ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

কুড়িগ্রামে বন্যায় কৃষকের ক্ষতি প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা

কৃষি পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত সোয়া ৩ লাখ কৃষক

প্রকাশিত: ০৪:৫২, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

কৃষি পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত সোয়া ৩ লাখ কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সোয়া ৩ লাখ কৃষক এখনও পায়নি সরকারী বা বেসরকারী কোন কৃষি সহায়তা। চলতি বছর জেলায় দুই দফা বন্যায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দেয়া তথ্য মতে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৯৪০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ফসলহানির কারণে কৃষকের ক্ষতি হয় ৩৯২ কোটি, ৯২ লাখ ১৭ হাজার ৯৫০ টাকা। এই বিপুলসংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এখনও সরকারীভাবে পায়নি কোন কৃষি সহায়তা। বর্তমানে যে সহায়তা দেয়া হয়েছে তা মোট কৃষকের মাত্র ৭ দশমিক ৪৬ ভাগ। বৃহৎ কৃষক সমাজ এই সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি বছরে বন্যায় রোপা আমন ৩৪ হাজার ৯২৭ হেক্টর, আমন বীজতলা ৫০৫ হেক্টর ও শাকসবজি ১ হাজার ১৬১ হেক্টর ক্ষতি হয়। মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকের জন্য এ পর্যন্ত সরকারীভাবে মাত্র ২৫ হাজার ৬৯৯ কৃষককে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য রোপা আমন চারা ৭শ’ জনকে এবং ব্রি ধান-৩৪ এর বীজ ৫ কেজি করে ২শ’ জনকে প্রদান করা হয়। এছাড়াও ৯ উপজেলায় বরাদ্দ তালিকায় রয়েছেন ২৪ হাজার ৬৯৯ কৃষক। এজন্য মোট ২ কোটি ৮০ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৮ টাকার চেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে বিতরণ পর্যায়ে রয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থে কৃষকদের গম, ভুট্টা, মষকালাই, সরিষা, চিনাবাদাম, তিল, মুগ ও বিটিবেগুন বীজ বিতরণ করা হবে। এই পরিস্থিতিতে গ্রামগুলোতে চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে রোপা আমন বীজ। ৪০ থেকে ৪৫ শতক জমির জন্য রোপা আমন চারা কিনতে খরচ পড়ছে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। চিলমারীর চারা ব্যবসায়ী আব্দুল মিয়া জানান, বন্যায় চারা বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে চারা ও পরিবহন বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় হয়। ফলে এক পণ (৮০ মুঠো) চারার মূল্য আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। রমনা থেকে চারা কিনতে আসা জমসেদ বলেন, গরুর খড়ের কথা চিন্তা করে তিনি থানাহাট বাজারে আমন চারা কিনতে এসেছেন। কিন্তু চারার মূল্যেও কারণে এখনও আমন চারা কিনতে পারেনি। একই কথা জানালেন নয়ারহাট থেকে চারা কিনতে আসা ভুট্টু মিয়া, ঠগেরহাট এলাকার আব্দুর রশীদ। খোঁজ নিয়ে জানা গেল চলতি বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, চিলমারী, কুড়িগ্রাম সদর, রাজিবপুর, ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ^রী ও রৌমারী উপজেলার কৃষক। এসময় মাঠপর্যায়ে চাষকৃত রোপা আমন, বীজতলা ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। চিলমারীতে রোপা আমনের ক্ষতি হয় ৬৫ ভাগ, সদরে ৫৯ ভাগ, রাজিবপুরে ৫১ ভাগ, নাগেশ^রীতে ৪৩ ভাগ এবং রৌমারী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ৩৭ ভাগ করে রোপা আমন ক্ষেত সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭ হাজার ৯৯৫ দশমিক ৬০ টন আবাদ। অপরদিকে শাকসবজি নাগেশ্বরীতে ৮৪ ভাগ, চিলমারীতে ৭৭ ভাগ, ফুলবাড়ীতে ৭৪ ভাগ সদরের ৫৬ ভাগ, রাজিবপুর ও ভুরুঙ্গামারীতে ৫৪ ভাগ এবং রৌমারীতে ৪৩ ভাগ ক্ষতি হয়। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৪১৫ টন আবাদের। সবমিলিয়ে এই জেলায় বন্যায় ফসলহানির কারণে কৃষকের ক্ষতি হয় ৩৯২ কোটি ৯২ লাখ ১৭ হাজার ৯৫০ টাকা। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, সরকারীভাবে এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার ৬৯৯ কৃষকের জন্য ২ কোটি ৮০ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৮ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের বরাদ্দ অনুযায়ী চেক বিতরণ করা হচ্ছে। সরকার কিছু অংশ কৃষকদের সহযোগিতা করবে। তবে সবাই এই সুযোগ পাবে না।