ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

তৃতীয় বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

দৃঢ় পুতিন, দ্বিধাবিভক্ত পশ্চিমারা

প্রকাশিত: ০১:২৬, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দৃঢ় পুতিন, দ্বিধাবিভক্ত পশ্চিমারা

.

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ আজ তৃতীয় বছরে গড়িয়েছে। শনিবার যুদ্ধের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। আক্রমণের শুরুতে রাশিয়ার যে দৃঢ়তা ছিল সেটি মাঝে ভেঙে পড়েছিল। তবে কয়েক মাস আগে থেকেই নিজেদের অবস্থানে ফিরে এসেছে মস্কো। যুদ্ধ এবং পরিকল্পনায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট øাদিমির পুতিন। অন্যদিকে ইউক্রেন বিপরীতে কিয়েভের মনোবলে ফাটল ধরেছে। ইউক্রেনকে সাহায্যের দিক দিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। খবর বিবিসি এএফপির।

ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছর পেরিয়ে গেল, কিন্তু সহসাই যুদ্ধ থামবে এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। না ইউক্রেন না রাশিয়া, না তাদের কোনো মিত্র, কারও পক্ষ থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো চিহ্নমাত্র নেই। মস্কো তাদের অবস্থানে অনড় যে ইউক্রেন যথাযথ রাষ্ট্র নয় এবং তাদের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার সামরিক অভিযান চলবে। অন্যদিকে কিয়েভ ব্যাপারে একরোখা যে তাদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা বজায় থাকতে হবে এবং তারা রুশ  সেনাদের হটিয়ে দেবে। এদিকে ইউক্রেনের ওডেসা, দিনিপ্রোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় ছয়জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। দেশটির আঞ্চলিক গভর্নর বলেছেন, বন্দরনগর ওডেসায় রাশিয়া টানা দ্বিতীয়বারের মতো ড্রোন হামলা চালালে একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে রাশিয়ার -ফিফটি সামরিক গোয়েন্দা বিমান পাতিত করার দাবি করেছে ইউক্রেন। এক মাসের মধ্যে ইউক্রেন দ্বিতীয়বারের মতো ধরনের দাবি জানাল। ইউক্রেনের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, শনিবার রাশিয়ার রস্তোফ-অন-ডন ক্রাসনোদর শহরের মধ্যবর্তী জায়গায় বিমানটি পাতিত করা হয়। সম্মুখসমর স্থল থেকে জায়গাটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো কানেভস্কয় এলাকায় বিমানের টুকরা খুঁজে পেয়েছে এবং আগুন নিভিয়েছে। তবে ইউক্রেনের দাবির বিষয়ে রাশিয়া এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের দ্বিতীয় বছর শেষ হওয়া উপলক্ষে ইউক্রেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে কিয়েভ যান পশ্চিমা চার নেতা।

শনিবার কিয়েভ পৌঁছান ইতালি, কানাডা, বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওডেসার একটি আবাসিক ভবনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় একজন নিহতের কিছুক্ষণ পরই কিয়েভ পৌঁছান তারা। এমন এক সময় তারা কিয়েভ গেলেন, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। কারণ তার দেশের গোলাবারুদ, অস্ত্র যুদ্ধ সামগ্রী কমে গেছে। সেইসঙ্গে পশ্চিমা সহায়তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছে ইউক্রেন।

×