ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

সৈয়দপুরের তৈরি শীতের জ্যাকেট যাচ্ছে তিন দেশে

প্রকাশিত: ০৯:৩২, ৩০ জানুয়ারি ২০২০

সৈয়দপুরের তৈরি শীতের জ্যাকেট যাচ্ছে তিন দেশে

তাহমিন হক ববী, নীলফামারী ॥ বাংলাদেশের অষ্টম ব্যবসা বাণিজ্যের শহর নীলফামারীর সৈয়দপুরে জুটকাপড় থেকে তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের জ্যাকেট। যা দেশের বাজারে বিক্রির পাশাপাশি রফতানি হচ্ছে তিন দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানে। এ পর্যন্ত এক লাখ ডলারের বিপরীতে ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা মিলে এক লাখ শীতের জ্যাকেট রফতানি করা হয়। আরও এক লাখ জ্যাকেট রফতানির জন্য তৈরি করা হচ্ছে। শুক্রবার সৈয়দপুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় চলতি মৌসুমে শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় দেশে ও বিদেশে গরম কাপড়ের চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের সর্ব উত্তরের রংপুর বিভাগের আট জেলায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। পাশাপাশি এমন শীত চলছে পার্শ্ববর্তী ভারত নেপাল ও ভুটানে। ফলে শীতের জ্যাকেটের চাহিদাও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জুটকাপড় দিয়ে পোশাক তৈরি করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের ৫০০ পরিবার। সৈয়দপুর পৌর এলাকার মুন্সীপাড়া, নয়াটোলা, হাতিখানা, মিস্ত্রিপাড়া, নতুন বাবুপাড়া, পুরাতন বাবুপাড়া, গোলাহাট, রাবেয়া মোড়, ঘোড়াঘাট, বোতলাগাড়ী, বাঁশবাড়ী, নিয়ামতপুরমহ আটকে পড়া পাকিস্তানীদের একটি বড় অংশের ঘরে ঘরে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা। এতে একেকটি বাড়ি পরিণত হয়েছে একেকটি পোশাক কারখানায়। প্রতি কারখানায় সর্বনি¤œ দুটি থেকে সর্বোচ্চ ৪৫টি পর্যন্ত মেশিন রয়েছে। সৈয়দপুরের জুট কাপড়ের জ্যাকেট অনেক সুন্দর। তাই উত্তরাঞ্চলের কাপড় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা সৈয়দপুর এসে জ্যাকেটসহ অন্যান্য তৈরি পোশাক ক্রয় করে এলাকায় নিয়ে বিক্রি করছে। জ্যাকেটের মান অনুযায়ী এক একটি জ্যাকেট তিন শত টাকা হতে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। জানা গেছে, পাকিস্তান আমল থেকেই সৈয়দপুরে জুট কাপড় থেকে নানা ধরনের পোশাক তৈরি হয়ে আসছে। তবে ২০০২ সালে রফতানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক গ্রুপ, সৈয়দপুর নামে পোশাক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন গড়ে ওঠার পর এর পরিধি অনেক বেড়ে যায়। এখানকার কারখানাগুলোতে তৈরি হচ্ছে ট্রাউজার, শর্টস (হাফ প্যান্ট), জ্যাকেট, টি-শার্ট, জিনসের প্যান্টসহ নানা ধরনের পোশাক। স্থানীয় বাজারে সরবরাহের পাশাপাশি এসব পোশাক রফতানি হচ্ছে ভারত, ভুটান ও নেপালে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব কারখানাকে সরকার যদি নির্দিষ্ট জায়গা দিয়ে একটি পল্লী করে দেয়, তাহলে এ শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটবে এবং রফতানি আরও বাড়বে। এই শিল্পে অর্থায়ন করতে এবং মালিক ও কারিগরদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ২০১১-১২ অর্থবছরে এনসিসি ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ শতাংশ সুদে ব্যবসায়ীদের জন্য দেড় কোটি টাকার ঋণের ব্যবস্থা করে। সৈয়দপুরের ব্যবসায়ীরা পোশাক তৈরি করতে ঢাকার মিরপুর, কালিগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানের পোশাক কারখানাগুলো থেকে জুট কাপড় কিনে আনেন। পাশাপাশি সুতা, বোতাম, ইলাস্টিক, প্যান্টের পকেট বানানোর স্টিকার, পুরোনো সেলাই মেশিনও সংগ্রহ করেন। ব্যবসায়ীরা জানান, জুট কাপড় ও উপকরণসমূহ কেনা হয় কেজি হিসেবে। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এবারের শীতে তাদের কাজ বেড়েছে। প্রতিদিন তাদের কর্মব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এক এক জন কারিগরের মাসিক আয় প্রায় ২৫ হাজার টাকার মতো।