মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ জুলাই ২০১৭, ৭ শ্রাবণ ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

টকশো করে সমাধান হবে না, এটা সত্য, ছাত্রদের ভোগান্তি হচ্ছে

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৫
  • শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কলেজ ভর্তি নিয়ে দেশজুড়ে চলা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে করণীয় তুলে ধরতে আজ সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন র্শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। উদ্বিগ্ন ৩৬ লাখ শিক্ষার্থী-অভিভাবকের উদ্বেগ নিরসনে পদক্ষেপ তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। শনিবার দুপুরে নিজ বাসভবনে ভর্তি কমির্টি প্রধান শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আয়োজিত জরুরী বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে লাখ লাখ শিক্ষার্থী-অভিভাবকের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করলেও সচিব বৈঠকে বলেছেন, এটা তেমন কোন সমস্যা নয়। যেটুকু সমস্যা হয়েছে তা কেটে যাবে। সচিব উল্টো সঙ্কটের দায় চাপিয়েছেন মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের গুটি কয়েক কর্মকর্তা এবং কতিপয় সাংবাদিকের ওপর। ভর্তির কাজ বুয়েটকে দিয়ে করালেও বৈঠকে সঙ্কটের দায় চাপিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি করারও দাবি তুলেছেন।

জানা গেছে, হঠাৎ করে দেশজুড়ে অনলাইনে ভর্তি করাতে গিয়ে যে হযবরল সৃষ্টি হয়েছে তা শীঘ্রই কাটছে না। এখন পর্যন্ত কলেজ ভর্তির বাইরে আছে আড়াই লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। এসএসসি পাস করা এক লাখ ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদনের বাইরে রয়ে গেছে। এদের এখন চিন্তামুক্ত করতেও হিমশিম খাচ্ছে সকল শিক্ষা বোর্ড। এছাড়া ভর্তির আবেদন করেও প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর নাম নেই ভর্তির জন্য প্রকাশিত নির্বাচিতদের তালিকায়। সঙ্কটের এখানেই শেষ নয়। গত রবিবার রাতে তালিকা প্রকাশ করা হলেও প্রতিদিন বেরিয়ে আসছে তালিকার শত শত ভুল। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বোর্ডে গিয়ে জানাচ্ছেন তালিকায় ভুলের কারণে ভর্তি হতে পারছে না তারা। অভিভাবকরাও ধর্না দিচ্ছেন কর্মকর্তাদের কাছে। সকল বোর্ডে জমা পড়েছে অভিযোগের পাহাড়। প্রতিদিনই প্রতিবাদ হচ্ছে সকল বোর্ডে। এ অবস্থা সমাধানের পথ খুঁজতে বিভিন্ন মহলের আহ্বানের পর শুক্রবার রাতেই শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন মন্ত্রী। সচিবের সেলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মন্ত্রী রাত পৌনে ১১টার দিতে নিজেই যান সচিবের বাসায়। এরপর সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে শনিবার নিজ বাসভবনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেন মন্ত্রী। সে অনুযায়ী শনিবার শিক্ষামন্ত্রী তার বাসভবনে দুপুরে বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান, মন্ত্রণালয়ের সকল অতিরিক্ত সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিকী, মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কারিগরি বোর্ড ও অধিদফতরের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে ওই বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর এ বিষয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আশ্বস্ত করতেই রবিবার (আজ) সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত হয়। একাধিক চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ভর্তি নিয়ে জনমনে সরকারের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তা তুলে ধরে বলেন, দ্রুত মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। কর্মকর্তারা এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তবে ভর্তি নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় শিক্ষাসচিব এর দায় মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের গুটি কয়েক কর্মকর্তা এবং কতিপয় সাংবাদিকের উপর চাপিয়েছেন। সচিব বলেন, মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের কয়েক কর্মকর্তাকে সরাতে হবে, তারা আমার কথা শুনছেন না। মূলত তাদের কারণেই ভর্তি নিয়ে এই জটিলতা দেখা দিয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে সচিব আরও অভিযোগ করেছেন, মন্ত্রণালয়ের কয়েক কর্মকর্তা কতিপয় সাংবাদিকের কাছে তথ্য সরবরাহ করেন। আমার অফিস থেকে ফাইল সাংবাদিকদের দেয়া হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা সচিবকে উদ্দেশ করে শিক্ষামন্ত্রী এ সময় বলেছেন- ‘টক শো করে বা কাউকে দোষ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। এটা তো সত্যি যে মানুষের ভোগান্তি হয়রানি হচ্ছে। অনেক অভিযোগ আসছে। প্রতিদিন মিডিয়ায় তথ্যসহ খবর আসছে।

