ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

চ্যাম্পিয়ন হলেই সোনার ট্রফি

প্রকাশিত: ০৯:৩৮, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

চ্যাম্পিয়ন হলেই সোনার ট্রফি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ছয় বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে মহিলা ফুটবল লীগের তৃতীয় আসর। আজ শনিবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বিকেল ৩টায় উদ্বোধনী ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস মুখোমুখি হবে বেগম আনোয়ারা স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথমে এই আসরে আট দলের অংশ নেয়ার কথা থাকলেও পরে একেবারে অন্তিম সময়ে এসে বাদ দেয়া হয় একটি ক্লাবকে। সেই দলটির নাম স্বপ্নচূড়া এ্যান্ড আক্কেলপুর ফুটবল একাডেমি। বাকি দলগুলো হচ্ছে : এফসি উত্তরবঙ্গ, নাসরিন স্পোর্টিং, কাচারীপাড়া একাদশ, কুমিল্লা ইউনাইটেড এবং স্পার্টান এমকে গ্যালাকটিকো সিলেট এফসি। অথচ স্বপ্নচূড়া নির্ধারিত সময়েই দলবদলে অংশ নিয়েছিল। তারপরও তাদের খেলা হচ্ছে না। বাদ পড়েও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেছিল ক্লাবটি। তাদের সেই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে দেশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। লীগের পৃষ্ঠপোষক ট্রিকোটেক্স। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ‘চলো খেলি।’ তাদের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। লীগ আয়োজন করতে যত ধরনের সহযোগিতা এবং যত অর্থ লাগবে তার যোগান দেবে তারা। শুক্রবার বাফুফে ভবনে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের মহিলা ফুটবল লীগ কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ, বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ, টাইটেল স্পন্সর শের-এ-বাংলা ন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ কে ফায়জুল হক, চলো খেলি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আশিক রহমান, চলো খেলি ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি মাজেদুল ইসলাম প্রমুখ। লীগে অংশগ্রহণকারী দলগুলো সবাই দুই লাখ টাকা করে পাবে। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন দল পাবে দুই লাখ এবং রানার্সআপ দল পাবে এক লাখ টাকা করে। শিরোপাধারী দল পাবে সোনার প্রলেপ দেয়া সোনার ট্রফি। ট্রফি তৈরি করা হবে ফিফা বিশ্বকাপের আদলে। শুক্রবার বেলা পৌনে ৩টায় লীগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। এই লীগে কোন রেলিগেশন থাকছে না। তবে প্রতিটি দলেরই র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হবে। যেহেতু ক্লাবগুলোকে প্রতি বছরই ক্লাব লাইসেন্স করাতে হয়, তার ভিত্তিতে আগামী লীগে ক’টি দল খেলবে তা ঠিক করা হবে। তবে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দল বাড়তেও পারে। মূলত এই লীগের আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল বাফুফের আবাসিক ক্যাম্পে ডাক পাওয়া খেলোয়াড় যেন এই লীগ খেলে আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ক্যাম্পে থাকা অর্ধেকেরও বেশি ফুটবলার কোন দল পায়নি। যারা দল পেয়েছে তাদের সর্বাধিক ১৯ জনই খেলবে বসুন্ধরা কিংসে। সে জন্য অনেকেই বলছেন বসুন্ধরাই যেন জাতীয় দল এবং তারা হেসে-খেলেই চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে। কেননা পেশাদার লীগের অন্য ক্লাবগুলো এই লীগে অংশ নেয়নি। শেখ জামাল ধানম-ি এবং শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র দল গড়েও শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। কেন অন্য দলগুলোকে বাফুফে লীগে রাজি করাতে পারল না? এর ব্যর্থতার দায়ভার অবশ্য নিতে নারাজ বাফুফে। এ প্রসঙ্গে আবু নাইম সোহাগ বলেন, ‘বাফুফে লীগ খেলতে কাউকে জোর করতে পারে না,অনুরোধ করতে পারে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। জামাল ও রাসেল রাজিও হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা আর্থিক সঙ্কটের কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ায়।’ দু’বার লীগ পেছানোর কারণ হিসেবে সোহাগের ব্যাখ্যা, ‘সিটি নির্বাচন এবং ক্লাবগুলোর অনুরোধেই দুইবার লীগ পেছাতে হয়েছে। দল গঠনের পর থেকে লীগ শুরুর আগ পর্যন্ত যে সময়টা ছিল, সেটা অনুশীলনের জন্য অপ্রতুল মনে করে তারা এই অনুরোধ করে। তাদের দাবি ছিল লীগ একমাস পেছাতে হবে। কিন্তু আমরা পিছিয়েছি মাত্র এক সপ্তাহ।’ আগামীতে প্রতিটি পেশাদার ক্লাবকে তাদের মহিলা ফুটবল দল গঠন করা এবং মহিলা লীগে খেলানো বাধ্যতামূলক করা প্রসঙ্গে সোহাগের ভাষ্য, ‘এটি অনেক কঠিন একটি প্রক্রিয়া, তবে আমরা এটা করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’