ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

সংস্কৃতি সংবাদ

উৎসবমুখর আবহে বাংলা একাডেমির বার্ষিক সভা 

সংস্কৃতি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩৩, ২৬ নভেম্বর ২০২৩

উৎসবমুখর আবহে বাংলা একাডেমির বার্ষিক সভা 

বাংলা একাডেমির বার্ষিক সভায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে অতিথিদের সঙ্গে সাহিত্য পুরস্কার ও ফেলোশিপপ্রাপ্ত গুণীজনরা

হালকা শীতল হেমন্তের সকাল থেকেই সরব হয়ে ওঠে বাংলা একাডেমি আঙিনা। শনিবার মধ্যাহ্ন পেরিয়ে বিকেল অবধি বিরাজ করেছে সুন্দরতম রূপটি। শিল্পী-সাহিত্যিকদের আড্ডা আর আলাপচারিতায় আরও বেশি প্রাণময় হয়ে ওঠে একাডেমির সবুজ-শ্যামল প্রান্তর। গুরুগম্ভীর আলোচনার পাশাপাশি দিনভর চলেছে পারস্পরিক ভাব বিনিময়। সারাদেশ থেকে সমবেত হওয়া একাডেমির সদস্যদের সম্মিলনে বিরাজ করেছে আনন্দময় আবহ।  আর এভাবেই উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৬তম বার্ষিক সভা। একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত আয়োজনে বাংলা একাডেমি পরিচালিত সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয় সাত গুণীজনকে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলা একাডেমি সাম্মানিক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। 
বাংলা একাডেমি পরিচালিত সাহিত্য পুরস্কারজয়ী সাত গুণীজন হলেন- কবি নির্মলেন্দু গুণ, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, ড. মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ, ডা. এবিএম আবদুল্লাহ, ড. অনুপম সেন, ওমর কায়সার ও আবদুল গাফফার। এর মধ্যে ২০২৩ সালের মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার পেয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ পুরস্কার প্রদান করা হয় নাট্যজন রামেন্দু মজুমদারকে। আবু রুশ্দ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন ড. মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ।

মেহের কবীর বিজ্ঞান সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। সাহিত্যিক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধ সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ড. অনুপম সেন। সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন কবি ওমর কায়সার। বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট : বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অবদান গ্রন্থের জন্য হালীমা-শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কার পেয়েছেন আবদুল গাফফার। 
সভায় মুক্তিযুদ্ধ, শিল্প-সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলা একাডেমি সাম্মানিক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। ফেলোশিপ্তপ্রাপ্তরা হলেনÑ আক্কু চৌধুরী (মুক্তিযুদ্ধ), মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু (সাংবাদিকতা), তানভীর মোকাম্মেল (চলচ্চিত্র), এ কে শেরাম (আদিবাসী গবেষণা), মো. আলম দেওয়ান (ফোকলোর), ফাল্গুনী হামিদ (সংস্কৃতি) ও ডা. হালিদা হানুম আখতার (চিকিৎসাবিজ্ঞান)। 
সকালে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশিত জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা ও একাডেমির পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর  দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রয়াত গুণী ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ ও তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মানে নীরবতা পালন করা হয়। 
সভায় একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এবং একাডেমির সচিব ড. মো. হাসান কবীর ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেট অবহিত করেন। একাডেমির সদস্যবৃন্দ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন। মহাপরিচালক সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং উত্থাপিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ৪৫তম বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী সারাদেশ থেকে আগত একাডেমির ফেলো, জীবনসদস্য ও সদস্যদের সম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়। একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে সাধারণ সভা শুরু হয়। তিনি অসুস্থ বোধ করায় সাধারণ সভার পরবর্তী কার্যক্রমে পর্যায়ক্রমে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির ফেলো ড. নূহ-উল-আলম লেনিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার। 
পুরস্কার ও ফেলোশিপপ্রাপ্ত গুণীজণদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র, সম্মাননা-স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি সেলিনা হোসেন ও কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। কবি নির্মলেন্দু গুণের পক্ষে তাঁর কন্যা মৃত্তিকা গুণ এবং আক্কু চৌধুরীর পক্ষে রামেন্দু মজুমদার পুরস্কার ও ফেলোশিপ গ্রহণ করেন।
বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক-প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি প্রায় সাত দশক ধরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বাতিঘর হিসেবে বিশ্ব-দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে গোটা জাতির কাছে তুলে ধরতে আমরা নিবিষ্টভাবে কাজ করে চলেছি। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদের সভায় বাংলা একাডেমির ফেলো, জীবন সদস্য এবং সাধারণ সদস্যবৃন্দের প্রদত্ত মতামত ও বক্তব্য ধারণ করে আমরা আগামী দিনের বাংলা একাডেমির রূপরেখা প্রণয়নে কাজ করে যাব।  
সভাপতির বক্তব্যে সেলিনা হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাঙালি জাতিসত্তাকে ধারণ করে বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করে চলেছে বাংলা একাডেমি। সাধারণ পরিষদের সভায় সারাদেশ থেকে আগত ফেলো, জীবনসদস্য ওসাধারণ সদস্যদের মতামত ধারণ করে একাডেমি তার ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। 
সাধারণ সভার কার্যক্রম সঞ্চালনা করেন একাডেমির পরিচালক ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম।

×