ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান

৫৩ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০১:১৯, ২ এপ্রিল ২০২৩

৫৩ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি

এক দশকে এনআরবিসি ব্যাংক

গাইবান্ধার আরিফ খা বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম। ২০১৮ সালে নিজ বাড়িতে মৃৎশিল্প স্থাপনে মাত্র ৫০ হাজার টাকা ঋণের জন্য গেছেন বিভিন্ন ব্যাংকে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আর অন্যান্য কাগজপত্র না থাকায় ঋণ মেলেনি। এক সময় হাজির হন এনআরবিসি ব্যাংকের প্রফেসর কলোনি উপশাখায়। জামানতবিহীন ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাটির পাত্র তৈরির মেশিন  ও মাটি  কিনে শুরু করেন মৃৎশিল্প।

এখন তার ওই ক্ষুদ্র উদ্যোগে কাজ করেন ৩০ জন কর্মী। শুধু মহিদুল ইসলাম নয় চাঁদপুরের নূর মোহাম্মদ, নীলফামারীর কায়দুজ্জামান, বগুড়ার লিপি খাতুন, রংপুরের চান মিয়া সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন এনআরবিসি ব্যাংকের ঋণ সহায়তা পেয়ে। এভাবে সারাদেশে ৫৩ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার স্বপ্ন পূরণে সঙ্গী হয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। এর মাধ্যমে ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।   
২০১৩ সালের ২ এপ্রিল ৫৩ জন প্রবাসী উদ্যোক্তাদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে এনআরবিসি ব্যাংক। ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা ব্যাংকটির। স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তাই এনআরবিসি ব্যাংক বেছে নেয় দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পিছিয়ে পড়া মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সহজশর্ত ও স্বল্পসুদে ঋণ দিতে ২০২১ সালের মার্চে বিশেষ ক্ষুদ্রঋণ চালু করে এনআরবিসি ব্যাংক। জামানতবিহীন এই ঋণ সুবিধা খুব অল্প সময়ে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে ৫২ হাজার ৫০০ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ পেয়েছেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ক্ষুদ্র ঋণ। এই সেবার দ্রুত প্রসারের স্বীকৃতি স্বরুপ ‘ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক-২০২২’ প্রদান করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ম্যাগাজিন  দি গ্লোবাল ইকোনমিক্স। 
ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল বলেন, প্রবাসীদের স্বপ্নের এই ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে খুব সহজে সব মানুষের দুয়ারে ব্যাংকিং সেবা  পৌঁছে দেওয়া। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ যারা ব্যাংকিং থেকে বঞ্চিত থেকেছে তাদের জন্য চালু করেছি ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প। এতে বিনা জামানতে স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে ঘরে বসেই তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। দেশের প্রতি  ও দেশের মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। গরিব মেহনতি মানুষের ভরসা ও আস্থার ব্যাংকে পরিণত হতে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে এনআরবিসি ব্যাংক। 
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম আউলিয়া বলেন, প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের বাইরে গিয়ে আমরা ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। এখানে বেশি সংখ্যক মানুষকে আমরা সেবার আওতায় আনতে পেরেছি। একজন গ্রাহককে শত শত কোটি টাকা ঋণ না দিয়ে আমরা প্রান্তিক মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঋণ দিচ্ছি। 
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে এনআরবিসি ব্যাংক। সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে সর্বপ্রথম উপশাখা ধারণায় ব্যাংকিং শুরু করে ব্যাংকটি।

×