ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

আইএমএফের ঋণ

-

প্রকাশিত: ২০:২৬, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আইএমএফের ঋণ

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। এই ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক এলাকাসমূহ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং বর্তমানে বিশ্বমন্দার মুখেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে যে ঋণ সহায়তা চেয়েছে তা তিন ধরনের। এগুলো হলোÑ বর্ধিত ঋণ সহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) ও রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)। 
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে একটি দল গত বছরের ৯ নভেম্বর ঢাকা সফর করেন। আর্থিক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বৈঠকে মিলিত হন। সেটিরই সুফল মিলেছে সম্প্রতি। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশ কর্তৃক আইএমএফ থেকে ঋণ সহায়তা পাওয়া।

আইএমএফ বর্ধিত ঋণ সহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) নতুন উদ্যোগে- সহনশীলতা ও টেকসই সহায়তার তহবিল (আরএসটিএফ) কর্মসূচি থেকে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছে। উল্লেখ্য, শেষোক্ত ঋণের অধীনে সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোকে অর্থায়ন করে থাকে। আইএমএফের কাছে ঋণ সহায়তার প্রত্যাশা নিয়ে লিখিত চিঠিতে বাংলাদেশ আরএসটিএফের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশ যে জলবায়ু পরিবর্তনের সমূহ ঝুঁকিতে রয়েছে, সর্বশেষ ২৪ অক্টোবর উপকূলে অসময়ে আঘাত হানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিত্রাং তা দেখিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, এক দশক আগে আইএমএফের ইসিএফ থেকে সাত কিস্তিতে একশ’ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি ও জাইকার কাছেও ঋণ পাওয়ার উদ্যোগ নেবে জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নসহ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য।
কোভিড-১৯ অতিমারিতে আক্রান্ত বিশ্ব বছর দুয়েক পরেই পড়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কবলে। ফলে, একদিকে হু হু করে বেড়েছে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম, অন্যদিকে তজ্জনিত কারণে অনিবার্য বেড়েছে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম। বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ সরবরাহ শৃঙ্খল প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে অথবা বিপর্যস্ত। ফলে, বিশ্বের দেশে দেশে দেখা দিয়েছে মন্দাবস্থা ও মূল্যস্ফীতি। ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রায় অচলাবস্থা। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছে, গোটা বিশ্বে জাতীয় প্রবৃদ্ধি কমছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বলেছে, অনেক দেশেই বিশেষ করে আফ্রিকাসহ ৩৬টি দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। 
বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বেড়েছে আমদানি ব্যয়। অন্যদিকে কমেছে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স। ডলারের দাম লাগামহীন হওয়ায় টান পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। ফলে, জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নে ঋণ সহায়তা নিতেই হচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি থেকে। বাংলাদেশকে ঋণ সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাংকও। সেক্ষেত্রে আইএমএফের ঋণ সহায়তা প্রাপ্তি দেশের জন্য একটি অর্জন অবশ্যই। তবে অতীতে দেখা গেছে, ঋণদাতাদের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের বঞ্চনা ও কষ্টের পরিমাণ বেড়েছে। তাই এবার এ বিষয়ে সতর্কতা বাঞ্ছনীয়।

×