মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ আগস্ট ২০১৭, ৬ ভাদ্র ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

গাইবান্ধায় ব্যাংক ম্যানেজার ও ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রকাশিত : ৬ জুলাই ২০১৫
  • আদালত কর্মচারীকে মারপিট

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ৫ জুলাই ॥ গাইবান্ধা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মচারীকে মারপিট ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও ব্যাংক ম্যানেজারসহ ১০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। রবিবার গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম তাসনিকুল হক এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ২ জুলাই চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কমল চৌধুরীসহ তিন কর্মচারী বিচারক ও কর্মচারীদের বেতনের চেক নিয়ে সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখায় টাকা উত্তোলনের জন্য যান। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশের এএসআই আইয়ুব হোসেনকে ব্যাংকের চেকের টাকা উত্তোলনে উৎকোচ নিয়ে অনিয়ম করতে দেখা যায়। ফলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও আদালতের কর্মচারীরা তার ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আইয়ুব হোসেন সদর থানা ও ডিবি পুলিশকে টেলিফোনে অবগত করে ব্যাংকে ডাকাত পড়েছে বলে ভুয়া অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ আদালতের কর্মচারীদের ব্যাংক ম্যানেজারের কক্ষে আটক করে তাদের বেধড়ক মারপিট করে।

এ ঘটনায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আহত কর্মচারী কমল চৌধুরী বাদী হয়ে রবিবার গাইবান্ধার আমলী আদালতে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। আদালত বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই দোষী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেনÑ গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আহমেদ রাজিউর রহমান, সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখার ম্যানেজার আয়েশ উদ্দিন, ডিবি পুলিশের এসআই রাকিব হোসেন, ব্যাংকের নিরাপত্তার দায়িত্বে কর্তব্যরত পুলিশের এএসআই আইয়ুব হোসেন, কনস্টেবল সাদ্দাম, শাহিনুর, সাইমন, আব্দুল্লাহ, রফিক ও বাবলু।

মামলার বিবরণে আরও জানা যায়, এএসআই আইয়ুব হোসেনের ফোন পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আহমেদ রাজিউর রহমান ও ডিবির এসআই রাকিব হোসেন ফোর্স নিয়ে ব্যাংকে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মচারী কমল চৌধুরী, রেকর্ড কিপার মোজাম্মেল হক এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন টাইব্যুনালের জারিকারক ওয়াহেদুর রহমানকে ব্যাংক ম্যানেজারের কক্ষে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালায়। পরে তাদের গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওইদিন সকাল ১০টায় চেকগুলো ব্যাংকের কাউন্টারে জমা হলেও প্রচ- ভিড়ের কারণে টাকা উত্তোলন করতে বিকেল হয়ে যায়। ব্যাংকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই আইয়ুব হোসেন ব্যাংকের বাইরে গিয়ে কিছু গ্রাহকের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে নিজেই কাউন্টারে ঢুকে চেকের সিরিয়ালগুলো ওলটপালট করছিলেন। এরই একপর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মচারীরা ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। তখন এএসআই আইয়ুব হোসেন সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের কথায় কোন কর্ণপাত না করে তার নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী জমাকৃত চেকগুলো ওলটপালট করতেই থাকেন। এ সময় গ্রাহকদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত এএসআই ও ব্যাংক ম্যানেজার পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেন।

প্রকাশিত : ৬ জুলাই ২০১৫

০৬/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: