ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

সেরেনাকে নিয়ে মুখ খুললেন শারাপোভা

প্রকাশিত: ০৬:৪৭, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সেরেনাকে নিয়ে মুখ খুললেন শারাপোভা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ২০০৪ সালের কথা। শারাপোভার বয়স তখন সতের। ঠিক সেই সময়েই বিস্ফোরণ ঘটেছিল তার। দুইবারের উইম্বল্ডন চ্যাম্পিয়ন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জিতে নজর কেড়েছিলেন টেনিসপ্রেমীদের। সেই যে শুরু। এরপর আর পেছনের দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। টেনিস কোর্টের পারফর্মেন্সে কখনও কখনও নিষ্প্রভ থাকলেও রূপ-সৌন্দর্য গুণে জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বব্যাপী কোটি-কোটি টেনিসপ্রেমীদের হৃদয়ে। সেরেনাকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম জিতলেও এরপর আর সুবিধা করতে পারেননি শারাপোভা। বাকি ক্যারিয়ারে আর মাত্র একটিবারই জেতেন তিনি। পক্ষান্তরে সেরেনা উইলিয়ামস তাকে হারিয়েছেন ১৯ বার। তাহলে এর কারণ কী? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন অনেক টেনিসবোদ্ধাই। কিন্তু সমাধান মেলেনি তার। অবশেষে সেই প্রশ্নের উত্তর এলো। হ্যাঁ, এক যুগেরও বেশি সময় আগে সেরেনার বিপক্ষে উইম্বলডনের সেই জয়টাই কাল হয়েছে শারাপোভার। মঙ্গলবার প্রকাশিত নিজের আত্মজীবনী ‘আনস্টপএ্যাবল : মাই লাইফ শো ফার’ এ রাশিয়ান টেনিসের গ্ল্যামারগার্ল ঠিক এমনটাই জানিয়েছেন। সেখানে পাঁচটি গ্র্যান্ডসøামের মালিক শারাপোভা লিখেছেন, ‘উইম্বলডনে সকল প্রতিকূলতা দূর করে হাড্ডিসার একটা মেয়ে আমাকে হারিয়ে দিল। আমি মনে করি এ জন্যই সেই পরাজয়ের পর থেকে সেরেনা আমাকে ঘৃণা করতে শুরু করে।’ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টেনিস কোর্টের আলোচিত তারকা গত বছর হঠাৎ করেই সমর্থকদের চমকে দেন। ডোপ নিয়ে টেনিস থেকেই নির্বাসনে চলে যেতে হয় রাশিয়ান টেনিসের এই গ্ল্যামারগার্লকে। প্রথম দিকে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছিল দুই বছর। সেই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপীল করেন মারিয়া শারাপোভা। যার ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমায় ৯ মাস। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এ বছরের এপ্রিলেই পেশাদার টেনিসে ফিরেন শারাপোভা। স্টুটগার্ট ওপেন দিয়েই নতুন করে মিশন শুরু করেন তিনি। তারপরও আরও বেশ কয়েটি ডব্লিউটিএ ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন মাশা। কিন্তু গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তিনি। অবশেষে মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনেই খেললেন শারাপোভা। শুরুটা দারুণভাবেই করেন বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এই নাম্বার ওয়ান। কিন্তু শেষ ষোলোতেই জয়রথ থেমে যায় তার। নিজের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রোমানিয়ার সিমোনা হ্যালেপকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মিশন শুরু করা শারাপোভা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেন লাটভিয়ার অখ্যাত খেলোয়াড় এ্যানাস্তাসিজা সেভাস্তোভার কাছে হেরে। তবে শারাপোভার লক্ষ্য এখন নতুন মৌসুমে নিজের সেরাটা দিয়ে খেলা। অন্যদিকে সেরেনা উইলিয়ামসেরও লক্ষ্য এক। চলতি মাসেই প্রথমবারের মতো কন্যা সন্তানের মা হওয়া আমেরিকান কিংবদন্তি যে, নতুন মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেন দিয়েই কোর্টে ফিরতে চান। যদিওবা তার ফেরাটা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকেই। কিন্তু তারপরও সেরেনা উইলিয়ামস তো একজনই। সব শঙ্কা-সংশয় দূর করে বারবারই আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে কোর্টে ফেরাই যে তার স্বভাব। এই মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জিতেই ২৩তম গ্র্যান্ডসøাম নিজের শোকেসে তুলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার সময়ও অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন সেরেনা। আমেরিকান টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তির সামনে এখন নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি। আর মাত্র একটি মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পারলেই সর্বোচ্চ ২৪ গ্র্যান্ডসøাম জয়ী মার্গারেট কোর্টকে ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি। সদ্যই মা হওয়া সেরেনা উইলিয়ামস কি পারবেন? গোটা দুনিয়ার টেনিসপ্রেমীদের অপেক্ষা এখন সেটাই দেখার।