সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

কুমিল্লায় জোড়া খুনের প্রধান আসামির বিরুদ্ধে আট মামলা

  • তদন্তে সিসিটিভিই ভরসা ॥ পলায়ন রোধে ইমিগ্রেশনে চিঠি

মীর শাহ আলম, কুমিল্লা ॥ কুমিল্লায় সিটি কাউন্সিলর সৈয়দ মোঃ সোহেলসহ জোড়া খুনের প্রধান আসামি শাহ আলম গত ৫ দিনেও গ্রেফতার হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হন্যে হয়ে খুঁজছে এ সময়ের মোস্ট ওয়ান্টেড এ আসামিকে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, দস্যুতা, মাদকসহ অন্তত ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার চান্দিনা থেকে গ্রেফতারকৃত এ মামলার আসামি মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার বিকেলে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত আরেক আসামি সুমন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। মামলার আসামিদের শনাক্তসহ তদন্তে এখন সিসিটিভি ফুটেজ-ই প্রধান ভরসা বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, আসামিরা যেন দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য ইমিগ্রেশনে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

কুমিল্লায় প্রকাশ্য দিবালোকে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনাটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ ক্ষমতাসীন রাজনীতিকরা মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে নৃশংস এ হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও মিডিয়ায় বক্তব্য রাখলেও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন-একমাত্র মাদকই এ হত্যাকান্ডের মূল কারণ হতে পারে না। এর পেছনে আধিপত্য বিস্তার, ঠিকাদারি কাজের ভাগ-বাটোয়ারা, বালুর ব্যবসা, আসন্ন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থিতাসহ অন্যান্য কারণগুলোও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। নিহত কাউন্সিলরের ছোট ভাই সৈয়দ মোঃ রুমন ১১ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে ২৩ নবেম্বর রাতে মামলা দায়ের করলেও নেপথ্যে থাকা সুজানগর, নবগ্রাম, পাথুরিয়াপাড়া এলাকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী শুক্রবার পর্যন্ত গা ঢাকা দিয়ে আছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সর্বশক্তি নিয়োগ করেও মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমকে ঘটনার ৫ দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনওয়ারুল আজিম জানান, ওই শাহ আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, দস্যুতা, মাদকসহ অন্তত ৮টি মামলা রয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানকালে স্থানীয়রা ধারণা প্রকাশ করে বলেন, ওই শাহ আলম তার কয়েক অনুসারীকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। এদিকে কাউন্সিলর সোহেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাথুরিয়াপাড়া যুবসমাজ শুক্রবার ওই এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক কাইছার হামিদ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার বিকেলে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সামছুর রহমানের আদালতে প্রেরণ করা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত আবেদনের শুনানি হয়নি। তবে আদালত আসামিকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিলে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, এ মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক টিম মাঠে অভিযানে রয়েছে। এরমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিরা যেন দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য ইমিগ্রেশনে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ নবেম্বর সোমবার বিকেলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা কাউন্সিলর সৈয়দ মোঃ সোহেলের পাথুরিয়াপাড়া থ্রি-স্টার এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়ে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ ঘটনায় কাউন্সিলর সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত পাঁচজন কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

শীর্ষ সংবাদ: