ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

আলোচনা সভায় ফখরুল

আমাদের আন্দোলন শীঘ্রই বেগবান হবে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:২১, ১২ জুন ২০২৪

আমাদের আন্দোলন শীঘ্রই বেগবান হবে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যে যেখানে আছেন আসুন সবাই মিলে একসঙ্গে লড়াই করে আমাদের দেশ রক্ষা করি, আমাদের সংবিধান ও দেশের মানুষকে রক্ষা করি। বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকট উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের লেবাসে রাজনীতির কাঠামো শেষ করে একদলীয় শাসন তৈরি করেছে সরকার। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধান শত্রু হচ্ছে বর্তমান সরকার। এ সরকার দেশের সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছে। তাই আমাদের সুর একটাই, এই সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য আন্দোলন চলছে, আন্দোলন চলবে।

শীঘ্রই আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান হবে। আমরা সব দল একত্র হতে পেরেছি। কীভাবে এই সরকারকে সরাতে পারি, কীভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পারি-সেই লক্ষ্যেই আমরা সংগ্রাম করছি।
সমমনা সব দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, আসুন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করি। এ লড়াইয়ে তরুণ ও যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে।

কারণ, এই সংগ্রাম বিএনপির একার নয়, এই সংগ্রাম দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করার সংগ্রাম। তিনি বলেন, মানুষ জেগে উঠেছে। আমরা হয়ত তাদের জেগে ওঠাকে কাজে লাগিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারিনি। তবে নতুন সূর্যোদয় হবেই, সেখানে অবশ্যই আমাদের পৌঁছাতে হবে।
ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা পূরণে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, মানুষকে কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, সংবাদপত্রকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং এটাই ছিল জিয়াউর রহমানের ক্যারিশমা। 
ফখরুল বলেন, আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের ইতোমধ্যে অনেক অর্জন হয়েছে। সবচেয়ে বড় অর্জন হল, ডান-বাম চিন্তার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে মিলিয়ে আমরা আন্দোলনে শামিল হয়েছি। আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছি, সে আন্দোলন এখনো চলছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একাট্টা হয়ে আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করেছি। 
ফখরুল বলেন, আমরা ৩১ দফা দিয়েছি, সেই ৩১ দফাতে দেশের প্রত্যেকটি মানুষের কথা বলা আছে, রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তনের কথা বলা আছে, অর্থনীতি কাঠামো পরিবর্তনের কথা বলা আছে। এই ৩১ দফা এখন জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। জনগণ একটা জিনিসে স্থির সেটা হচ্ছে, তারা এ সরকারকে চায় না। এটা আমাদেরকে বিশ্বাস করতে হবে।

তাই আমরা কি করে জনগণের ইচ্ছাকে আমরা ইতিবাচক কাজে নিয়ে বর্তমান সরকারকে পরাজিত করতে পারি-সেই কাজটি আমাদের করতে হবে। ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের লেবাসে রাজনীতির কাঠামো শেষ করে দিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে বর্তমান সরকার। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমান্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পার্টির চেয়ারম্যান নুরুল হক নুর প্রমুখ।

কৃষক দলের ৩ নেতা বহিষ্কার ॥ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষক দল। বুধবার সংগঠনটির দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) ও কুষ্টিয়া জেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি এস এম গোলাম কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন মোকা এবং সাবেক সহ-সভাপতি বাবলা আমিনকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ১২ জুন, বৃহস্পতিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

×