মঙ্গলবার ৫ মাঘ ১৪২৭, ১৯ জানুয়ারী ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

আগুনের সঙ্গে নিত্য বসবাস বস্তিবাসীদের

আগুনের সঙ্গে নিত্য বসবাস বস্তিবাসীদের
  • গুজব ঠেকাতে সম্মিলিতভাবে কাজ শুরু করেছে সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো
  • উৎসুক মানুষের ভিড় ঠেকাতে ফায়ার সার্ভিসের ক্রাউড কন্ট্রোল ইউনিট গঠন

গাফফার খান চৌধুরী ॥ আগুনের সঙ্গে নিত্য বসবাস বস্তিবাসীদের। শীত মৌসুমে বস্তিগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তুলনামূলক অনেক বেশি ঘটে। সবকিছু শুষ্ক থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে গুজব ছড়িয়ে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে গুজব ঠেকাতে সম্মিলিতভাবে কাজ শুরু করছে আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো। তাতে বিশেষভাবে সহযোগিতা করার মত দিয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি। যেসব এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে, গুজব ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইন্টারনেট সেবা প্রয়োজনে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে গুজবের কারণে ঘটনাস্থলে যাতে উৎসুক মানুষ ভিড় করতে না পারে, এজন্য ফায়ার সার্ভিসের তরফ থেকে ক্রাউড কন্ট্রোল ইউনিট গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইউনিটটি স্বল্প পরিসরে গঠিত হলেও ভবিষ্যতে এর আকার ও কার্যক্রম বাড়বে। ইউনিটটির মূল কাজই হচ্ছে নির্বিঘ্নে উৎসুক জনতার ভিড় ঠেকানো এবং অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়া।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ঢাকার রূপনগরের চলন্তিকা বস্তি, একই বছরের ১১ মার্চ ঢাকার রূপনগরের শিয়ালবাড়ি বস্তি থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২৩ নবেম্বর থেকে ২৫ নবেম্বর পর্যন্ত তিনদিনে মহাখালী সাত তলা বস্তি, মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লায় থাকা একটি বস্তি ও মিরপুরের কালশীর বাউনিয়া বাঁধ পুকুরপাড় বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বস্তিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। যারমধ্যে অগ্নিকাণ্ড অন্যতম। বস্তিবাসীদের দাবি, এসব অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগীরা জড়িত। বস্তির জায়গা দখল করতেই পরিকল্পিতভাবে বস্তিতে আগুন লাগানো হয়। আগুনে বস্তির ঘর পুড়ে যাওয়ার পর স্বাভাবিক কারণেই পুড়ে যাওয়ার ঘরের মালিক শীঘ্রই ঘর তুলতে পারেন না। এই সুযোগে সুবিধাভোগী প্রভাবশালী শ্রেণী জায়গা দখলে নেয়। তারা সেখানে ঘর তুলে আবার ভাড়া দেয়। আবার কোন কোন সময় দোকান তুলে ভাড়া দিয়ে থাকে। বস্তির ঘর ভাড়া ছাড়াও মাদক ব্যবসা থেকে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। ঢাকার শতাধিক বস্তি নিয়ন্ত্রণ করছে এমন প্রভাবশালী অন্তত পাঁচ হাজার ব্যক্তি। এসব বস্তি যেন টাকা রোজগারের সোনার খনি।

সূত্রটি বলছে, ঢাকার শতাধিক বস্তি যেন সোনার খনি। সরকারী জমিতে গড়ে ওঠা বস্তির ঘর থেকে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয় সন্ত্রাসী, বিদ্যুত, গ্যাস, পানি বিভাগের দুর্নীতিবাজ এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে গঠিত বস্তি নিয়ন্ত্রণকারী চক্রগুলো বস্তি থেকেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বস্তির জায়গা দখল করার জন্য এবং মাদক ব্যবসার রমরমা ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য প্রায়ই বস্তিগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

পর পর তিনটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ জানতে কথা বলেছিলাম ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইনের সঙ্গে। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, শীত মৌসুম এলেই সবকিছু শুষ্ক হয়ে যায়। বাতাসে আদ্রতা কম থাকার কারণে। অধিকাংশ বস্তিঘরই কাঠ, বাঁশ আর টিন দিয়ে তৈরি। ফলে আগুন লাগলে দ্রুত তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ভয়াবহতাও বেড়ে যায়। এছাড়া অগ্নিকাণ্ড ভয়াবহ আকার ধারণ করতে সহায়তা করে বস্তিতে থাকা বিদ্যুত সংযোগ। এর বাইরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করার সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডারও অন্যতম কারণ। কারণ অনেক বস্তিতেই গ্যাসের লাইন নেই। এসব বস্তিতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহৃত হয়। ফলে যখন আগুন লাগে তাপে গ্যাস সিলিন্ডার অনেক সময়ই বিস্ফোরিত হয়ে যায়। এতে করে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। শীত মৌসুমে বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনা তুলনামূলক অনেক বেশি ঘটে।

