ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

ঘরে বসে সরকারি চাকরির প্রস্তুতির ১০টি পদ্ধতি

চাকরি বাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৩, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ঘরে বসে সরকারি চাকরির প্রস্তুতির ১০টি পদ্ধতি

আমাদের অনেকের জীবনের লক্ষ্য থাকে একটা ভালো সরকারি চাকরি

আমাদের অনেকের জীবনের লক্ষ্য থাকে একটা ভালো সরকারি চাকরি। সুরক্ষিত, সরকারি সুযোগ-সুবিধা, ভালো বেতন, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে মানুষ সরকারি চাকরির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকে। সরকারি চাকরি চাওয়ার পেছনে কারণ যাই থাক না কেন পাওয়ার জন্য রয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষা। আজকের আলোচনার বিষয় হলো ঘরে বসে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেয়ার ৭টি পদ্ধতি।
সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রথমেই প্রয়োজন সেই চাকরি ও তার পরীক্ষা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা। চাকরির পরীক্ষা বিভিন্ন ধরনের হয় এবং তার যোগ্যতা ও প্রশ্ন নানা ধরনের হয়ে থাকে। তাই প্রস্তুতি শুরুর আগে আপনার যোগ্যতায় আপনি কোন কোন পরীক্ষার যোগ্য সেটা ভালো করে দেখে নিন।
যোগ্যতা বা ছঁধষরভরপধঃরড়হ
বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় অষ্টম শ্রেণি পাস থেকে শুরু করে স্নাতক এই ধরনের বিভিন্ন যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। তবে স্নাতক যোগ্যতা থাকলে আপনি অধিকাংশ পরীক্ষার জন্য যোগ্য। তবে প্রতিরক্ষা বিভাগের বিভিন্ন চাকরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে কিছু শারীরিক যোগ্যতার পরীক্ষাও দিতে হয়। কোন চাকরিতে কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন তা বিজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকে।
চাকরির খোঁজ পাবেন কিভাবে
বর্তমানের ইন্টারনেটের যুগে এটা খুব একটা মুশকিল কাজ না। প্রায় সমস্ত চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি সেই সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়, সেখান থেকেই যে কোনো নতুন বিজ্ঞপ্তির খবর মিলবে। এ ছাড়া সরকারি চাকরির খোঁজ বিভিন্ন সাপ্তাহিক পত্রিকা রয়েছে সেখান থেকেও পাওয়া যায়। বর্তমানে চাকরির খোঁজ দেয়ার জন্য অনেক ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, সেখান থেকেও যে কোনো নতুন চাকরির খবর পাওয়া যায়। তবে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে সেই সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্যটি যাচাই করে নেওয়া উচিত।
কিভাবে প্রস্তুতি নেবেন
সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সফল হতে প্রয়োজন সঠিক পথে কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য। সরকারি চাকরিতে পদ সীমিত ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রচুর, তাই স্বাভাবিকভাবেই কঠিন প্রতিযোগিতা রয়েছে। তবে সঠিক পদ্ধতিতে পরিশ্রম করলে সফলতা অসম্ভব নয়।
(ক) প্রথমেই দেখতে হবে কোন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চান। বিভিন্ন ধরনের চাকরির আলাদা আলাদা পরীক্ষা হয়ে থাকে।
(খ) এরপর সেই নির্দিষ্ট পরীক্ষার সিলেবাসে কী কী বিষয় রয়েছে সেগুলো নোট করে নিতে হবে।
(গ) বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে ও তার থেকে কী কী ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে তা জানার জন্য ইন্টারনেটে ওই বিষয়গুলো সম্পর্কে লেখা দেখতে পারেন বা ভিডিওর সাহায্য নিতে পারেন। যদি মনে হয় তবে বাজার থেকে কিছু বই এনেও দেখা যেতে পারে।
(ঘ) একবার ধারণা নেওয়া হয়ে গেলে এবার প্রয়োজন নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য নিয়মিত ও সঠিক পদ্ধতিতে অনুশীলন শুরু করা।
(ঙ) ইউটিউবে বিভিন্ন স্টাডি চ্যানেলগুলোতে বিনা খরচে চাকরির পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর ওপর ক্লাস করানো হয় সেগুলো ফলো করতে পারেন।
মক টেস্ট
যে কোনো চাকরির পরীক্ষায় সফল হতে টাইম ম্যানেজমেন্ট খুবই প্রয়োজন। আর এই কাজে সাহায্য করবে মক টেস্ট অর্থাৎ আসল পরীক্ষার আগে ঘরে বসে প্র্যাকটিস পরীক্ষা দেয়া। এতে পরীক্ষায় টাইম ম্যানেজমেন্ট ও নিজের প্রস্তুতির সঠিক অনুমান পাওয়া যায় এবং নিজের ভুলগুলো খুঁজে বের করে তার সমাধান খুঁজতে সুবিধা হয়। মনে রাখতে হবে যে কোনো বিষয়েই সাফল্য আসে কঠোর অনুশীলনের পরেই। রাতারাতি সাফল্যের আশা নিয়ে কোনো কাজ শুরু করলে তাতে বিফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষাও এর ব্যতিক্রম নয়।
নির্দিষ্ট সংখ্যক পদ, প্রচুর প্রতিযোগী হয়তো এ কারণেই সফলতা পাওয়া কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু তার মানে এটা কখনোই নয় যে সফল হওয়া অসম্ভব। মনে রাখতে হবে আজকে আমরা যাদের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় দেখি তারাও আমার আপনার মত মানুষ, তাই তারা যদি পেরে থাকে তবে আপনিও পারবেন। তাই মনে আশা, নিজের প্রতি ভরসা আর সফল হওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আজ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন।
চাকরি বাজার ডেস্ক 

×