২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বঞ্চিত নারী ও শিশু সুরক্ষায় সবাই এগিয়ে আসুন ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বঞ্চিত নারী ও শিশুদের সুরক্ষার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে সকল কাজ করা সম্ভব নয়। দেশের নারী জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এখনও বিভিন্নভাবে অবহেলিত। তাদের শিক্ষা, সামাজিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও নারী উন্নয়ন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নারী ও শিশুদের উন্নয়নে সরকার সর্বদা নিবেদিত এবং বেশকিছু সাফল্য অর্জন করেছে। এজন্য সকলকে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। না হলে আমরা কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব না।

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘নারী ও শিশু সবার আগে, বিপদে-দুর্যোগে প্রাধান্য পাবে।’ স্বাস্থ্যসচিব সৈয়দ মন্জরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে সরকারের খাবার, টিন দিয়ে বাসস্থান, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো হয়েছে। বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এ সময়ে সমাজে নারী নির্যাতন ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ রোধে মসজিদের ঈমামদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান ও সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে জাতীয়ভাবে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করেন। একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা, জনসংখ্যা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং বাল্য বিবাহ, কিশোরীর স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদনের জন্য মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলন, যে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করে দিয়েছিল, সেই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টা, মেধা ও শ্রমের কারণেই সম্ভব হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিবাহ একটি মারাত্মক ব্যাধি। ১৮ বছর বয়স হওয়ার পূর্বে মেয়েদের বিয়ে না দেয়ার বিদ্যমান আইন বেশি মাত্রায় লঙ্ঘন করা হয়ে থাকে। ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই দেশে শতকরা ৬৬ ভাগ মেয়ের বিয়ে হয়। এর এক-তৃতীয়াংশ ১৯ বছর বয়স হওয়ার আগেই গর্ভবতী অথবা মা হয়ে যান।

সহনীয় পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দারিদ্র্য, জঙ্গীবাদ এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়ে বিদ্যমান কুসংস্কার দূর করতে হবে। জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে নয়, প্রত্যেক মানুষকে শিক্ষিত, দক্ষ ও কর্মক্ষম করে তুলতে হবে। তৈরি করতে হবে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর তারুণ্য। দেশে মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশই কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী। যার একটি বড় অংশ দ্রুত প্রজননক্ষম বয়সে প্রবেশ করছে। এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই খাতে যথাযথ বিনিয়োগের এখনই সময়। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে এমডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিশু বিয়ে। কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ করলে একজন কিশোরী মা তার জীবনী শক্তি হারায়। তার শিক্ষা জীবন সংক্ষিপ্ত হয়, শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক অপরিপক্বতা দেখা দেয়। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধকল্পে সচেতনতা কর্মসূচীর পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর বিবাহ দেয়ার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে। তরুণ প্রজন্মের প্রয়োজনীয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে আগামীর উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সঙ্কটময় মুহূর্তের সম্মুখীন এসব নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন, সহিংসতা জোরপূর্বক বিয়ে এবং যৌন রোগের ফলে মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকে। কেননা তারা সেসময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সুযোগ সুাবিধা পায় না। জাতি সংঘের নারী বিষয়ক সংস্থার মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ ও জাতিগত সংঘাতের শিকার পৃথিবীর ৮০ শতাংশেরও বেশি জনগোষ্ঠী নারী-শিশু এবং তরুণ-তরুণী। তাই নারী ও শিশুর সার্বিক উন্নয়নে সকলকেই কম বেশি ভূমিকা রাখতে হবে।

পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক সেবা ও প্রচার সপ্তাহ সফল করার আহ্বান জানিয়ে মহাপরিচালক মোঃ নূর হোসেন তালুকদার বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর পরিকল্পিত পরিবার গঠনের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, বয়ঃসন্ধিকালে প্রজনন স্বাস্থ্য, নিরাপদ মাতৃত্ব, জেন্ডার বিষয়ক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে বিগত ছয় দশক ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সকল সক্ষম দম্পতিদের যদি পরিবার পরিকল্পনা, মা-শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির সহজ সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তবে কর্মসূচীতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ অনেকাংশেরই উত্তরণ করা সম্ভব। মহাপরিচালক আরও জানান, ২০১৫ সাল পর্যন্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ২০১৬ সাল পর্যন্ত মজুদ নিশ্চিত করার জন্য ক্রয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার জন্য বিগত ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে।

এ পর্যন্ত প্রায় নব্বই শতাংশ শূন্যপদ পূরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি শূন্যপদ পূরণের জন্য জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।