গতবছরের ২২ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা বস্তিতে আগুন লাগে, না লাগিয়ে দেয়া হয়, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন। তারা বস্তিতে কেন বার বার আগুন লাগে তা খতিয়ে দেখা জরুরী বলে মতামত ব্যক্ত করেন। আলোচনায় জাতীয় বস্তি কমিশন গঠনের দাবিসহ ১২ দফা দাবির আহ্বান জানানো হয়।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, বস্তি কেন পুড়ে তা খতিয়ে দেখতে হবে, নিম্ন আয়ের মানুষদের আবাসনের জন্য জাতীয় বস্তি কমিশন গঠন করতে হবে। বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত উচ্ছেদ না করতে হাইকোর্টের রুল থাকার পরেও প্রতিবছরই বস্তিতে আগুন লাগে। একটি পৃথক কমিশন গঠন করে সব অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করতে হবে।

১২ দফা দাবির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীদের ক্ষতিপূরণ দেয়া, একই জায়গায় বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন, বস্তিকে নগরের দুর্যোগ ও ঝুঁকি হিসেবে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার দাবিও করা হয়। বড় বস্তির কাছে সার্বক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট রাখার দাবি জানানো হয়।

রেলওয়ে বিভাগের তথ্য মোতাবেক, সারাদেশে সরকারী, আধাসরকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি প্রায় সাড়ে ৪ হাজার একর রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখলে রেখেছে। বেদখলে থাকা জায়গাগুলোতে ভারি ও হাল্কা আধাপাঁকা স্থাপনা ছাড়াও বস্তি গড়ে উঠেছে। ঢাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার রেলপথের দুই ধারের প্রায় ৫৮ একর জমিতে রয়েছে হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা আর বস্তি। এসব স্থাপনা ও বস্তি নিয়ন্ত্রণ করছে প্রায় ৫ হাজার স্থানীয় প্রভাবশালী।

স্থানীয় সরকারের অধীনে কাজ করা দাতা সংস্থা ইউপিপিআর (আরবান পার্টনারশিপস ফর পোভার্টি রিডাকশন্স প্রজেক্ট) এর জরিপ অনুযায়ী, বস্তিগুলোতে প্রায় ৫ লাখ হতদরিদ্র মানুষ বাস করছেন।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ছোট বড় এক শ’টি বস্তি আছে। গত প্রায় চার বছরে ছোট ছোট ১০টি বস্তি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ওইসব বস্তির বাসিন্দারা বড় বড় বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছেন। এরমধ্যে রেলওয়ের জায়গার ওপরই গড়ে ওঠেছে ৭০টি বস্তি। অন্যান্য বস্তিগুলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জায়গার ওপর গড়ে ওঠেছে। ঢাকায় বস্তিতে বসবাস করছেন অন্তত ২ লাখ দরিদ্র মানুষ। বস্তিবাসীদের অনেকেই ভোটার।

