১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

প্রাইভেটকার তেলে চালানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব


নাজনীন আখতার ॥ ঢাকার অসহনীয় যানজট কমাতে প্রাইভেট গাড়িগুলোকে সিএনজির পরিবর্তে তেলে চালানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তেলের কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় রোডে গাড়ি কম নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যানজট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মগবাজার ফ্লাইওভারের ধীরগতির নির্মাণকাজকে দায়ী করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তা শেষ করারও প্রস্তাব দিয়েছে ডিএমপি। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এতে মেট্রোরেলের কাজ শুরু হলে যানজট আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। ওই সময়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য যানজটের কারণে সরকারের সাফল্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খোদ মন্ত্রীও ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার ক্ষেত্রে জরিমানা সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা করার ওপর জোর দেন।

বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, রাজধানীর যানজট নিরসনে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই সময় কমিটির সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যানজটের কারণে সরকারের সাফল্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে। সরকার যত ভাল কাজই করুক না কেন, মানুষ যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে পড়ে থাকে তখন সরকারকেই দোষারোপ করে। তাই যানজট নিয়ে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করা উচিত। ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য জনসচেতনতা গড়ে তোলা উচিত। তিনি যানজট নিরসনে প্রয়োজনে একটি সাব-কমিটি গঠন করে সমস্যা চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন।

তাকে সমর্থন দিয়ে কমিটির অপর সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, যানজট সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে আরও গবেষণা দরকার। আলোচনা, সমালোচনা ও গবেষণা থেকে একটি সমাধান বের করতে হলে অবশ্যই একটি সাব-কমিটি গঠন প্রয়োজন। তিনি বলেন, যানজট নিয়ে এখনই কাজ করতে হবে। বিভিন্ন দেশের মতো ঢাকা শহরেও অন্য শহরের গাড়ি প্রবেশ করতে হলে নির্দিষ্ট টোল আদায়ের সিস্টেম চালু করা যেতে পারে।

সূত্রমতে, ওই সময় ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া যানজট নিরসনে প্রাইভেট গাড়িগুলোকে তেলে চালানোসহ অন্যান্য প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জন্য পুলিশের দু’জন জয়েন্ট কমিশনারকে সরেজমিন কাজ করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে মগবাজার ফ্লাইওভারের কাজের ধীরগতির কারণে ওই রোডের গাড়ির চাপ গিয়ে পড়ছে অন্য রোডে। বিভিন্ন রোডে গাড়ির চাপ বিভিন্ন রকম। এ কারণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। যে রোডে গাড়ির চাপ বেশি সেই রোডে ম্যানুয়াল সিগন্যাল অর্থাৎ হাত দিয়ে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

ডিএমপি কমিশনার মগবাজার ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়ে বলেন, আগামী ডিসেম্বরে মেট্রোরেলের কাজ শুরু হলে যানজট আরও বাড়তে পারে। সে কারণে ডিসেম্বরের মধ্যেই মগবাজার ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হওয়া জরুরী। তিনি জানান, যানজট নিরসনে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ধারণক্ষমতার বেশি গাড়ি না রাখার বিষয়ে মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রাইভেট গাড়িগুলোকে সিএনজির পরিবর্তে তেলে চালানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তেলে গাড়ি চালাতে খরচ বেশি হওয়ার ফলে রোডে গাড়ির চাপ কিছুটা কমে আসবে। এছাড়া উল্টোপথে গাড়ি নিয়ে ইন্টার জয়েন্টে যানজট লাগানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে জরিমানার পরিমাণ সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা করার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো উচিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে বিদেশে অনেক টাকা জরিমানা দিতে হয়। সেখানে জরিমানা দেয়ার ভয়ে কেউ ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার সাহস পায় না। বর্তমানে বাংলাদেশে জরিমানার পরিমাণ অনেক কম। এটার পরিবর্তন হওয়া উচিত। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে বিদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিদ্র করার সিস্টেম চালু রয়েছে। তৃতীয়বার যার কার্ড ছিদ্র করা হবে তার লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। তিনি বলেন, গাড়িচালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার প্রাণ যাচ্ছে। এই কমিটি থেকে একটি প্রস্তাব যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে দেয়া উচিত, যেন রং সাইডে গাড়ি পার্কিং, রং রোডে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য করা ইত্যাদি কারণে জরিমানার হার সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন হারে বাড়ানো হয়।

জানা গেছে, আলোচনার পর কমিটির সভাপতি টিপু মুন্শি ঢাকা শহরের যানজট সমস্যার কারণ ও প্রতিকারের উপায় অনুসন্ধানের জন্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে আহ্বায়ক করে এবং আবুল কালাম আজাদ ও ফখরুল ইমামকে সদস্য করে তিন সদস্যের সাব-কমিটি গঠন করেন। সভাপতি বলেন, যানজট সমস্যাটি জটিল। তাই বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া যায় কি-না তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিভিন্ন উন্নত দেশে জোড় সংখ্যার নম্বর ও বিজোড় সংখ্যার নম্বরযুক্ত গাড়ি পযার্য়ক্রমে চালানো হয়। এছাড়া যে শহরে গাড়ি চালানো হবে, সেই শহরে গাড়ি চালানোর অনুমতি নিতে গাড়ির ক্রয়মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ ফি দিতে হয়। কোন কোন শহরে গাড়ি চালানোর ধারণক্ষমতা অনুযায়ী গাড়ির অনুমতি দেয়া হয়।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: