ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

ভারতের বিপক্ষে ১ রানের পরাজয় প্রসঙ্গে সাকিব

এক শ’ বার এমন সুযোগ আসলে বাংলাদেশই জিতবে

প্রকাশিত: ০৬:২৬, ৩ এপ্রিল ২০১৬

এক শ’ বার এমন সুযোগ আসলে বাংলাদেশই জিতবে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্রিকেট চরম অনিশ্চয়তার খেলা! দুয়েকটি বলেই ফলাফল পাল্টে যেতে পারে। সেই নির্মম পরিস্থিতির শিকার এবার টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধেই হয়েছে বাংলাদেশ দলের। ৩ বলে মাত্র ২ রানই করতে পারেনি, উল্টো টানা ৩ উইকেট হারিয়ে ১ রানে পরাজিত হয়েছে। দুঃসহ সেই বেদনাটা এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে পুরো বাংলাদেশকে। এমনকি ক্রিকেটাররাও ভুলতে পারছেন না সেই পরাজয়ের দুঃখটা। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান অবশ্য দাবি করলেন এমন পরিস্থিতি পরবর্তীতে যদি একশ’ বার আসে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশই জিতবে। কারণ নির্মম ওই পরাজয়টা বড় শিক্ষা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে। শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের ব্র্যান্ড এ্যাম্বাসেডর হন সাকিব। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন তিনি। তবে সবকিছু ভুলে গিয়ে এখন আসন্ন ক্রিকেট যুদ্ধ নিয়েই ভাবছেন এ অলরাউন্ডার। আগামী ৯ এপ্রিল শুরু হবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) টি২০ আসর। এবারও কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হয়ে খেলবেন সাকিব। সেখানে ভাল করার দিকেই মনোযোগ এখন সাকিবের। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাচ্ছে আজই। মাঝে মাত্র ৫ দিন। এরপরই শুরু হবে নবম আইপিএল। ৯ এপ্রিল শুরু হলেও পরদিন প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে কেকেআর। সাকিবেরও আবার ক্রিকেট মাঠে পদার্পণ শুরু হয়ে যাবে সেদিন থেকে। বিশ্বকাপে ভাল-খারাপ যেসব অভিজ্ঞতাই হয়েছে সেসব ভুলে সাকিব এখন মনোযোগ দিতে চান আইপিএলে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে আইপিএল। তাই অতীত নিয়ে খুব একটা ভাবছি না। আমি পেশাদার ক্রিকেটার। যেখানেই খেলি নিজের সর্বোচ্চ নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্যই খেলি।’ তবে ভুলতে চাইলেও ভারতের বিরুদ্ধে সুপার টেনের গ্রুপ পর্বে মাত্র ১ রানে পরাজয়ের আক্ষেপটা কিভাবে ঘুচবে? ভারতের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোন ম্যাচ না জেতা পর্যন্ত দুঃখটা থাকবেই। এ বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘কেন ম্যাচটা হেরেছি তা আমার জানা নেই। এই প্রশ্নের কোন উত্তর খুঁজে পাই না। ম্যাচ হারার পর দলের ড্রেসিং রুমেও একই অবস্থা বিরাজ করছিল। সবাই খুঁজছিল এই প্রশ্নের উত্তর; কেন আমরা হারলাম? তবে আমার মনে হয়, নতুন করে ১০০ বার যদি এই অবস্থায় পড়ি তাহলে আমরাই ম্যাচ জিতব। এটা নিয়ে নিজেকে এখন সান্ত¡না দেয়া ছাড়া কোন পথ নেই। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অবস্থায় না পড়ি, সেটাই হবে আমাদের জন্য বড় একটি শিক্ষা।’ ভারতের বিরুদ্ধে জিততে পারলেই সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতো। কিন্তু ওই হারের পরই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় দলের। সে হতাশায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বাজে ম্যাচটা খেলে বাংলাদেশ দল। কিন্তু দলের নৈপুণ্যে খুব একটা হতাশ না সাকিব। কিন্তু ভাল খেলেও কোন ম্যাচ জিততে না পারার একটি অতৃপ্তি আছে দলের মধ্যে। তিনি এ বিষয়ে বলেন, ‘টি২০ বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জটা ছিল মূল পর্বে (সুপার টেন) ওঠা। তাতে আমরা ভালভাবেই সফল হয়েছি। তারপর মূল পর্বে ভাল ক্রিকেট খেলেছি। কিন্তু ম্যাচ জিততে পারিনি একটিও। তাই নিজের কাছেই এ নিয়ে অতৃপ্তি রয়েছে।’ টি২০ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া কোন বড় দলকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। সেটা প্রথম বিশ্বকাপে (২০০৭) জিতেছিল বাংলাদেশ। সাকিব বলেন, ‘২০০৭ সালের পর টি২০ বিশ্বকাপে এখনও বড় কোন দলকে হারাতে পারিনি। আমাদের প্রাপ্তি অনেক। কিন্তু ম্যাচ না জেতাটাই সবচেয়ে বড় অতৃপ্তি। টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অন্যতম আলোড়ন সৃষ্টিকারী দল, এতে কোন সন্দেহ নেই।’