বৃহস্পতিবার ৮ আশ্বিন ১৪২৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

করোনা ভাইরাস ॥ চীনের দক্ষিণপূর্বে ছড়াচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

করোনা ভাইরাস ॥ চীনের দক্ষিণপূর্বে ছড়াচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

অনলাইন ডেস্ক ॥ চীনের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ফুজিয়ানে স্থানীয়ভাবে ছড়ানো কোভিড-১৯ এর নতুন সংক্রমণ একদিনের ব্যবধানে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত নতুন ৫৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, এ সংখ্যা আগেরদিনের ২২ জনের চেয়ে অনেক বেশি। এরা সবাই ফুজিয়ানে থেকেই আক্রান্ত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তরে ঝেজিয়াং ও দক্ষিণ গুয়াংডংয় প্রদেশের মাঝে থাকা ফুজিয়ানে মাত্র চার দিনে মোট ১০২টি সামাজিক সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

১ অক্টোবর থেকে চীনে জাতীয় দিবসের সপ্তাহব্যাপী ছুটি শুরু হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন সময় শুরুর আগে সেখানে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

এর আগে জুলাই থেকে আগস্টে শেষ অভ্যন্তরীণ প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। তখন ভ্রমণ, পর্যটন, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে এর প্রভাব পড়েছিল।

ফুজিয়ানের পুথিয়ান শহরে প্রথম প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। ৩২ লাখ বাসিন্দারা শহরটিতে ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম এক করোনাভাইরাস আক্রান্তের কথা জানা যায়। এরপর পুথিয়ানের কিছু রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায় তারা অতিসংক্রামক ডেল্ট ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।

এরপর ভাইরাসটি উপকূলীয় নৈসর্গিক শহর শামানে ছড়ায়। এখানে ১২ সেপ্টেম্বর একজন রোগী শনাক্ত হওয়ার পরদিন আরও ৩২ জন নতুন আক্রান্ত পাওয়া যায়।

পুথিয়ান ও শামান, উভয় শহরেই ভাইরাস ছড়ানোর উচ্চ ঝুঁকি আছে এমন এলাকাগুলোতে লকডাউন দেওয়া হয়েছে, কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও হাইস্কুলগুলোর অফলাইন ক্লাস বাতিল করা হয়েছে; সিনেমা হল, জিম ও বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া শহর ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে।

সোমবার রাতে শামানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শামান ক্লাস্টারের প্রথম রোগী পুথিয়ানের এক আক্রান্তের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছিল।

তবে ২০২০ সালের প্রথমদিকে চীনে যেমনটি দেখা গিয়েছিল শহরব্যাপী তেমন কঠোর লকডাউন এখনও এখানে জারি করা হয়নি।

এই দুই শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত চুয়ানঝৌতে ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন তিন রোগী শনাক্ত হয়, একদিন আগে এখান নতুন সংক্রমিতের সংখ্যা ৬ জন ছিল।

চুয়ানঝৌর একটি এলাকার আক্রান্ত অনেকেই পুথিয়ানে কাজ করে বা সেখানে গিয়েছিল। শহরটির ওই এলাকায় বাস চলাচল, কিছু সরকারি স্থাপনা এবং রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ওই এলাকার বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

সবমিলিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর চীনের মূলভূখণ্ডে বিদেশ থেকে আসা আক্রান্তসহ ৯২ জন নিশ্চিত নতুন করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছে, একদিন আগে সংখ্যাটি ৪৯ ছিল।

একইদিন চীন ২০ জন উপসর্গবিহীন নতুন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে, তবে এদের নিশ্চিত সংক্রমিত বলে বিবেচনা করে না দেশটি; একদিন আগে এ ধরনের আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ ছিল।

সংক্রমণ ছড়ালেও নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি।

১২ সেপ্টেম্বর, সোমবার পর্যন্ত চীনের মূলভূখণ্ডে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৫ হাজার ৩৪০ জন ছিল আর মৃত্যুর সংখ্যা আগের মতোই ৪৬৩৬ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ: