২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪শ’ পুলিশ মোতায়েন


মীর শাহ আলম, কুমিল্লা, ৯ জুলাই ॥ আসন্ন ঈদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে কুমিল্লায় মহাসড়কের ১০৪ কিলোমিটার অংশে বৃহস্পতিবার থেকে কুমিল্লা জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের সাড়ে ৪শ’ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মহাসড়কের যানজট নিরসন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ যাত্রী হয়রানিরোধ করে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে জেলার দাউদকান্দি থেকে ফেনীর মোহাম্মদ আলী পর্যন্ত পুলিশের ৫টি বিশেষ টিম কাজ করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার মোঃ শাহ্ আবিদ হোসেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন গড়ে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৩৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল আরও ব্যাপক হারে বাড়ছে। যানবাহনের এ চাপ সামাল দিয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে ফেনীর মোহাম্মদ আলী পর্যন্ত ১০৪ কিলোমিটার এলাকায় জেলা ও হাইওয়ের ৪৫০ জন পুলিশ সদস্য বৃহস্পতিবার থেকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি ৮ কিলোমিটার পর পর ক্লাস্টার ভাগ করে দিনে-রাতে পুলিশের ৫টি বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে। এসব টিমে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। মহাসড়কে যে কোন সমস্যার দ্রুত নিরসনে নিয়োজিত থাকবে মোটরসাইকেলযোগে পুলিশের ৬০টি ভ্রাম্যমাণ টিম। সড়ক দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজে ৬টি র‌্যাকার বিভিন্ন স্থানে মজুদ রাখা হয়েছে। হাইওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম পিপিএম জানান, এ মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের দাউদকান্দি বলদা খাল ব্রিজ, চান্দিনা, ক্যান্টনমেন্ট ও পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের ৪টি ওয়াচ্ টাওয়ার বসানো হয়েছে। এসব ওয়াচ্ টাওয়ার থেকে বাইনোকুলারের মাধ্যমে মহাসড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসহ ওয়্যারলেস ও মাইকের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যানজটসহ অন্যান্য সমস্যা নিরসন করা হচ্ছে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কসংশ্লিষ্ট কুমিল্লার ৮টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনারদেরকে (ভূমি) নিজ উপজেলা এলাকায় যানজট নিরসনে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যানজট নিরসনসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োজিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, রেলওয়ে ওভারপাস, বেলতলী, নন্দনপুর, আলেখারচর, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোঃ শাহ্ আবিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মহাসড়কের রেলওয়ে ওভারপাস সংলগ্ন এলাকা এক সপ্তাহ আগে সওজের পক্ষ থেকে মেরামত করে যানবাহন চলাচলের জন্য উপযোগী করে দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সড়কের ওই স্থানটি এখনও আগের মতোই রয়ে গেছে। ওই এলাকায় যানজটের মূল কারণ নির্মাণাধীন রেলওয়ে ওভারপাসের রাস্তার পাশের খোঁড়া ড্রেন, কর্দমাক্ত ও জীর্ণ-শীর্ণ সংকীর্ণ সড়ক। ফলে গাড়ির চাপ বাড়ার সঙ্গে ওই এলাকার যানজটও দীর্ঘ আকার ধারণ করে। এ সময় কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী আশরাফ, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর-এ-সার্কেল) ইমতিয়াজ মাহবুব, হাইওয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সোলায়মান, সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি প্রশান্ত পালসহ জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মহাসড়ক পরিদর্শনকালে উল্টোপথে চলার কারণে ১২টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। এছাড়া কাগজপত্র না থাকায় ১টি বাস ও ৯টি সিএনজি আটক করে পুলিশ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: