২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

চীনে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা কি সঙ্কুচিত হচ্ছে ?


আগস্টের শেষ দিকে গুজব ছড়ানোর জন্য চীনা গণনিরাপত্তা মন্ত্রণালয় যখন প্রায় দু’শ’ জনকে গ্রেফতার করে সে সময় সবচেয়ে বিশিষ্ট নিশানার মধ্যে অন্যতম ছিলেন ওয়াং শিয়াওলু, যিনি সম্ভ্রান্ত বাণিজ্য পত্রিকা কাইজিং-এর একজন প্রতিবেদক।

বিচার শুরুর আগে ওয়াংকে টেলিভিশনে দোষ স্বীকার করতে বাধ্য করা হয়েছিল। সবুজ পোলো শার্ট পরিহিত অবস্থায় এবং নতদৃষ্টিতে তিনি রাষ্ট্রীয় চীনা কেন্দ্রীয় টেলিভিশনকে জানান, তিনি অস্বাভাবিক চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সূত্র ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তারপর তিনি তার নিজস্ব বিষয়ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ যোগ করেছেন। ওয়াং বলেন, বিবেচ্য নিবন্ধটি শেয়ার বাজারের ওপর একটি চাঞ্চল্যকর এবং দায়িত্বহীন নিবন্ধ। কাইজিং-এর মতো একটি প্রকাশনাকে রাষ্ট্র লক্ষ্যবস্তু করতে পারে অনেকের কাছে এটি বিস্ময়কর ঠেকেছে। আক্রমণাত্মক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সরকারের অনুমোদনের আওতার মধ্যে খবর ও প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য পত্রিকাটির ব্যাপক সুনাম রয়েছে। পত্রিকাটিকে ফালুন গং আন্দোলনের মতো নিষিদ্ধ বিষয়ের ওপর লিখেও কোন বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। কাইজিং-এর প্রতিষ্ঠাতা হুশুলি বলেন, আমি জানি কিভাবে সীমারেখার পরিমাপ করতে হয়। ২০০৯-এ তিনি পত্রিকাটি ত্যাগ করেন। ২০০৫-এ তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘আমরা সীমারেখা অবধি যাই-এবং সীমারেখায় হয়ত ধাক্কাও দেই। কিন্তু আমরা কখনও সীমারেখা অতিক্রম করি না।’ তাই পত্রিকাটির একজন সাংবাদিকের এই প্রকাশ্য অবমাননা চীনের অভ্যন্তরে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সম্ভাবনা এবং কাইজিং-এর পরিচালনা বিষয়ে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৯৮ তে কমিউনিস্ট পার্টির প্রকাশনা ওয়ার্কার্স ডেইলির একজন সাবেক প্রচারণা লেখিকা মিস হু পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং শুরু থেকেই সেটি আক্রমণাত্মক সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। এর প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ নিবন্ধটি একটি আকাশচুম্বী শেয়ার মূল্যের রিয়েল স্টেট কোম্পানিকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল মুনাফার পরিমাণ বেশি করে দেখানোর জন্য। যার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। কোম্পানির ভিতরের কিছু ব্যক্তিকে আগেভাগে সতর্ক করে দেয়ায় তারা তাদের শেয়ার বাজারে দেছড়ে দিয়ে সক্ষম হন। চীনের সাংবাদিকতার ভবিষ্যতের উপর এক সম্পাদকীয়তে মিস হু লেখেন, ‘শুধু একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সিস্টেম কোথায় কোথায় ব্যর্থ হয়েছে সেটি উল্লেখ করেই আমরা আলোড়ন সৃষ্টি করেছি।’ সরকারী গবেষকরা তাৎক্ষণিকভাবে কাইজিং-এর সমালোচনা করে। ওয়াং স্টক এক্সচেঞ্জ এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সভাপতি এবং তিনি সাংহাই ও শেনঝেনে স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। তিনি এখন পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক। কাইজিং-এর মালিক ওই কাউন্সিলের গণমাধ্যম শাখা। এই কোম্পানি হংকং-এ তালিকাভুক্ত এবং এটি বিজ্ঞান বিপণন করে থাকে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস