ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বিশ্বকাপে ভালো পারফর্ম করার লক্ষ্য শরিফুলের

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৫৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

বিশ্বকাপে ভালো পারফর্ম করার লক্ষ্য শরিফুলের

কৃতী পেসার শরিফুল ইসলাম

গত এক বছরে বাংলাদেশ দলের হয়ে তিন ফরম্যাটেই দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। পেস বিভাগের অপরিহার্য একজন হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে শরিফুল মনে করেন, যারা জাতীয় দলের হয়ে খেলেন সকলেই নাম্বার ওয়ান বলেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুযোগ করে নিয়েছেন। শরিফুলের দাবি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পুরো পেস বিভাগই বেশ ভালো অবস্থায় আছে। এজন্যই পেসারদের কাছে সবার অনেক বেশি চাওয়া। পারফর্ম্যান্সের কারণে শরিফুলের ওপর প্রত্যাশা সবার বেশিই।

এজন্যই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবেন বিশ^কাপেও ভালো করতে। তার আশা পুরো পেস বিভাগই ভালো অবস্থানটা ধরে রেখে পারফর্ম করবে। চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও (ডিপিএল) ভালো করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মিরপুরে ম্যাচশেষে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) থেকে এবার লক্ষেèৗ সুপার জায়ান্টস থেকে প্রস্তাব পেয়েও ছাড়পত্র পাওয়ার সময়সীমা কম থাকায় আর যাওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন শরিফুল।
গত বছর দেশের সেরা বোলার ছিলেন শরিফুল তিন ফরম্যাটের পারফর্ম্যান্সে। আর সেজন্যই লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার আইপিএল থেকেও ডাক পেয়েছেন। কিন্তু বিশ^কাপ ও বিশ^কাপ পূর্ববর্তী বাংলাদেশ দলের ব্যস্ততা থাকায় তাকে ছাড়পত্র দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাই খেলতে যাওয়া হয়নি শরিফুলের। এ বিষয়ে তরুণ এ বাঁহাতি পেসার বলেছেন, ‘লক্ষেèৗ থেকে মেসেজ দিয়েছিল, তারা আমাকে চাচ্ছিল। কিন্তু এনওসির সময়টা খুবই কম ছিল তার জন্য তারা পরে আর প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

যদি পুরো এনওসিটা দিত বিসিবি তাহলে হয়তো যেতাম। যেহেতু আমাদের জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ রয়েছে সেক্ষেত্রে চিন্তা করে এনওসিটা ওইভাবে দেওয়া হয়েছে।’ আপাতত ঘরোয়া আসর ডিপিএল নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শরিফুল। বৃহস্পতিবার অদম্য আবাহনীর হয়ে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে বল হাতে ৪ উইকেট শিকার করে নিজের আগুন উগড়ে দিয়েছেন বাঁ-হাতি এই পেসার।

পারফর্ম্যান্সের ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে ভবিষ্যতে আইপিএল খেলার সুযোগ আসবে বলে মনে করেন তিনি। শরিফুল বলেন, ‘ইচ্ছা তো আছে। সুস্থ থাকলে যেভাবে যাচ্ছে এভাবে গেলে একদিন খেলব আইপিএল। যদি তখন কোনো খেলা না থাকে। আশা থাকবে ইচ্ছাও আছে, হয়তো সুযোগ পেলে ভালো কিছু করব ইনশাআল্লাহ।’ 

শরিফুলকে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ পেস বিভাগের অন্যতম সেরা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ ৩ ফরম্যাটেই তিনি খেলে যাচ্ছেন। কিন্তু নিজেকে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘নাম্বার ওয়ান পেসার বললে ভুল হবে। দেশে আমরা যত জন ফাস্ট বোলার আছি সবাই নাম্বার ওয়ান। যে যখন খেলে, যার যখন সময় আসে সে-ই পারফর্ম করে। আমরা যারা খেলি, আমি মনে করি সবাই নাম্বার ওয়ান। নাম্বার ওয়ান না হলে আমরা জাতীয় দলে হয়তো জায়গা পেতাম না।’ এই মুহূর্তে পেস বিভাগ দারুণ করছে।

যারাই সুযোগ পাচ্ছেন নিজেকে প্রমাণ করছেন। তাই পেস আক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশ দলে কোনো চিন্তা নেই। দলের পেস বিভাগ নিয়ে শরিফুল বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের পেস ইউনিটটা ভালো। এখন আমরা সবাই ভালো অবস্থায় আছি। এই অবস্থাটা ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করব বিশ্বকাপে যেন ভালো পারফর্ম হয়।’ বিশ^কাপে শরিফুলের ওপর প্রত্যাশা কিছুটা বেশিই থাকবে। তিনি নিজেও ভালো করতে উন্মুখ হয়ে আছেন। শরিফুল বলেছেন, ‘পুরো দেশই চায় একটা ট্রফি জিততে। চাপের কিছু না, হয়ত সবার চাওয়া বেশি। আমি আমার দিক থেকে চেষ্টা করব। 
সাফল্য হয়ত একদিন আসবে একদিন আসবে না। সবাই চায় ভালো কিছু করতে। আমরাও ভালো কিছু করতে চাইব। আল্লাহ সহায় থাকলে ভালো হবে। আগ্রাসন মাঠের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে। বাইরে আসে না। সুজন স্যার অনেক সাপোর্ট করে। সেই বিপিএল থেকে এক দলে। উনার সঙ্গে কাজ করে মজা পাচ্ছি। নতুন নতুন জিনিস শেখায়। সেক্ষেত্রে আমি ভাগ্যবান।’

×