বৃহস্পতিবার ৭ মাঘ ১৪২৮, ২০ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সুবর্ণজয়ন্তীর বিশেষ প্রদর্শনী

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আমাকে যখন আমার মানুষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল, তখন তারা কেঁদেছিল; আমাকে যখন বন্দী করে রাখা হয়েছিল, তখন তারা যুদ্ধ করেছিল আর আজ যখন আমি তাদের কাছে ফিরে যাচ্ছি তাদের কাছে যাচ্ছি, তখন তারা বিজয়ী। আমি ফিরে যাচ্ছি তাদের নিযুত বিজয়ী হাসির রৌদ্রকরে...। বন্দীশিবির থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশের মাটিতে ফেরার পথে ভারতের দিল্লীতে এভাবেই আপন অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই আবেগময় উক্তিগুলো এখন শোভা পাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ আয়োজিত এক বিশেষ প্রদর্শনীতে। শুক্রবার থেকে সূচনা হওয়া এই প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ-প্রত্যাবর্তন : সুবর্ণজয়ন্তী’।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রবেশ মুখের লবিতে মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্্যাপনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রদর্শনীটিতে মেলে ধরা হয়েছে ইতিহাসের সাক্ষ্যবহ বিভিন্ন আলোকচিত্র, তথ্য-উপাত্ত এবং দেশ-বিদেশের পত্রিকা ও সাময়িকীর সচিত্র প্রতিবেদন এবং ছবি। আর এভাবেই সজীব হয়েছে পঞ্চাশ বছর পর বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাহেন্দ্রক্ষণটি। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর আটক, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত খবর, বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বিশ^বাসীর তৎপরতা এবং প্রত্যাবর্তন সম্পর্কিত নানা তথ্য স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। সেসবের মধ্যে রয়েছে একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুর আটকের ছবি এবং বিদেশী সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টের আলোকচিত্র। পর্যায়ক্রমে উপস্থাপিত হয়েছে ১৯৭২ সালের ৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে জুলফিকার আলী ভুট্টোর ঘোষণার রিপোর্ট। রয়েছে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর লন্ডনে যাওয়ার ফ্রেমবন্দী আলোকচিত্র। রয়েছে লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলের সংবাদ সম্মেলন কিংবা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের বাসায় বঙ্গবন্ধু সাক্ষাতের আলোকচিত্রটি। সেখানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে তার বাড়ির সামনে বঙ্গবন্ধুকে গাড়ির দরজা খুলে অভ্যর্থনা জানাতে দেখা যায়। লন্ডনের পরে দিল্লীতে বঙ্গবন্ধুর আগমন। সেখানে জনগণের সামনে তাঁর ভাষণের ছবিও স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। এরপর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলার মাটিতে পা রাখার পর তাঁকে ঘিরে জনতার উল্লাস, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জিপে করে রেসকোর্স ময়দানে যাওয়ার ঐতিহাসিক আবেগঘন আলোকচিত্রটিও ঠাঁই পেয়েছে প্রদর্শনীতে। এরপর ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আলোকচিত্রও স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে।

শুক্রবার সকালে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অগ্নিকন্যাখাত মতিয়া চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডাঃ সারওয়ার আলী।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিবছর আড়ম্বরপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদ্যাপন করে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সমগ্র পৃথিবী যেখানে স্থবির হয়ে আছে সেখানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে সীমিত পরিসরে হলেও এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেই জন্য আমি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমাদের অন্তরের সংবেদনশীল জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের নাম লেখা। তিনি বলেন, এ প্রজন্মের মানুষেরা হয়ত অনেক কিছু পেয়েছে বা ভবিষ্যতে আরও পাবে কিন্তু তারা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার গৌরব এনে দিয়েছে। কিছু কোলাবেরেটরস ছাড়া ৩০ লাখ শহীদের বাইরে প্রতিটি পরিবারেই মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ ছিল। মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিকদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সাহসী ও বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণে পঞ্চাশ বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের তথ্য ও আলোকচিত্র আমাদের কাছে মূর্ত হয়ে আছে। ইন্টারনেটের আর্বিভাবের ফলে সাংবাদিকতা যেমন সহজ হয়েছে তেমনি চ্যালেঞ্জও বেড়েছে। সাংবাদিকতা বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। তরুণরা পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা বেছে নেয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে মতিয়া চৌধুুরী বলেন, আমি খুশি হই যখন দেখি তরুণরা জীবিকার অবলম্বন হিসেবে সাংবাদিকতা বেছে নিচ্ছে। সাংবাদিকরা পেটে পাথর বেঁধে সাংবাদিকতা করবেন সেই দিন আর নাই। আমাদের সাংবাদিকতা যাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছতে পারে সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সারওয়ার আলী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য যিনি দেশকে প্রস্তুত করেছেন ২৫ মার্চ রাতে পাক হানাদার বাহিনী তাকে আটক করে। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলেও বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন ছাড়া স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করেনি। বঙ্গবন্ধু বার বার বলেছেন সেলের পাশে তাঁর জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছে, তিনি মৃত্যুর জন্য সবসময় প্রস্তুত ছিলেন। একজন ফাঁসির আসামির যে চারিত্রিক দৃঢ়তা সেটা অত্যন্ত গুরুত্ববহ এবং অনেকের জন্য অনুকরণীয়।

প্রদর্শনীতে ১৫টি আলোকচিত্র, ম্যাগাজিন ও পত্রিকার কপি ১৮টি এবং ১টি ডকুমেন্ট স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীটি চলবে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

শীর্ষ সংবাদ:
২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৪, শনাক্ত ১০৮৮৮         ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলেই সাংবাদিককে গ্রেফতার নয়, ডিসিদের আইনমন্ত্রী         সন্ত্রাসীরা অস্ত্র তুললেই ফায়ারিং-এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         ৪৩তম বিসিএস প্রিলির ফল প্রকাশ         সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধে ডিসিদের নির্দেশ         শাজাহান খানের মেয়েকে বিয়ে করলেন এমপি ছোট মনির         শান্তিরক্ষা মিশনে র‍্যাবকে বাদ দিতে জাতিসংঘে চিঠি         আইপিটিভি-ইউটিউবে সংবাদ পরিবেশন করা যাবে না ॥ তথ্যমন্ত্রী         মগবাজারে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় প্রাণ গেল কিশোরের         নদীদূষণ ও দখলরোধে ডিসিদের আরও তৎপর হতে নির্দেশ         আইসিসি বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে টাইগারদের দাপট         হাইকোর্টে আগাম জামিন পেলেন তাহসান         ‘সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের একসঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই’         ঠিকাদারি কাজে এফবিআই’র সাজাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান!         এক সপ্তাহে করোনা রোগী বেড়েছে ২২৮ শতাংশ         যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কোর্টের প্রথম মুসলিম বিচারক হচ্ছেন বাংলাদেশি নুসরাত         সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত প্রধান বিচারপতি, হাসপাতালে ভর্তি         ‘স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ আসাদ একটি অমর নাম’         ‘শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ সবসময় প্রেরণা জোগাবে’         ৩৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল জার্মানি