ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

সংস্কৃতি সংবাদ

শিল্পকলার ভার্চুয়াল আয়োজন ‘বাংলার মহানায়ক’

প্রকাশিত: ২২:৫৮, ২৩ আগস্ট ২০২০

শিল্পকলার ভার্চুয়াল আয়োজন ‘বাংলার মহানায়ক’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শোকের মাস আগস্টে সহজাতভাবেই তিনি বারংবার সামনে আসেন। আরও বেশি উচ্চারিত হয় বাংলার অবিসংবাদিত নেতার কীর্তিগাথা। নানা আয়োজন-আনুষ্ঠানিকতায় খুঁজে ফেরা হয় বাঙালী জাতিসত্তার স্বাধীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের মহান স্থপতিকে। সন্ধান করা হয় তার স্বপ্নের স্বদেশকে। সেসব আনুষ্ঠানিকতায় জাতির পিতাকে স্মরণের পাশাপাশি তার প্রতি নিবেদিত হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি। শোকাবহ আগস্টের তেমন এক অনুষ্ঠান ‘বাংলার মহানায়ক’। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি এই ভার্চুয়াল স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে। শনিবার বিকেলে একাডেমির ফেসবুকে সম্প্রচারিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিবেদিত গান-কবিতায় সজ্জিত অনুষ্ঠানটি। পিয়ানোর কোমল সুরে স্মরণানুষ্ঠানের সূচনা হয়। রবীন্দ্রনাথকে আশ্রয় করে ভেসে বেড়ায় ‘সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে, শোনো শোনো পিতা’ গানের সুরটি। বাজিয়ে শোনান রূপতনু শর্মা। রাজধানীর ঢাকার সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশের নানা অঞ্চলের শিল্পীরা। সঙ্গে যুক্ত হন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাধক শিল্পী পার্বতী বাউল। গলায় রুদ্রাক্ষের মালা আর গেরুয়া বসন পরিহিতা বাউল একতারায় সুর তুলে কণ্ঠে তুলে নেন লালন ফকিরের বাণী। গেয়ে শোনান ‘পিরিতে বাঁধিবো ঘর’। ছড়াকার ও কবি আসলাম সানী পাঠ করেন ‘আসুন পিতা’ শিরোনামের কবিতা। কানন বালা সরকার গেয়ে শোনানÑ মুজিব বাইয়া যাওরে/নির্যাতিত দেশের মাঝে জনগণের নাওরে মুজিব বাইয়া যাওরে ...। আহসানউল্লাহ তমাল পাঠ করেন নির্মলেন্দু গুণের কবিতা ‘শোকগাথা : ১৬ আগস্ট ১৯৭৫’। গার্গী ঘোষ গেয়ে শোনান ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’। স্বরচিত সঙ্গীত পরিবেশন করেন জাফর আহমেদ। গেয়ে শোনান ‘হে বঙ্গবন্ধু ত্যাগের মহিমায় অম্লান হয়ে রয়েছো বিশ্বময়’। সানজিদা রহমান মীম গেয়ে শোনান ‘বঙ্গবন্ধু দেখো তোমারই জন্য বাংলার আকাশে গাংচিল উড়ে য্য়া’। আবিদ হাসান পরিবেশন করেন ‘বঙ্গবন্ধু তুমি সবার মনের কবিতা/স্মৃতির পাতায় লেখা তুমি একটি কবিতা’ শীর্ষক সঙ্গীত। সূচনা বক্তব্যে একাডেমির মহাপরিচালক আলী লাকী বলেন, হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাকে না পেলে আমরা বাংলাদেশ পেতাম না। সবার উপরে মানুষ সত্যÑএই দর্শনকে ধারণ করে তিনি রাজনীতি করেছেন। তিনি বলতেন, সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ গড়তে হবে। আমাদের দেশের শিল্পীরা সেই কাজটি করে যাচ্ছেন। আমরা সুন্দর মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি। শেখ হাসিনার মানবিক বাংলাদেশ গড়ার কাজ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন সকলে। ২০৪১ সালের মধ্যে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরন্তরভাবে চলছে সেই কর্মধারা। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলা সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে চাই। পঁচাত্তরের শোককে আমরা শক্তিতে পরিণত করতে চাই।