রবিবার ১৬ কার্তিক ১৪২৭, ০১ নভেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

একাদশ সংসদের ৬১ শতাংশ সদস্যই ব্যবসায়ী

  • টিআইবির প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাদশ জাতীয় সংসদে রাজনীতিক মাত্র পাঁচ শতাংশ, ৬১ শতাংশই ব্যবসায়ী। বাকি ৩৯ শতাংশ সংসদ সদস্যের মধ্যে আইনজীবী ১৩ শতাংশ ও অন্যান্য (শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী ও সামরিক কর্মকর্তা, গৃহিণী ও পরামর্শক ইত্যাদি) পেশার ২১ শতাংশ সদস্য রয়েছেন বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে দেশে শান্তিপূর্ণ এবং স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা বদলের সম্ভাবনা ‘দূরীভূত হয়েছে’ বলে মনে করছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জমান। বুধবার রাজধানীতে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে ২০১৯ সালে সংসদের (প্রথম থেকে পঞ্চম অধিবেশন) কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে পার্লামেন্ট ওয়াচ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সংস্থাটি এ তথ্য তুলে ধরে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশ্নবিদ্ধ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারী দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে সংসদীয় কার্যক্রমে বিশেষত আইন প্রণয়ন, বাজেট প্রণয়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চা আরও জোরদার হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনকালীন মহাজোটের একটি দল নিয়ম রক্ষার প্রধান বিরোধী দল হওয়ায় সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তাদের জোরালো ভূমিকার ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। সংসদীয় কার্যক্রমে আইন প্রণয়নের আলোচনায় সংসদ সদস্যদের কম অংশগ্রহণ, অনাগ্রহ ও দক্ষতার ঘাটতি দেখতে পেয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যকর জবাবদিহি করার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। অপরদিকে সংসদীয় উন্মুক্ততার চর্চায় ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে আইন প্রণয়নসহ অন্যান্য সংসদীয় কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোন ধরনের উদ্যোগ দেখা যায়নি। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সংসদে আলোচনার ক্ষেত্র এখনও সন্তোষজনক নয়। সার্বিকভাবে, একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম পাঁচটি অধিবেশন আইন প্রণয়ন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকর ছিল না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের হলফনামায় উল্লেখ করা প্রধান পেশা বিশ্লেষণে দেখা গেছে ৬১ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী, আইনজীবী প্রায় ১৩ শতাংশ, রাজনীতিক মাত্র ৫ শতাংশ এবং অন্যান্য পেশার সদস্য রয়েছেন ২১ শতাংশ। অন্যান্য পেশার মধ্যে শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী ও সামরিক কর্মকর্তা, গৃহিণী, পরামর্শক ইত্যাদি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের ৫৯ শতাংশ এবং জাতীয় পার্টির ৫৬ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী। টিআইবি গত কয়েকটি সংসদের সদস্যদের প্রধান পেশা প্রথম সংসদে আইনজীবীদের হার ছিল ৩১ শতাংশ ছিল বর্তমানে তা কমে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের হার প্রথম সংসদে ১৮ শতাংশ ছিল, যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে একাদশ সংসদে ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালের পাঁচটি অধিবেশনে মোট ১৯ ঘণ্টা ২৬ মিনিট কোরাম সঙ্কট ছিল বলে হিসাব করে দেখিয়েছে টিআইবি, যা ৫টি অধিবেশনের প্রকৃত মোট ব্যয়িত সময়ের ১৭.৩ শতাংশ।

তাতে পাঁচটি অধিবেশনে প্রতি কার্যদিবসে গড় কোরাম সঙ্কট ছিল ১৯ মিনিট। প্রথম থেকে পঞ্চম অধিবেশন পর্যন্ত কোরাম সঙ্কটে ব্যয়িত মোট সময়ের অর্থমূল্য ২২ কোটি ২৮ লাখ ৬৩ হাজার ৬২৭ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিবেশন পরিচালনার প্রতি মিনিটের প্রাক্কলিত অর্থমূল্য থেকে বাস্তব অর্থমূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ জাতীয় সংসদের অনুন্নয়ন ব্যয় ও বিদ্যুত বিল ছাড়াও সংসদ পরিচালনায় আরও কিছু সেবা খাত রয়েছে, যার ব্যয় এ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং সর্বশেষ অর্থবছরের বিদ্যুত বিল সংগ্রহ করতে না পারায় উক্ত বছরের হালনাগাদ তথ্যও এখানে সন্নিবেশ করা যায়নি। গবেষণায় বলা হয়, একাদশ সংসদের পাঁচটি অধিবেশনে আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে ৯ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে। অথচ ২০১৯ সালে ভারতের লোকসভায় এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বিল উত্থাপন এবং বিলের ওপর সদস্যদের আলোচনা ও মন্ত্রীর বক্তব্যসহ একটি বিল পাস করতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে গড়ে প্রায় ৩২ মিনিট সময় ব্যয় হয়েছে, যেখানে ভারতের লোকসভায় প্রতিটি বিল পাসে গড়ে প্রায় ১৮৬ মিনিট ব্যয় হয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ সংসদীয় কমিটিতে বিলের ওপর আলোচনায় ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। বিলের ওপর সংশোধনী এবং যাচাই-বাছাই প্রস্তাবের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে প্রধান বিরোধী দল এবং অন্যান্য বিরোধী সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়েছে। আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে প্রধান বিরোধী দল ৬৭ শতাংশ, অন্যান্য বিরোধী সদস্য ১৭ শতাংশ, সরকারী দল ১৬ শতাংশ (বিল উত্থাপনকারী মন্ত্রীরা) সময় ব্যয় করেছেন। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে মাত্র ১৪ জন সদস্য (৪ শতাংশ) বিলের ওপর নোটিস দিয়ে আলোচনা করেছেন। যাদের মধ্যে আটজন সদস্য বিলের ওপর সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। বাকি সদস্যদের ভূমিকা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এছাড়া বিল পাসের ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে সরকারী দল একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