সিটি কর্পোরেশনের তথ্য মোতাবেক, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন শাখা দেশের বস্তির সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৭২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এসব অর্থ ব্যয় হচ্ছে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের তদারকিতে বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে। প্রজেক্টের কৌশলগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ইউএনডিপি (জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা)। পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত ও অধীন ৩০টি সংস্থা, সুশীল সমাজ, হাজারখানেক এনজিও ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা জড়িত।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের অপারেশন্স শাখার তথ্য মোতাবেক, দেশে থাকা বস্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার। যদিও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বস্তির সঠিক পরিসংখ্যান, বস্তিতে থাকা মানুষের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। বেশিরভাগ সময়ই বস্তিতে আগুন লাগলে সেখানে ভারি কোন যানবাহন দিয়ে কাজ করা সম্ভব হয় না। ফলে আন্তরিকতা থাকলেও ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। এতে করে সরকারের প্রতি মানুষের এবং বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতরের ইন্টেলিজেন্স এ্যান্ড স্পেশাল এ্যাফেয়ার্স বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বস্তিতে আগুন লাগার পর পরই একটি শ্রেণী বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ায়। এ কাজটি করে মূলত সুবিধাভোগী শ্রেণী। মূলত তারাই অনেক সময় বস্তিতে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুন লাগিয়ে দিয়ে গুজব ছড়িয়ে দেয়। যাতে চারদিকে উৎসুক মানুষ ভিড় করে। আর এতে করে বস্তির চারদিকে মানুষ ভিড় করে। ফায়ার সার্ভিসের আগুন নেভানোর কাজ বিঘ্নিত হয়। মূলত বস্তিতে যাতে ভালভাবে আগুন লেগে বেশি ঘর পুড়ে যায়, তাই এমন গুজব ছড়ানো হয়। আবার আগুন লাগার পর আগুন আগুন বলে চারদিকে সরগরম করে সুবিধাভোগীরা। এতে করে বস্তিবাসীরা দ্রুত ঘর ছেড়ে চলে যায়। এমন সুযোগে তারা আরও বেশি ঘরে ইচ্ছে করে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সূত্রটি বলছে, গতবছরের ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় বহু বিদেশী আগুনে পুড়ে মারা গেছেন বলে গুজব ছড়ানো হয়েছিল। এমনকি অনেক বিদেশীর লাশ সরকার রাতের আঁধারে সরিয়ে ফেলেছে বলেও নানাভাবে প্রচার চালানো হয়েছিল। ভবনের ভেতরে এমন গুজবের কারণে অনেকে সিঁড়ি দিয়ে ভবনের ছাদে আশ্রয় না নিয়ে লাফিয়ে পড়েন। এতে হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটে। যারা গুজবে কান না দিয়ে ছাদে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে সশস্ত্র বাহিনী জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরবর্তীতে গুজবের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়। তদন্তে তার সত্যতা মেলেনি। এমন ঘটনার পর থেকেই অগ্নিকাণ্ডের পর গুজব ছড়ানো ঠেকাতে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটগুলো বিশেষভাবে সর্তকভাবে কাজ করছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলছেন, শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়, যেকোন ধরনের গুজব ঠেকাতে ও প্রতিরোধে র‌্যাব কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের পর গুজব ছড়ানোর বিষয়টিও তারা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। বনানীর এফ আর টাওয়ার ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পরও গুজবের বিষয়ে তারা তৎপর ছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম গুজবের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছেন। বলেছেন, হালে সব বিষয়েই গুজব ছড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পেঁয়াজ নিয়ে গুজব ছড়ানো থেকে শুরু করে প্রায় সব বিষয় নিয়েই গুজব ছড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের পর গুজব ছড়ানো ঠেকাতে তারা তৎপর। অগ্নিকাণ্ডের পর গুজব ছড়ালে হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়, প্রকৃত ঘটনা কি হয়েছে তা দেখার জন্য। এতে করে অগ্নিনির্বাপণ কাজ ব্যাহত হয়। এতে করে অনেক সময়ই হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটে। পরে হতাহতের পরিসংখ্যান নিয়েও গুজব ছড়ানো হয়।

ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার দাবি, শুধু ভিড় ঠেলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতেই অনেক সময় লেগে যায়। রাস্তায় উৎসুক জনতা ভিড় না করলে যেকোন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনেক আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুততার সঙ্গে আগুন নেভানো সম্ভব হয়।

অগ্নিকাণ্ডের পর গুজব ঠেকাতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের উপ-কমিশনার আ ফ ম আল কিবরিয়া। তিনি জনকণ্ঠকে জানান, আগুন লাগার পর পরই এবং পরবর্তীতে গুজব ছড়ানোর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এজন্য অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং গুজব ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিআইডির সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার আবু সায়েম জনকণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি তাদের নজরদারির মধ্যে আছে। তবে গুজবের বিষয়ে মামলা হলে, সেটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এমন অনেক মামলার তারা তদন্ত করছেন। অনেককেই গ্রেফতারও করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে গুজব সম্পর্কে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্যও বেরিয়ে আসে। প্রাপ্ত তথ্যের বিষয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে।

একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশের টেলিযোগাযোগের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিটিআরসির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বিটিআরসির তরফ থেকে গুজব ঠেকাতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবেই জানিয়েছে। প্রয়োজনে অগ্নিকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়া হবে। প্রয়োজন মনে করলে বিটিআরসি সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা স্বল্প সময়ের জন্য বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছে।

