ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের কৃত্রিম মুনাফা

প্রকাশিত: ০৪:১৫, ২৬ আগস্ট ২০১৮

  সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের কৃত্রিম মুনাফা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের ঋণ জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে দেশে কাঁচামাল পাওয়া গেলেও তা দিয়ে মুনাফা করা সম্ভব না। তবে এরই মধ্যে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়েছেন। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ’১৮) ব্যবসায় এবং মুনাফা করেছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তবে এক্ষেত্রে কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। জানা গেছে, কোম্পানিটি গত ২০১৪ সালে শেয়ারবাজার থেকে ১৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তবে তালিকাভুক্তির পরের অর্থবছরেই বা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে লোকসানে পতিত হয়। এরপরে ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে। যা বিদ্যমান ছিল চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধ (জুলাই-ডিসেম্বর ’১৭) পর্যন্ত। তবে এরপরের প্রান্তিকে মুনাফা হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে শেয়ারপ্রতি ০.৪২ টাকা লোকসান করা সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ তৃতীয় প্রান্তিকে ০.৪৩ টাকা মুনাফা করেছে। যাতে ৯ মাসের (জুলাই ১৭- মার্চ ১৮) হিসাবে শেয়ারপ্রতি মুনাফা দাঁড়িয়েছে ০.০১ টাকা। কোম্পানিটি ২ ধরনের পণ্য উৎপাদন করার তথ্য দিয়ে শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করে। এর মধ্যে কোম্পানিটির প্রধান পণ্য হচ্ছে পিভিসি ফিল্ম/সিট। যা দিয়ে ওষুধ শিল্পের মেডিসিন মোড়কের জন্য কাভার তৈরি করা। আর অন্যটি হচ্ছে পিভিসি/পিপি। এক্ষেত্রে একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ান টাইম) পানির কাপ, আইসক্রিম কাপ, চা-কফির কাপ, প্লেট ইত্যাদি। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট বিক্রয়ের ৫৫ শতাংশ ছিল পিভিসি ফিল্ম/সিট পণ্যের ও বাকি ৪৫ শতাংশ পিভিসি/পিপি পণ্যের দখলে ছিল। তবে মেশিনারিজ অকেজো ও কাঁচামাল আমদানি বন্ধের কারণে পিভিসি ফিল্ম/সিট পণ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার পিভিসি/পিপি পণ্য উৎপাদনে মুনাফা করা সম্ভব না। সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের উদ্যোক্তা জাহিদুল হক বলেন, এই কোম্পানিটি আমি নিজ হাতে তৈরি করেছি। এর একমাত্র উদ্যোক্তা আমি। যার প্রতিটি ইট, নাট আমাকে চেনে। তবে কষ্ট লাগে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে কাঁচামাল আমদানিতে এলসি বন্ধ ও মেশিনারিজ অকেজো হয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, বর্তমানে সুহৃদের মেশিনারিজগুলো অকেজো অবস্থায় রয়েছে। এগুলো মেরামত করতে সময় লাগবে। আর এই মেরামতে বিদেশ থেকে টেকনিশিয়ান আনতে হবে। সেটা সময় সাপেক্ষ্য। আর ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে এরই মধ্যে এনআরবি ব্যাংকের ঋণ ২ দফায় পুনঃতফসিল করা হয়েছে। তারপরেও যথাযথভাবে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে ব্যাংকটি কাঁচামাল আমদানিতে এলসি বন্ধ করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় গত ১ বছর ধরে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের শুধুমাত্র পিপি মেশিনটি ঠিক আছে। তবে কাঁচামাল আমদানি অসম্ভব হওয়ায় সেটিও বন্ধ রয়েছে। আর দেশী কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদন করে মুনাফা করা অসম্ভব। সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, আমদানি করতে না পারলেও দেশী কাঁচামাল দিয়ে পিপি মেশিনের মাধ্যমে চা-কফির কাপ, বাটি ইত্যাদি তৈরি করা হচ্ছে। এই উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে সুহৃদ মুনাফায় ফিরেছে। আর ওষুধ শিল্পের জন্য দ্রব্য উৎপাদন পুনরায় শুরু করার জন্য কাজ চলছে বলে জানান তিনি। মাহমুদুল হাসান বলেন, নষ্ট হওয়া মেশিনারিজের ৮০ শতাংশ মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া গ্যাস জেনারেটরটি মেরামত করার কাজ চলছে বলে যোগ করেন।