থনীতিকে টেকসই রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইউএনডাব্লিউটিও সফররত মহাসচিবের এ সাক্ষাতকালে এখানে বৌদ্ধ কৃষ্টি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানকারী আফগান তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবদুল বারী জাহানী, ভুটানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী লোইয়নপো নোরবু ওয়াংচুক, কম্বোডিয়ার পর্যটন উপ-মন্ত্রী টপ সোপহিয়াক, মিয়ানমারের হোটেল ও পর্যটন বিষয়ক উপ-মন্ত্রী টিন শোয়ে, ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বিনোদ জুৎশি উপস্থিত ছিলেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০১৫

২৮/১০/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: