২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দক্ষিণাঞ্চলে প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ


স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে গত এক সপ্তাহ থেকে দক্ষিণাঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ। সোমবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সঙ্গে দফায় দফায় বিদ্যুত বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসটি বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত দিয়ে শুরু হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৯ শতাংশ কম। মার্চ মাসে মাত্র ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত দিয়ে মাস শেষ হয়। যা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৭.৮ শতাংশ কম। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিক ১৩২ মিলিমিটারের চেয়ে ৩ মিলিমিটার বেশি। তারপরেও গত এক সপ্তাহের প্রচ- তাপদাহে পুড়ছে এ অঞ্চলের মানুষ। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত নানা রোগ। সূত্রে আরও জানা গেছে, আবহাওয়াবিদরা ২০১৪ সালটি সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশকেও অপেক্ষাকৃত উষ্ণতম বছর হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে গত বছর দক্ষিণাঞ্চলে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০.৮ শতাংশ কম।

কাঠফাটা রোদে পুড়ছে উত্তরাঞ্চল

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, চৈত্র পেরিয়ে বৈশাখের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আবহাওয়া সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি তাপদাহে তেঁতে উঠেছে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চল। এ অঞ্চলে এখন বিরাজ করছে কাঠফাটা রোদ। সকাল থেকে সুর্যের তীর্যক বিচ্ছুরণ দুপুরের মধ্যে আগুন হাওয়ার মতো বিধছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রার পারদও।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহী অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েকদিন মৃদু তাপপ্রবাহ চললেও মঙ্গলবার থেকে তা মাঝারি তাপপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস। একদিন আগে সোমবার এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার থেকে রাজশাহী অঞ্চলে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আকাশে মেঘ না জমলে রাজশাহী অঞ্চলে আরও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে খরতাপে পুড়ছে রাজশাহীসহ গোটা উত্তরাঞ্চল। এতে খেটে খাওয়া মানুষসহ প্রাণীকূলের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে। দুপুরের দিকে সূর্যের তীব্র তাপে চোখ মুখ ত্বক পুড়ে যাবার উপক্রম হয়ে উঠছে। একটু ঠাণ্ডার পরশ পাবার আশায় মানুষ গাছ তলায় আশ্রয় নিচ্ছে। ডাব, শরবত, আইসক্রিম, রসালো ফলের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে।