শনিবার ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

নদী ভাঙ্গন ও ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আহাজারি

নদী ভাঙ্গন ও ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আহাজারি

নিজস্ব সংবাদদাতা পিরোজপুর ॥ যে কয়টা দিন বেঁচে আছি, তত দিন পর্যন্ত শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা করতে পারবো কিনা এ নিয়েও সংশয় রয়েছেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ আবুল খায়ের, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার কঁচা নদীর পাড়ে টগড়া গ্রামে তার বাড়ি। এক সময় নদীর পাড়ে ফসলি জমিসহ আরও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছিল। এখন থাকার জায়গাটুকু ছাড়া অবশিষ্ট কিছুই নেই। আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতের কাজে ব্যস্ত আবুল খায়ের জানান, কঁচা নদীর ভাঙনের কারণে এ পর্যন্ত তিন বার ঘর সরাতে হয়েছে। এবারের জলোচ্ছাসে তার ঘরের মেঝের মাটি ধুয়ে গেছে। জীবনে যা উপার্জন করেছেন তার বেশিরভাগটাই ব্যয় হয়ে গেছে বার বার ঘর সরাতে আর মেরামতে। আবুল খায়ের বলেন, বিভিন্ন সময় জলোচ্ছ্বাসে বিলীন হয়েছে তার ঘর। আম্পানের রাতে জলোচ্ছ্বাসে তার ঘরটি দাঁড়িয়ে থাকলেও ভেসে গেছে বাকি সবকিছু। আম্পানে ঝড়ে রাতের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঝড়ের আগেই আমরা পাশের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাই। এর মধ্যে ঘরের সব মালামাল ভেসে গেলেও কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।’ এই গল্প শুধু আবুল খায়েরের একার নয়। একই গল্প বেড়িবাঁধ বিহীন কঁচা নদীর পাড়ে বাস করা প্রায় সব মানুষের। টগড়া গ্রামের আরেক বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম জানান, আম্পানের জলোচ্ছ্বাসে তার ঘরের সব আসবাবপত্র ভেসে গেছে। মেঝের মাটি ধুয়ে গেলেও শুধু ঘরটি দাঁড়িয়ে আছে। জানা নেই এই ঘর কবে তিনি মেরামত করতে পারবেন। পিরোজপুরের ইন্দুরকানী টগড়া ফেরিঘাটে মাটি দিয়ে গত বছর একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেও এবছর আপম্পানের জলোচ্ছ্বাসে সেটি বিলীন হয়ে গেছে। ইন্দুরকানী উপজেলার চারাখালী গ্রাম থেকে পাড়েরহাট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার জায়গায় কোনো বেড়িবাঁধ নেই। এক সময়ে কঁচা নদীর পাড়ে মাটির বেড়িবাঁধ ছিল। সিডরে সেটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধ না থাকায় এখন তিন হাজার লোককে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সিদ্দিকুর রহমান নামে স্থানীয় এক বৃদ্ধ জানান, জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত তাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। এ সময়টায় নদীর পানিতে গ্রাম প্লাবিত হয়। তখন চাইলেই কেউ বাইরে বের হতে পারেন না। ‘বছরের চার মাস আমরা মসজিদে যেতে পারি না। এমনকি কেউ মারা গেলে জানাজার ব্যবস্থা পর্যন্ত করা যায় না,’ বলছিলেন সিদ্দিকুর। এ কারণে তাদের গ্রামে কেউ ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতে চায়না বলেও জানান তিনি। স্থানীয় শিক্ষক শাহজাহান হাওলাদার জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানালেও, তা বাস্তবায়ন হয়নি।‘আমরা বার বার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আমাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছি। কিন্তু তারা সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর কেউ আমাদের খোঁজও নেয় না,’ অভিযোগ করেন শাহজাহান। তবে গত বছর টগড়া ফেরিঘাট থেকে শুধু মাটি দিয়ে কিছু জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল যা আম্পানে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। তাই চারাখালী থেকে পাড়েরহাট পর্যন্ত স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।

এ ব্যাপারে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, টগড়া ও পাড়েরহাট গ্রামে মাটি ও জিও ব্যাগ দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ:
কালো সোনার হাতছানি ॥ অমিত সম্ভাবনার ব্লু ইকোনমি         দীর্ঘদিন ক্ষমতায় আছি বলেই সুফল পাচ্ছে জনগণ         উত্তরাঞ্চলে অকালবন্যা, পানিবন্দী কয়েক লাখ মানুষ         ক্ষমতায় আসার জন্য বিএনপি ষড়যন্ত্রের অলিগলি খুঁজছে         বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ২০ হাজার কোটি টাকার বাজেট সহায়তা দিচ্ছে         চাঞ্চল্যকর নিলা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার         এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভাতিজির প্রতারণার মামলা         সঙ্কট মেটাতে ১১ দেশ থেকে দ্রুত পেঁয়াজ আসছে         মালেকের উত্থানের নেপথ্যে         করোনা টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা         জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণের ৪৬ বছর পূর্তিতে স্মারক ডাকটিকেট         বর্তমান বিশ্বে কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে ॥ প্রধানমন্ত্রী         অবৈধপথে ক্ষমতা দখলে ষড়যন্ত্রের গলি খুঁজছে বিএনপি ॥ কাদের         ইয়েমেনে পরাজিত সৌদি রাজা সালমান প্রলাপ বকছেন: ইরান         মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পর্যবেক্ষণের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করল আইআরজিসি         একসঙ্গে দুটি বিরল রোগে আক্রান্ত নবজাতক         করোনায় আরও ২১ জনের মৃত্য ॥ নতুন আক্রান্ত ১৩৮৩         জলবায়ু পরিবর্তন ॥ পৃথিবী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব         সার্কভুক্ত দেশগুলোকে নিবিড় সহযোগিতার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর         লন্ডনে থানার ভেতর পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা