ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আমদানি প্রস্তাবে অনুমোদন

তিন কার্গো এলএনজি ও রাইসব্রান তেল কিনবে সরকার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:০৪, ১১ মার্চ ২০২৬

তিন কার্গো এলএনজি ও রাইসব্রান তেল কিনবে সরকার

তিন কার্গো এলএনজি ও রাইসব্রান তেল কিনবে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্বিগুণের বেশি দামে দুই দেশ থেকে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দুই কার্গো এবং যুক্তরাজ্য থেকে এক কার্গো এলএনজি আনা হবে। তিন কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৫৪ কোটি ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ২৮০ টাকা। বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকের নির্ধারিত অ্যাজেন্ডার বাইরে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে তিন কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি-১০৫(৩) (ক)-অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে এই এলএনজি আনা হবে। চলতি বছরের ৫-৬ এপ্রিল এক কার্গো, ৯-১০ এপ্রিল এক কার্গো এবং ১২-১৩ এপ্রিল আর এক কার্গো এলএনজি আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিন কার্গো এলএনজির মধ্যে যুক্তরাজ্যের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৪ টাকা দিয়ে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউর মূল্য ধরা হয়েছে ২১ দশমিক ৫৮ ডলার। গত বছরের ৯ ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের এ প্রতিষ্ঠান থেকে এক কার্গো এলএনজি ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয় ১০ দশমিক ৩৭ মার্কিন ডলার।

অর্থাৎ আগের থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে এবার যুক্তরাজ্যের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। শুধু যুক্তরাজ্যের এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে নয়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও এলএনজি আনতে দ্বিগুণের বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন থেকে একটি লটে এক কার্গো এলএনজি কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৮ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউর মূল্য ধরা হয়েছে ২০ দশমিক ৭৬ ডলার।
৩০৫ কোটি টাকার রাইসব্রান তেল কিনবে সরকার ॥ ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নি¤œ আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১ কোটি ৮০ লাখ লিটার রাইসব্রান তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৫ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বুধবার (১১ মার্চ) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবে ৪ লটে ৮০ লাখ লিটার রাইসব্রান তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৮০ লাখ লিটার রাইসব্রান তেল কেনার লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা হলে ১১টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। দরপ্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে ৪টি লটে ৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি লটে যশোরের মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস লিমিটেড ২০ লাখ লিটার রাইসব্রান তেল কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে  প্রতি লিটারের দাম ধরা হয়েছে ১৬৯ টাকা ৭৫ পয়সা। এতে ২০ লাখ লিটারের তেল কিনতে খরচ হবে ৩৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আর একটি লটে ঢাকার গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ থেকেও ২০ লাখ লিটার রাইসব্রান তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটারের দাম ধরা হয়েছে ১৬৯ টাকা ২৫ পয়সা। এতে ২০ লাখ লিটারের দাম পড়বে ৩৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আর একটি লটে ঢাকার তামীম অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকেও ২০ লাখ লিটার রাইসব্রান তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটারের দাম ধরা হয়েছে ১৬৯ টাকা ২৫ পয়সা। এতে ২০ লাখ লিটারের তেল কিনতে খরচ হবে ৩৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এছাড়া আর একটি লটে গাইবান্ধার প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড থেকেও ২০ লাখ লিটার রাইসব্রান তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটারের দাম ধরা হয়েছে ১৬৭ টাকা ৫০ পয়সা। এতে ২০ লাখ লিটারের তেল কিনতে খরচ হবে ৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবে ৫টি লটে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ কোটি লিটার রাইসব্রান তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ তেল কিনতে ব্যয় হবে ১৭০ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই তেল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ১১টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। দরপ্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ সর্বনি¤œ দরদাতা ৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ লাখ লিটার করে তেল কেনা হবে।

প্যানেল হু

×