সংসদ নিয়ে এই প্রতিবেদনে টিআইবি বলছে, অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের যথাযথ আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, সংসদে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক শব্দের ব্যবহার অব্যাহত ছিল। অধিবেশন চলাকালীন সদস্যদের বিচ্ছিন্নভাবে চলাফেরা, কোন সদস্যের বক্তব্য চলাকালীন তার নিকটবর্তী আসনের সদস্যদের নিজ আসনে বসে নিজেদের মধ্যে কথোপকথন এবং সংসদ অধিবেশনে সদস্যদের অমনোযোগিতাও ছিল। কোন কোন ক্ষেত্রে সদস্যদের বক্তব্যে অসংসদীয় ভাষা (কটূক্তি) ব্যবহার বন্ধে স্পীকার নীরব ছিলেন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সরকারদলীয় সদস্যের পাবলিক পরীক্ষায় ‘অসাধু উপায়’ অবলম্বন এবং একজন বিরোধী সদস্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করে তা নিয়ম-বহির্ভূতভাবে বিক্রি করলেও তাদের বিরুদ্ধে সংসদ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বর্তমান সংসদকে কার্যকর করতে বেশ কিছু সুপারিশও করেছে সংস্থাটি। এগুলো হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাস্তবিক অর্থে অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে, সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জন্য সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করতে হবে, যেখানে স্বীয় দলের বিরুদ্ধে অনাস্থার ভোট এবং বাজেট ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে সদস্যদের নিজ বিবেচনা অনুযায়ী ভোট দেয়ার সুযোগ রাখা, ‘সংসদ সদস্য আচরণ আইন’ প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে সংসদ সদস্যদের সংসদের ভেতরে এবং বাইরের আচরণ ও কার্যক্রম সম্পর্কে আন্তর্জাতিক চর্চা অনুসারে নির্দেশনা থাকা। এছাড়া সংসদীয় কার্যক্রম এমন হবে যেখানে সরকারী দলের একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে কার্যকর বিরোধী দলের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, অষ্টম ও নবম সংসদে সমস্যার মূল যে জায়গা সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি অগ্রহণযোগ্য ছিল। সেটি বন্ধ হয়েছে চড়া দামে। এত বেশি চড়া দামে যে মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মতো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত নির্বাচনের সংস্কৃতি আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। শান্তিপূর্ণ এবং স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা রদবদলের সম্ভাবনা দূরীভূত হয়েছে। তারই প্রভাব আমরা দেখতে পারছি জাতীয় সংসদের মধ্যে।

শীর্ষ সংবাদ:
দারিদ্র্য থাকবে না ॥ সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশে         মৌলবাদীরা গুজব রটিয়ে নিরীহ মুসল্লিকে হত্যা করেছে         চুরির পর বদলে যাচ্ছে গাড়ির রং ও ব্র্যান্ড         শেয়ারবাজারের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, স্টক এক্সচেঞ্জেরও         অর্থমন্ত্রীর আহ্বানে আইএফসির ইতিবাচক সাড়া         শেষ মুহূর্তের প্রচার যুদ্ধে ট্রাম্প ও বাইডেন         টাঙ্গাইলে সালিশে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা         তিন বছরে নতুন ১২ লাখ অভিবাসী নেবে কানাডা         ৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হবে শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাব         রায়হানকে ছিনতাইকারী সাজানোর হোতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন         স্বামীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ৪ বছর ধরে ধর্ষণ         ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় ডিবি পরিচয়ে হামলা         পায়রা বিদ্যুত কেন্দ্র পরিবেশ দূষণের ধারে কাছেও নেই         করোনায় দেশে আরও ১৮ জনের মৃত্যু         বাংলাদেশের ইতিহাসে যুবদের অবদান চিরঅম্লান : রাষ্ট্রপতি         মুজিব বর্ষেই গ্রিড এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হবে : প্রতিমন্ত্রী         ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের জন্য দোয়া         সংঘবদ্ধ দুর্নীতিবাজ চক্রকে ধ্বংস করতে সুশাসনের সংগ্রাম জাতীয় কর্তব্য॥ ইনু         স্টক একচেঞ্জকেই প্রথমে কারসাজি ধরতে হবে ॥ সালমান এফ রহমান         বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নৌপথ ॥ নৌ প্রতিমন্ত্রী