ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১

ফিলিস্তিনকে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতির প্রভাব

আরও একঘরে ইসরাইল

প্রকাশিত: ০০:১৮, ২৫ মে ২০২৪

আরও একঘরে ইসরাইল

.

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান অংশীদারদের বিপক্ষে গিয়ে তিনটি ইউরোপীয় দেশ ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা। এতে যদিও খুব দ্রুত কিংবা সহজে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে না। এখনো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। পেরোতে হবে আরও অনেক প্রতিবন্ধকতা।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, পথ পাড়ি দেওয়া কঠিন হলেও ফিলিস্তিনকে তিন ইউরোপীয় দেশের স্বীকৃতির কিছু প্রভাব পড়েছে এবং পড়বেও। গাজা যুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ফিলিস্তিনি হতাহতের ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক চাপে আছে ইসরাইল। তার ওপর বুধবার তিন ইউরোপীয় দেশ- স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং নরওয়ের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের পর ইসরাইল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একঘরে হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেও ইসরাইল গাজায় হামলা চালিয়ে যাওয়ায় এবং বিশেষত রাফা অভিযান থেকে পিছু না হটায় এরই মধ্যে নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়েছে। খবর আলজাজিরা পার্সটুডে অনলাইনের।

ইসরাইলে অস্ত্র চালান আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। বিভিন্ন সময় ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) দেশটির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। রাফায় অভিযান বন্ধের আদেশ চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন পর্যন্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইসরাইলের বিপক্ষে গিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ। যার ফলে এখন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স জার্মানিসহ অন্য ইউরোপীয় দেশুলোও ফিলিস্তিনের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকারের সমর্থনে এই তিন দেশের পথ অনুসরণ করার চাপে পড়বে বলেই অভিমত বিশ্লেষকদের।

একজন আরব কূটনীতিক বলেন, “এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসরাইল সরকার কারও কথা না শোনায় ইউরোপীয়রা যে হতাশ তারই প্রতিফলন। এতে ইইউ দেশগুলোর ওপর একই পথ অনুসরণ করার জন্য চাপ বাড়বে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, বুলগেরিয়া, সুইডেন, সাইপ্রাস এবং মাল্টা। আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়ের মতে, তারা একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে অন্যান্য দেশগুলোও এগিয়ে আসে। তাদের যুক্তি, উভয় পক্ষই এক ধরনের রাজনৈতিক আবহকে লক্ষ্য ধরে নিয়ে এগুতে পারলেই কেবল বর্তমান সংকটের একটি টেকসই সমাধান হবে। ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এই দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখেও আছে। তবে ফিলিস্তিনকে কখন স্বীকৃতি দেওয়া উচিত তা নিয়ে ইউরোপীয় কিছু দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক ইউরোপীয় দেশের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থায়ী শান্তি চলমান সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধান হিসেবে দ্বি-রাষ্ট্র অপরিহার্য, যেখানে ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন উভয়ই তাদের নিজস্ব সীমানা নিয়ে স্বাধীনভাবে পাশাপাশি অবস্থান করবে। কিন্তু দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বিরোধিতা করে আসছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ২০২২ সালের শেষের দিকে নেতানিয়াহুর সরকারে কট্টর ডানপন্থি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী দলগুলো যোগ দেওয়ার পর তার এই বিরোধিতা আরও বেড়েছে। তিন দশক আগে অসলো শান্তি চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে আগে অনেক পশ্চিমা দেশই মনে করত একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি হওয়ার পরই সেটি উচিত। তবে সম্প্রতি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ তাদের মত পরিবর্তন করেছেন। তারা এখন বিশ্বাস করে যে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে দ্রুত স্বীকৃতি দিলেই তা একটি রাজনৈতিক সমাধান বয়ে আনবে।

×