১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ক্যাম্পাস ভাস্কর্য ॥ ৭১-এর-গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ভাস্কর্য ‘৭১-এর-গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি’। ভাস্কর্যটি অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে নতুন ভবনের সামনে। ভাস্কর্যটির সামনে পেছনে আছে দুইটি অংশ। অত্যন্ত সুনিপুণ হাতে ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন শিল্পী ভাস্কর রাসা। এই শিল্পকর্মে তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন সহকারী ভাস্কর রাজীব সিদ্দিকী, রুমি সিদ্দিকী, ইব্রাহীম খলিলুর রহমান ও মিয়া মালেক রেদোয়ান। ভাস্কর্যের এক অংশে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ১৯৭১ সালে ২৫ এ মার্চ রাতে ঢাকায় পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরচিত গণহত্যার দৃশ্য। নারী শিশুসহ বিভিন্ন মানুষের লাশের ওপর লাশের স্তূপ। কাক, কুকুর-শকুনে ঠুকরে ঠুকরে খাচ্ছে মরদেহ। যে নারীকে কখনো চার দেয়ালের বাইরে আসতে দেখা যায় না তাকেও বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ভাগাড়ে। তাদের গায়ে দেখা যায় নরপিচাসদের নির্যাতনের চিত্র। গণহত্যায় নিহত সে সমস্ত ব্যক্তিবর্গের স্মৃতি রক্ষার্থে ভাস্কর্যের এক অংশে নির্মাণ করা হয় ৭১ এর গণহত্যা। এবং ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জ্বালাময়ী ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে’। তখন থেকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে দা, ছুরি, বটি, বল্লমসহ নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সজ্জিত হয় নারী-শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবীরা। ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যার প্রতিশোধ নিতে ও দেশকে শত্রুমুক্ত করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। ভাস্কর্যের আপার অংশে তারই স্মৃতি বিজড়িত চিত্র ফুটিয়ে তুলতে নির্মাণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। বর্তমান ভাস্কর্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সোভা বর্ধনের এক অদ্বিতীয় শিল্পকর্ম। এর চারদিকে আছে পানির ফোয়ারা। পানির ফোয়ারা ছাড়লে নয়নাভিরাম এক দৃশ্যের অবতারণা হয়। রাতের বেলায় রঙ্গিন বাতির আলোয় এর রূপ যেন আরও চমৎকার হয়ে ওঠে। সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম খান ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ এর শুভ উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালেেয়র ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর আনাগোনায় সারাক্ষণ মুখরিত থাকে এই চত্বর। নানা ধরনের উৎব অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও কাজ করে চত্বরটি। মাঝে মাঝে পর্যাটকদের পদাচরাণায় আরও বিকশিত হয় এর সোভা। ভাস্কর্যটি ঘিরে আছে ২টি শিক্ষাভবনে প্রায় ১২টি বিভাগ। ক্লাসের ফাঁকে অবসর সময় কাটাতে এ সমস্ত বিভাগর শিক্ষার্থীরা এসে এখানে ভিড় জমায়। চলে আড্ডা গল্পও। কেউ আবার ফেসবুক চালাতে, বই পড়াতে মশগুল থাকে। সামরিক আইন বলবৎ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সূচনা, সামরিক দমন, যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তা-বলীলার মতো একাধিক অস্থির ঘটনার সাক্ষী থাকে এই স্মারক ‘৭১-এর-গণহত্যা ও মুক্তি যুদ্ধের প্রস্তুতি’ ভাস্কর্য।

হাসান ইমাম সাগর