সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

আলেশা মার্টের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

আলেশা মার্টের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা
  • নিরাপত্তার অভাবই কারণ!

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্টের অফিসিয়াল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার মধ্যরাতে নিজেদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তারা তাদের অফিসিয়াল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘অনাকাক্সিক্ষত ও নিরাপত্তাজনিত কারণবশত আলেশা মার্ট-এর সমস্ত অফিসিয়াল কার্যক্রম বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’ এতে বলা হয়, ‘গত বুধবার আমাদের অফিসে কতিপয় লোক দ্বারা অফিস কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তোলা এবং বল প্রয়োগের চেষ্টার কারণে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছি।’

‘উল্লেখ্য, বলপ্রয়োগকারীরা আমাদের কাস্টমার নয়, তাদের পেমেন্ট সিডিউল ছিল না এমনকি এসএমএস পায়নি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাওয়ার পরই পুনরায় আমাদের কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ পরিস্থিতির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আলেশা মার্ট-এর সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’ এ প্রসঙ্গে জানতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর আলম শিকদারের মুঠোফোনে এবং জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। আলেশা মার্টের বনানীতে একটি কর্পোরেট এবং একটি রেজিস্ট্রার্ড অফিস রয়েছে। এছাড়াও তেজগাঁওয়ের নাসরিন টাওয়ারে তাদের আরেকটি অফিস রয়েছে। বৃহস্পতিবার এ দুটি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিস বন্ধ শিরোনামে বাইরে থেকে একটি ব্যানার টানানো রয়েছে।

চলতি বছরের জুন থেকে ই-কর্মাস খাতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, টাকা নিয়েও গ্রাহকদের হাতে পণ্য পৌঁছে না দেয়ার। অর্থ পাচার, অর্থ আত্মসাতসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে হওয়া মামলায় কয়েকটি ই-কমার্স কোম্পানির মালিকরা কারাগারেও গেছেন। আলেশা-মার্টের বিরুদ্ধেও বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে, যার তদন্ত করছে সরকার।

এর আগে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি অনলাইনে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে আলেশা মার্ট। অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্টে বিশেষ মূল্যছাড়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির ৫ দফা ক্যাম্পেন চালানো হয়। এসব ক্যাম্পেনে ৪৫ হাজার গ্রাহক পণ্যের অর্ডার দেন।

চার দফায় ক্যাম্পেনের পণ্য ডেলিভারিও দেয়া হয়। তবে পঞ্চম দফায় সাত হাজার ৩০০ গ্রাহকের অর্ডারের মোটরসাইকেল দিতে পারেনি আলেশা মার্ট। এসব অর্ডারের বিপরীতে গ্রাহকদের অন্তত ২০০ কোটি টাকা আটকে গেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটিতে। উত্তরা মোটর্সের তেজগাঁও এলাকার ডিলার এস কে ট্রেডার্সের কাছ থেকে মোটরসাইকেল সংগ্রহ করে গ্রাহকদের দিয়েছে আলেশা মার্ট।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে নজরদারি এবং বকেয়া বাড়ায় আগস্ট মাস থেকে আলেশা মার্টকে মোটরসাইকেল দেয়া বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ইভ্যালিসহ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এরই অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা অনুসন্ধান শুরু করলে ক্রেতাদের টাকা ফেরত দিতে সময় নেয় আলেশা মার্ট। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বনানীর প্রধান কার্যালয়ে কাস্টমার কেয়ার কার্যক্রম বন্ধ হলে শীর্ষ কর্তারা গা ঢাকা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ: