ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

 রংপুর রাইডার্স ৫ উইকেটে জয়ী

মেহেদি ঝড়ে উড়ে গেল ঢাকা

মো. মামুন রশীদ

প্রকাশিত: ০০:২৮, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩

মেহেদি ঝড়ে উড়ে গেল ঢাকা

ম্যাচসেরা রংপুর রাইডার্সের শেখ মেহেদি হাসান

বিদায়ঘণ্টা বেজেই গেছে। ক্ষীণ যে সম্ভাবনা টিকে আছে সেটি শুধু কাগজে-কলমে। নিজেদের নবম ম্যাচে সপ্তম হার দেখেছে ঢাকা ডমিনেটর্স। চলতি নবম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি২০ আসরে প্রথমবার রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি হয়েও ৫ উইকেটে হেরেছে তারা। সোমবার দুপুরে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাদের এই পরাজয় এসেছে রংপুরের অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসানের চৌকষ নৈপুণ্যে।

আগে ব্যাট করে আফগানিস্তানের তারকা উসমান গণির ৫৫ বলে ৭৩ রানের হার না মানা ইনিংসে ঢাকা ৫ উইকেটে ১৪৪ রান তোলে। জবাবে শেখ মেহেদির মাত্র ৪৩ বলে করা ৭২ রানের বিস্ফোরক ইনিংসের সুবাদে ১ ওভার বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে ১৪৬ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে রংপুর। এটি অষ্টম ম্যাচে পঞ্চম জয় রংপুরের। ১০ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফে ওঠার রেসে ভালেভাবেই টিকে থাকল তারা। আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও রংপুর আরেকটি করে ম্যাচ জিতলে অথবা নিজেরা যে কোনো ম্যাচ হারা মাত্র রাউন্ড রবিন লিগ পর্ব থেকে ছিটকে যাবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও ঢাকা। 
টস জিতে ঢাকাকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় রংপুর। দুই দলের এটিই চলতি আসরে প্রথম সাক্ষাৎ। তাই জয় পেতে উন্মুখ হয়েই নামে উভয় দল। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে বেশ বিপাকেই পড়ে ঢাকা। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ৩ উইকেটে ৩০ রান তুলতে পেরেছে তারা। শেখ মেহেদির অফস্পিন ও আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের পেস আক্রমণের সামনে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ঢাকা। মিজানুর রহমান (৫), সৌম্য সরকার (১১) ও অ্যালেক্স ব্লেক (৪) এ দুজনের দ্বিমুখী আক্রমণে সাজঘরে ফেরেন। তবে চতুর্থ উইকেটে গণি ও মোহাম্মদ মিঠুন ৪১ রানের জুটি গড়ে বিপদ সামলেছেন।

গণি কিছুটা আক্রমণাত্মক ও মিঠুন দেখেশুনে খেলে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। তবে ১২তম ওভারের শুরুতেই মিঠুন ১৫ বলে ২ চারে ১৪ রান করে রাকিবুল হাসানের বাঁহাতি স্পিনে বোল্ড হয়ে যান। এরপরও ঢাকাকে ভালো একটি সংগ্রহে পৌঁছে দিয়েছেন গণি ও অধিনায়ক নাসির হোসেন। তাদের ৪৫ বলে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি ভেঙেছে রানআউটে। ১৯তম ওভারে নাসির ২২ বলে ৩ চার, ১ ছয়ে ২৯ রান করে আউট হয়ে যান। তবে গণি শেষ পর্যন্ত থেকেছেন। ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি হাঁকিয়ে তিনি ৫৫ বলে ৭ চার, ৩ ছক্কায় ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় ঢাকা। ওমরজাই ৪ ওভারে ২৭ রানে ২টি ও মেহেদি ৩ ওভারে মাত্র ১৩ রানে ১টি উইকেট নেন। কিন্তু পাকিস্তানি পেসার হারিস রউফ হয়েছেন তুলোধুনো, ৪ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থেকেছেন তিনি। জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার নাইম শেখের (০) উইকেট হারায় রংপুর। কিন্তু ওয়ানডাউনে নেমে চড়াও হন মেহেদি। রনি তালুকদারের সঙ্গে ৪২ বলে ৬৩ রানের ঝড়োগতির জুটি গড়ে দলকে উড়ন্ত সূচনা দেন তিনি।

রনি ২৮ বলে ৫ চারে ২৯ রানে আউট হলেও মেহেদি থামেননি। যদিও অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক (৬) ও অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান (৬) দ্রুতই ফিরে গেছেন, কিন্তু মেহেদি ক্যারিয়ারের সপ্তম ও চলতি আসরের প্রথম অর্ধশতক পান মাত্র ৩১ বলে। তাতেই জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে রংপুর। ১৭তম ওভারে ৪২ বলে ৬ চার, ৫ ছক্কায় ৭২ রানে আলআমিন হোসেনের পেসে এলবিডব্লিউ হন মেহেদি। তখন ২১ বলে মাত্র ২২ রান দরকার রংপুরের জিততে।

সেই কাজটা ৬ বল বাকি থাকতেই সারেন মোহাম্মদ নওয়াজ ও ওমরজাই। সালমান ইরশাদের করা ১৯তম ওভারে ১৫ রান তুলে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন দুজন। নওয়াজ ১৫ বলে ১ চার, ১ ছক্কায় ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন। সালমানই সফল বোলার ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে। অথচ দুর্দান্ত বোলিং করা ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ ৩ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন।
স্কোর ॥ ঢাকা ডমিনেটর্স ইনিংস- ১৪৪/৫; ২০ ওভার (গণি ৭৩*, নাসির ২৯, ওমরজাই ২/২৭, মেহেদি ১/১৩)। রংপুর রাইডার্স ইনিংস- ১৪৬/৫; ১৯ ওভার (মেহেদি ৭২, রনি ২৯, নওয়াজ ১৭*; সালমান ২/৩৬, সৌম্য ১/১৯)। ফল ॥ রংপুর রাইডার্স ৫ উইকেটে জয়ী। 
ম্যাচসেরা ॥ শেখ মেহেদি হাসান (রংপুর রাইডার্স)।

×