ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৭ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস

নতুন শিক্ষাক্রম বড় অর্জন, বাস্তবায়ন প্রধান চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত: ১১:০২, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩

নতুন শিক্ষাক্রম বড় অর্জন, বাস্তবায়ন প্রধান চ্যালেঞ্জ

প্রতীকী ছবি। 

করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বছর। এবার সেই ঘাটতি ছাড়াও নতুন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। এর একটি নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন অপরটি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ। তবে বৈশ্বিক শিক্ষার অবস্থা সংকট এখন তিনটি। যার একটি অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও জলবায়ু পরিবর্তন।

এমন পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সারা বিশ্বে পালিত হবে আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস। এবারের ‘প্রতিপাদ্য মানুষের মাঝে বিনিয়োগে শিক্ষায় অগ্রাধিকার’।

এ বিয়য়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সাবেক মহাপরিচালক ও পিএসসি সদস্য অধ্যাপক গোলাম ফারুক জনকণ্ঠকে বলেন, দেশে যে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু হলো সেটি বাস্তবায়ন করাই আমাদের এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। শিখন, শিখানোর পদ্ধতি ও মূল্যায়ন যে ধারায় পরিবর্তন হয়েছে এবার সেটির কোন বিকল্প ছিলো না। কিন্তু শিখন কন্টেন্টের বিষয়ে চারিদিকে বিরুপ আলোচনা চলছে। এতে নতুন শিক্ষাক্রমের বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এরফলে অনেককে নিরুৎসাহিত করতে পারে। সেক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রণালয়, মাউশি ও সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।

ভুল কন্টেন্ট, চৌর্যবৃত্তি ও গুবজের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এসব প্রভাব নতুন শিক্ষাক্রমকে অজনপ্রিয় করবে। ফলে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের প্রয়াস দরকার।

এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠপুস্কক বোর্ড (এনসিটিবি) সদস্য অধ্যাপক মশিউজ্জামান জনকণ্ঠকে বলেন, এ বছরে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন যেমন চ্যালেঞ্জ। এই শিক্ষাদিবসে সবচেয়ে বড় অর্জনও নতুন শিক্ষাক্রম। শিক্ষায় যে লাগাতার বাণিজ্য ও সমস্যা তা নতুন এই শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে রোধ হবে। বাস্তবায়নের যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে এ বিষয়ে আমরাও 
বদ্ধ পরিকর।

জাতিসংহের শিশু ও শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এই বছরের দিবসটি আফগানিস্তানের মেয়ে ও নারীদের জন্য উৎসর্গ করছে। মূলত ওই দেশের যেসব নারী তাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কারণে শিক্ষায় তাদের প্রবেশাধিকারে  সীমাবদ্ধতা ও  নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস পালিত হয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন এ দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে এবার বিশ্বজুড়ে পঞ্চম আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস পালন করা হবে।

সংস্থাটি বলছে, এখনো ২৫ কোটির বেশি শিশু ও যুবক স্কুলে যায় না। ৬১ কোটির বেশি শিশু, কিশোর-কিশোরীরা নূন্যতম গণিত পড়তে এবং করতে পারে না।  আফ্রিকাতে ৪০ শতাংশেরও কম মেয়েরা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সম্পন্ন করে। এবং প্রায় ৪০ লাখের বেশি শিশু ও নারী শরণার্থী বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। তাদের শিক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং এটি অগ্রহণযোগ্য।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইউএন ট্রান্সফর্মিং এডুকেশন সামিট দ্বারা বৈশ্বিক গতির উপর ভিত্তি করে, এই বছরের দিবসটি শিক্ষার চারপাশে শক্তিশালী রাজনৈতিক সংহতি বজায় রাখার এবং প্রতিশ্রুতি এবং বৈশ্বিক উদ্যোগগুলিকে কর্মে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

monarchmart
monarchmart