গুজবের রেশ ধরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করে অগ্নিনির্বাপণ কাজ ব্যাহত করে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন জনকণ্ঠকে বলেন, আগুন লাগার পর পরই অগ্নিকাণ্ডের খবরটি ভয়াবহভাবে ছড়ানো হয়। এতে করে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। এতে করে অগ্নিনির্বাপণ কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক সময় উৎসুক মানুষের ভিড়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে না। এতে করে অনেক সময়ই অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের পরিমাণ বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের তরফ থেকে ফায়ার সার্ভিস সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, ফায়ার সার্ভিস সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা কম হতো বলেও অভিযোগ করা হয়। কোন কোন ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারণে হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে নানাভাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়। প্রকৃতপক্ষে চিত্রটি আসলে ভিন্ন। ফায়ার সার্ভিস হাজার চেষ্টার পরেও অনেক সময় উৎসুক জনতার কারণে, যানজটের কবলে পড়ে সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে না।

এই সেনা কর্মকর্তা বলছেন, যেমনটি হয়েছিল বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময়। ওই অগ্নিকাণ্ডে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকসহ ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যদিও ওই সময় বহু বিদেশী আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছেন বলে প্রচার করা হয়েছিল। এতে করে হাজার হাজার মানুষ ভবনটির চারপাশে অবস্থান নিয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের পানির পাইপের ওপর অনেক মানুষ দাঁড়িয়েছিল। ফলে ভবনটিতে ঠিকমতো পাইপ দিয়ে পানি দেয়া মাঝে মধ্যেই ব্যাহত হচ্ছিল।

অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী কাজ করে। ওই সময় উৎসুক মানুষের ভিড় ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে কাজ করতে হয়েছিল।

এফ আর টাওয়ারের এমন ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের তরফ থেকে উৎসুক জনতার ভিড় ঠেকাতে একটি পৃথক ইউনিট গঠন করা হয়েছে। ইউনিটটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ক্রাউড কন্ট্রোল’। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে ইউনিটটি কাজ করছে। ভবিষ্যতে ইউনিটটির পরিধি ও কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে। জনবলও বাড়ানো হবে।

ক্রাউড কন্ট্রোল ইউনিটের প্রধান কাজই হচ্ছে, ঘটনাস্থল থেকে উৎসুক জনতাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে দেয়া। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ কাজ যাতে দ্রুত করা যায়, তাতে সহযোগিতা করা। ইউনিটটি ভবিষ্যতে রাস্তাঘাট পরিষ্কার রেখে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে। অগ্নিকাণ্ড বা অন্যান্য দুর্যোগে ঘটনাস্থলে যাতে উৎসুক মানুষ ভিড় না করেন, এজন্য সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচীও হাতে নেয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচীর মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হবে।

করোনাভাইরাস আপডেট
বিশ্বব্যাপী
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
৯৩৬১৬১৫১
আক্রান্ত
৫২৮৩২৯
সুস্থ
৬৬৯২০৯০০
সুস্থ
৪৭৩১৭৩
শীর্ষ সংবাদ:
সমৃদ্ধির পথেই এগোতে হবে         করোনার টিকা আসছে এক সপ্তাহের মধ্যেই         ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা, আগাম সমালোচনা         চীনের মধ্যস্থতায় ঢাকায় আজ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক         বগুড়ার সেই তুফান সরকার ফের টক অব দ্য টাউন         কয়েক অঙ্গরাজ্যে ফের সশস্ত্র ট্রাম্প সমর্থকদের বিক্ষোভ         দেশে করোনায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু         ইন্টারপোলের সর্বশেষ রেড এ্যালার্ট তালিকায় ৭৮ বাংলাদেশী         বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মার্চে         মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের অবিরাম প্রচার         সুবিধাবঞ্চিতদের আরও ৬৫ লাখ ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক         হাড় কাঁপানো শীত জানুয়ারিজুড়ে থাকবে         তিন মাসে ৫৯ অবৈধ ইটভাঁটি ও দুই কারখানা বন্ধ         ভারতের থেকে ২০ লাখ ডোজ টিকা আসছে বুধবার         দুর্নীতি ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে : রাষ্ট্রপতি         করোনায় আক্রান্ত ১০ হাজার পুলিশের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়         ভূমি জালিয়াতি-হয়রানি রোধে আইন হচ্ছে : ভূমি সচিব         দেশের সকল প্রান্তে দেশীয় প্রজাতির মাছ ছড়িয়ে দেয়া হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী         পৌর নির্বাচন যেকোনো সময়ের তুলনায় শান্তিপূর্ণ হয়েছে ॥ তথ্যমন্ত্রী         করোনায় আক্রান্ত হাসানুল হক ইনু, হাসপাতালে ভর্তি