ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ার ত্রাণবাহী জাহাজ আসছে আজ

প্রকাশিত: ০৪:০২, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ার ত্রাণবাহী জাহাজ আসছে আজ

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ার ত্রাণবাহী জাহাজ সোমবার বাংলাদেশে আসছে। কুতুবদিয়ায় এই জাহাজ পৌঁছলে আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে ত্রাণ সরবরাহ করা হবে। সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়া সরকার মিয়ানমার ও বাংলাদেশে একই জাহাজযোগে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। এই জাহাজটি গত ৯ ফেব্রুয়ারি ইয়াঙ্গুনের কাছে থিলোয়া বন্দরে পৌঁছে। পরদিন ১০ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি পণ্য খালাস করে সেখান থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়। মিয়ানমারে জাহাজের অর্ধেক ত্রাণসামগ্রী নামিয়ে দিয়ে জাহাজটি বাংলাদেশে আসছে। আজ সোমবার কুতুবদিয়ায় জাহাজটি ভিড়বে। সেখান থেকে ত্রাণসামগ্রী ছোট জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হবে। থিলোয়া বন্দর থেকে কুতুবদিয়ায় পৌঁছাতে জাহাজটির সময় লাগছে তিন দিন। তবে বাংলাদেশ সরকার সরাসরি এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবে না বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সংস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মাঝে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। মালয়েশিয়ার মুসলিম সংগঠনগুলোর পাশাপাশি দেশীয় এবং বিদেশী ত্রাণ সংগঠনগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। আর এই ত্রাণ পাঠানোর উদ্যোগ নেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। গত ৩ ফেব্রুয়ারি এই ত্রাণবাহী জাহাজ মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারের অভিমুখে রওনা দেয়। এই জাহাজটির নাম নটিক্যাল আলিয়া। জাহাজে খাবার ও ওষুধসহ অন্যান্য প্রায় ২ হাজার ২০০ টন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। ত্রাণসামগ্রীর অর্ধেক মিয়ানমারে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর জাহাজটি তিনদিনের যাত্রায় বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়। মালয়েশিয়ার জাহাজটি থিলোয়া বন্দরে পৌঁছানোর পরেই সেখানের বৌদ্ধভিক্ষুরা ত্রাণ পাঠানোর বিক্ষোভ প্রতিবাদ জানিয়েছিল। বৌদ্ধভিক্ষুরা বিক্ষোভের সময় বলেছিলেন, মিয়ানমারে কোনো রোহিঙ্গা নেই। আমরা সকলকেই জানাতে চাই, এখানে কোন রোহিঙ্গা থাকে না। ত্রাণসামগ্রী যেন মিয়ানমারে না নামানো হয়, সে দাবিও জানিয়েছিল তারা। তবে মিয়ানমার সরকার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জাহাজ থেকে ত্রাণসামগ্রী নামানোর ব্যবস্থা করে। মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর দমনপীড়ন নিয়ে প্রকাশ্যেই কড়া সমালোচনা করে এসেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নজিব রাজাক। মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে আউং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর দমনপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সহিংসতার বেশির ভাগ খবরই অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেÑ মিয়ানমার সরকার। তাছাড়া রাখাইন রাজ্যে সংঘাতও ওই রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মিয়ানমার সরকার অভিহিত করেছে। গত বছর ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের পুলিশ ফাঁড়িতে হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চরম নিপীড়ন শুরু করেছেসেনাবাহিনী। শত শত রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণ করা হয়েছে বহু নারীকে। জীবন বাঁচাতে হাজারো রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার বর্তমানে নিবন্ধিত এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ শরণার্থীর দেখভাল করছে। মালয়েশিয়ার সরকারী হিসেবে, তাদের শরণার্থীদের মধ্যে ৫৫ হাজার ৫৬৫ জনই রোহিঙ্গা মুসলিম। মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদি এক বিবৃতিতে বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাজ দেওয়ার প্রকল্প আগামী মার্চ মাস থেকে শুরু হবে। এর আওতায় ৩০০ রোহিঙ্গাকে কৃষি ও উৎপাদন খাতগুলোতে কাজ দেওয়া হবে। এদিকে ৯ অক্টোবরের পর থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। আর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ৩০ হাজার শরণার্থী রয়েছেন। এর আগে থেকেই আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কক্সবাজার থেকে সরিয়ে নিয়ে হাতিয়া উপজেলার ঠেঙ্গারচরে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।