সোমবার ৬ আশ্বিন ১৪২৭, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বিশেষ উপস্থাপনা পুরনো ইতিহাস অমূল্য স্মারক

বিশেষ উপস্থাপনা পুরনো ইতিহাস অমূল্য স্মারক
  • ডাকটিকেটে বঙ্গবন্ধু

মোরসালিন মিজান ॥ চিঠি লেখার যুগ শেষ হয়েছে। একই কারণে চোখে পড়ে না ডাকটিকেট। সেই যে হলুদ রঙের খাম পোস্টকার্ড, আহা, কত চেনা! আজ আর কেউ এসবের খোঁজ করে না। তবে এগুলোর কোনটিই একেবারে হারিয়ে যায়নি। বহুকালের পুরনো ডাকটিকেট, ব্যবহৃত অব্যহৃত খাম, পোস্টকার্ড ইত্যাদি সযতেœ সংরক্ষণ করছেন অনেকেই। এবং ভাবতে ভাললাগে যে, শৌখিন সংগ্রহের বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

ডাক মাধ্যমটিতে বঙ্গবন্ধুকে বিশেষভাবে খুঁজে পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ডাকটিকেটে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দেখে বিদেশীদের অনেকে বাংলাদেশ দেখেছিলেন। একইভাবে মুক্ত স্বাধীন দেশে জাতির জনকের প্রতিকৃতি সংবলিত ডাকটিকেট, তাকে লেখা চিঠির খাম অমূল্য স্মারক হয়ে উঠেছিল। পঁচাত্তরের পর মুজিব নাম মুছে ফেলার যে গভীর ষড়যন্ত্র হয়, তারও প্রভাব পড়ে ডাক বিভাগে। আজকের সংগ্রহ ঘেঁটে, পর্যবেক্ষণ করে এমন আরও অনেক সত্য জানা যায়।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংবলিত ৪০টি স্মারক ডাকটিকেট, ১২টি সুভেনির শিট, ৪৭টি উদ্বোধনী খাম, ৩টি বিশেষ খাম, ৪টি বিশেষ সিলমোহর, ২টি ফোল্ডার, ১টি ইনফরমেশন শিট, ৮টি এ্যারোগ্রাম ও ৫ প্রকারের পোস্টকার্ড প্রকাশ করা হয়। এগুলোর সব এখন ব্যক্তি উদ্যোগে সংরক্ষিত হচ্ছে। কখনও কখনও আলাদা করে প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হচ্ছে।

শোকের মাস আগস্টে দুর্লভ সংগ্রহ ঘেঁটে ও তথ্য সংগ্রহ করে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকেট প্রকাশিত হয়। একসঙ্গে ৮টি ডাকটিকেট প্রকাশ করে অস্থায়ী সরকার। একটিতে ছিল পাকিস্তান কারাগারে বন্দী বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। এ ছবির দিকে তাকিয়ে বহু বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশকে চিনেছিলেন তখন। প্রথম ডাকটিকেটের ডিজাইন করেছিলেন লন্ডন প্রবাসী বিমান মল্লিক। চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পর ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর একই ডাকটিকেটে ‘বাংলাদেশের মুক্তি’ ও ‘ইধহমষধফবংয খরনবৎধঃবফ’ কথাগুলো ওভারপ্রিন্ট করা হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর বদলে যায় প্রেক্ষাপট। সব জায়গার মতো ডাকটিকেট থেকেও মুছে ফেলা হয় শেখ মুজিবের নাম। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন করে জেগে ওঠে দেশ। ডাকটিকেটেও ফিরে পাওয়া যায় মহান নেতাকে। ওই বছরের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত একটি স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশিত হয়। ডিজাইনার ছিলেন মতিউর রহমান। টিকেটের মূল্যমান ছিল ৪ টাকা। পরবর্তী সময়ে বিশেষ বিশেষ দিবসে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করা হয়। ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর, ১৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট প্রকাশিত হয় স্মারক ডাকটিকেট। এসব টিকেটে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।

১৯৯৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ২৫ বছর পূর্তি উদ্যাপন করে বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় বিশেষ ডাকটিকেট। ডাকটিকেটে যুক্ত করা হয় বঙ্গবন্ধুর একটি বাছাই করা ছবি। সংগ্রাহক শামসুল আলমের সংগ্রহে আছে এই ডাকটিকেট।

এরপর আবারও লম্বা সময় ধরে খুঁজে পাওয়া যায় না শেখ মুজিবুর রহমানকে। কয়েক বছর পর ২০০৮ সালের ২৯ জুলাই ডাকটিকেট দিবস উপলক্ষে একটি সুভেনির শিট প্রকাশিত হয়, সেখানেও ফিরে পাওয়া যায় প্রিয় মুখ। ডাকটিকেটটির নক্সা করেন জসিম উদ্দিন।

বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত স্ট্যাম্প, যেগুলো বিভিন্ন সময়ে ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলোও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সাইফুল ইসলাম নামের এক সংগ্রাহক জানান, পরিত্যক্ত পুরনো চিঠির বস্তা থেকে এসব তিনি আলাদা করেছেন। সরকারী বিভিন্ন দফতর ব্যাংক বীমার বড় কর্তাদের উদ্দেশ্যে এসব চিঠি লেখা হয়েছিল।

