শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাসে বসন্তের আগমন
‘হে কবি, নীরব কেন?/ ফাগুন যে এসেছে ধরায়,/ বসন্তে বরিয়া তুমি লবে নাকি তব বন্দনায়?’ পঙক্তিটি কবি সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতায় দেখা যায় যে, প্রকৃতিতে বসন্ত আসলেও তা নিয়ে কবির মধ্যে নেই কোনো ব্যাকুলতা। তিনি লিখছেন না কবিতা, কাব্যের ভাষায় ফুটিয়ে তুলছেন না বসন্তের অতুলনীয় সৌন্দর্য। মূলত, তিনি ব্যক্তিগত দুঃখে ভুলে গিয়েছেন বসন্তের কথা। আবার বসন্ত তাকে না জানিয়ে চলে আসাতে অভিমানও করছেন তিনি। আসলে প্রকৃতি এমনই। এটি বয়ে চলে তার চিরাচরিত নিজস্ব নিয়মে। যে কারণেই গ্রীষ্মের পরে ডাক পড়ে বর্ষার।
আর বর্ষার পরে ডাক পড়ে শরতের। আবার শীতের পরে আগমন ঘটে বহুল কাঙ্ক্ষিত বসন্তের। প্রকৃতি কারো জন্য কখনো অপেক্ষা করে না, না অপেক্ষা করে কোনো ঋতু। ঠিক এমনটিই ঘটেছে এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসেও। রমজানের ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। পুরো ক্যাম্পাস শিক্ষার্থী শুন্যতাই খা খা করলেও বসন্ত থেমে থাকেনি। নিজস্ব নিয়মে চিরাচরিত সময়েই আগমন ঘটেছে বসন্তের, আর প্রাণ ফিরে পেয়েছে ক্যাম্পাস। ফুলে ফুলে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে সমগ্র ক্যাম্পাস। সরেজমিনে দেখা যায়, শীতের নরম রোদ পেরিয়ে যখন ফাল্গুনের হালকা উষ্ণতা নেমেছে, ঠিক তখনই পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে রঙের এক অপূর্ব উৎসব শুরু হয়েছে।
ফুলের সমারোহে ছেয়ে গেছে সমগ্র ক্যাম্পাস। বিশেষ করে শহীদ আনাস হলের সামনের রাস্তা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে দুটি জারুল গাছ। ক্যাম্পাসে এ গাছগুলো থেকে ফোটা ফুলগুলো যেন সৌন্দর্যের কুহরন সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিউজফিডে ভাসছে এ ফুলগুলোর ছবি আর ভিডিওগ্রাফী। এদিকে ক্যাম্পাসের প্রশাসন ভবনের সামনের দক্ষিণ-পশ্চিম মোড়, রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবনের দক্ষিণ গেইট, থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দক্ষিণ গেইটসহ বিভিন্ন স্থান দখল করে নিয়েছে পলাশ ফুল।
মনে হচ্ছে যেন, ফেব্রুয়ারির ভাষা শহিদ আর মার্চের কালরাতের শহিদদের লাল রক্তকে সম্মান জানাতেই এই লাল টকটকে পলাশ ফুলের আগমন ঘটেছে। এদিকে সাদ্দাম হোসেন হলের গেইট হয়ে উঠেছে পয়েনসেটিয়া আর লাল-সাদা গোলাপের অভয়ারণ্য। ক্যাম্পাসে অবস্থানরত যুগলদের আগমন দেখা যাচ্ছে সেখানে।
প্যানেল হু