অপনি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, নিচের দিতে তাকালে সঙ্কট কাটবে না। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœœ হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে। আগে এ বিষয়টি দেখতে হবে। টক শো করে সবাইকে বোঝানো সম্ভব না। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলা দরকার। আর মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের কর্মকর্তাদের সরানোই সমস্যার সমাধান নয়। মন্ত্রীর অবস্থানের পর আজ সকাল ১০টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সঙ্কট কাটাতে আরও দুুটি নতুন তালিকা হচ্ছে ॥ এদিকে জানা গেছে, ভর্তি নিয়ে নৈরাজ্য সামাল দিতে নতুন করে আরও দুটি মেধা তালিকা তৈরি ও প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। আগের সিদ্ধান্ত অনুসারে দুটি মেধা তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে এখন মোট চারটি মেধা তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রথম মেধা তালিকা গত রবিবার প্রকাশ করা হয়। ত্রুটিপূর্ণ এ তালিকা নিয়ে এরই মধ্যে সারাদেশে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে। শনিবার এ তালিকা অনুসারে ভর্তির সময়সীমা শেষ হয়েছে। আজ আগামী দ্বিতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করার চেষ্টা চলছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, নতুন আরও দুটি মেধা তালিকা প্রণয়ন ও তা প্রকাশ করা হবে। ৬ জুলাই প্রকাশিতব্য দ্বিতীয় মেধা তালিকার শিক্ষার্থীরা ১০ জুলাই পর্যন্ত কলেজগুলোতে ভর্তি হতে পারবে। এ জন্য তাদের কোন বিলম্ব ফি দিতে হবে না।

চেয়ারম্যান আরও জানান, যেসব ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী প্রথম ও দ্বিতীয় মেধা তালিকায় ভর্তির সুযোগ পায়নি অথবা সুযোগ পেলেও কলেজ পছন্দ না হওয়ার কারণে ভর্তি হয়নি তাদের জন্য তৃতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। তারা ৯ ও ১০ জুলাই নতুন করে শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করতে পারবে। এই শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১১ জুলাই। ১২ জুলাই তৃতীয় মেধা তালিকার এই ছাত্রছাত্রীরা কলেজে ভর্তি হতে পারবে। এ জন্য তাদেরও কোন বিলম্ব ফি গুনতে হবে না। এই তিন ধাপের মেধা তালিকা প্রকাশ করার পরও কোন ভর্তিচ্ছুর সমস্যা থেকে থাকলে তাদের জন্য চতুর্থ মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। চতুর্থ তালিকার ভর্তিচ্ছুদের ১৩ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ৫০ টাকা ফি দিয়ে বোর্ডে আবেদন করতে হবে। এই আবেদনকারীদের ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ জুলাই। সর্বশেষ তৈরি এই মেধা তালিকার ভর্তিচ্ছুদের জন্য নির্ধারিত কলেজে ভর্তি হতে হবে ২৫ ও ২৬ জুলাই। কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে শেষ দফার এই ভর্তিচ্ছুদের অবশ্য ৫০ টাকা করে বিলম্ব ফি পরিশোধ করতে হবে।

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৫

০৫/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: