ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন মুক্তিযোদ্ধা মজিদ

প্রকাশিত: ০৯:২৫, ২৯ মার্চ ২০১৯

 দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ  করছেন মুক্তিযোদ্ধা মজিদ

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ যুদ্ধ চলাকালে ১৮ বছরের টগবগে যুবক মীর আব্দুল মজিদ টানা নয়মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে একাধিক স্থানে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ যোদ্ধা স্বাধীনতার বিজয় পতাকা ছিনিয়ে আনলেও জীবনযুদ্ধে পুরোপুরি পরাজিত। আজও তাকে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্ব মুন্ডপাশা গ্রামের মৃত মাজেদ আলীর পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর আব্দুল মজিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ তারা ১১ জনের একটি দল গঠন করেন। প্রথমে তারা স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা ১১ জন একসঙ্গে ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে ফেরার সময় যশোরের কালীগঞ্জে অধিনায়ক ওয়াজেদ গাজী ও কোম্পানি কমান্ডার আওলাদ হোসেনের নেতৃত্বে পাক সেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ওই যুদ্ধে তিনি (মীর আব্দুল মজিদ) সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে বীরত্বের ভূমিকা পালন করেছেন। এরপর তারা ১১ জনই ৯নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর এমএ জলিলের নেতৃত্বে একাধিক সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর আব্দুল মজিদ (৬৬) বলেন, দেশ স্বাধীনের পর সহযোগীদের নিয়ে আমি খুলনার হাদিস পার্কে আমার ৩০৩ রাইফেল জমা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে একটি দুর্ঘটনায় আমার মুক্তিযুদ্ধের সকল কাগজপত্র হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে সহযোদ্ধাদের পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হলে নির্ধারিত ফরম ও পরবর্তীতে অনলাইনে আবেদন করেছিলাম। ১০ জন সহযোদ্ধার জোরালো সাক্ষীতে আমাকে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।