ব্যবহৃত খামেও খুঁজে পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধুকে। লেখা চিঠির খাম সংগ্রহ করেছেন তারা। সে সূত্রেই জানা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকার প্রধানকে চিঠি লিখতেন নাগরিকেরা। বিদেশ থেকেও চিঠি এসেছে। হলুদ খামগুলোর বাম পাশে প্রেরকের নাম ঠিকানা লেখা। একেক সময় একেক নাম। তবে প্রাপক একজনইÑ বঙ্গবন্ধু। কখনো গণভবনের ঠিকানায় তাঁকে লেখা হয়েছে। কখনও ধানমম-ি ৩২ নম্বরের বাসভবনের ঠিকানায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের পুরো ঠিকানা ক’জন আর জানেন? তাতে কী? মুজিব লিখতেই প্রাপকের কাছে চলে এসেছে চিঠি! রাজবাড়ির প্রভারানী সরকার তো প্রাপকের স্থানে ‘হইতে’ লিখে দিয়েছেন। নিচে লিখেছেন, ‘মোঃ শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ, ঢাকা।’ এরপরও কে প্রেরক আর কে প্রাপক বুঝতে বাকি থাকে না। চিঠিটি আজ তাই ইতিহাসের স্মারক হয়ে বিশেষ মর্যাদায় সংরক্ষিত হচ্ছে।

ডাকটিকেটের মতো, অনেক পুরনো পোস্টকার্ডেও আছেন শেখ মুজিব। এ্যারোগ্রাম আরও দুর্লভ। সেখানেও মহান নেতাকে খুঁজে পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত পোস্টকার্ডের একটি সংগ্রহ রয়েছে ইফতেখার হোসাইনের। হালকা হলুদ রঙের পোস্টকার্ডের ডান কোণে ছোট্ট করে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। ডিজাইন করেছিলেন কে.জি মোস্তফা। পোস্টকার্ড খুব অল্প খরচে চিঠি লেখার মাধ্যম। ১৯৭৩ সালে ছাড়া একটি পোস্টকার্ডের মূল্যমান ছিল ১০ পয়সা। বঙ্গবন্ধুর ছবি আছে এ্যারোগ্রামেও। স্বাধীনতার পর পরই চালু হয়েছিল এ্যারোগ্রাম। ওই বছরই বন্ধ হয়ে যায় প্রকাশনা। খুব পাতলা খামের মতো দেখতে। কাগজের ভেতরের অংশে চিঠি লেখা হতো।

এ্যারোগ্রাম থেকে বঙ্গবন্ধুকে খুঁজে নিয়েছেন ইফতেখার হোসাইন। জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, ডাকটিকেট সংগ্রহ অনেকেরই হবি। এখন তেমন দেখা যায় না। তবে আমরা যারা পুরনো তাদের কাছে নানা সংগ্রহ আছে। উল্লেখযোগ্য একটি বলতে পারেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংবলিত ডাকটিকেট ও পোস্টকার্ড। বাড়তি আবেগ ভালবাসা থেকে এগুলো সংগ্রহ করেছেন বলে জানান তিনি।

আরেক সংগ্রাহক গোলাম আবেদ বলেন, মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ধরে রাখার নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমরাও আমাদের ক্ষুদ্র চেষ্টা করেছি। ইন্টারনেটের যুগে চিঠি খাম ডাকটিকেট হারিয়ে যাচ্ছে। হয়তো থাকবেই না। ঠিক তখন এই সংগ্রহ মুজিবের কথা বলবে বলে জানান তিনি।

শীর্ষ সংবাদ:
প্রণোদনায় গতি ॥ করোনার ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি         শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে, এখন থেকে প্রস্তুতি চাই         অনলাইনে ৩৬ টাকা দরে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরু         তিতাসের বকেয়া সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা উদ্ধারের সুপারিশ         গ্রীষ্মকালে পেঁয়াজ আবাদ করা গেলে ঘাটতি থাকবে না         আবার সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসছে         আইনমন্ত্রীর সহায়তায় নবজাতককে ফিরে পেলেন আঞ্জুলা         পাঁচ কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদনে বাধা নেই         স্বাস্থ্যের ড্রাইভারের ঢাকায় একাধিক বাড়ি, গাড়ি, শত কোটির মালিক         ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়ানোর উদ্যোগ         ইস্পাত কারখানায় গলিত লোহা ছিটকে দগ্ধ পাঁচ শ্রমিক         যোগান বাড়াতে পেঁয়াজের শুল্ক প্রত্যাহার         ব্যাংক যেন ভালোভাবে চলে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর         ‘বিএনপি নেতাদের কারণেই খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর দাবি ওঠতে পারে’         করোনা ভাইরাসে আরও ২৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৫৪৪         ঢাবি শিক্ষার্থী ধর্ষণ ॥ আসামি মজনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন বাবা         করোনা ভাইরাসমুক্ত হলেন অ্যাটর্নি জেনারেল         দুদকের মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপের জামিন নামঞ্জুর         ‘বিএনপির আন্দোলনের তর্জন গর্জনই শোনা যায়, কিন্তু বর্ষণ দেখা যায় না’         সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল করল বেবিচক