ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ভারতীয় পোশাকের দখলে চট্টগ্রামের ঈদ বাজার

প্রকাশিত: ০৩:৫৫, ১২ জুন ২০১৭

ভারতীয় পোশাকের দখলে চট্টগ্রামের ঈদ বাজার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আসছে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল ফিতর। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে আনন্দ ভাগাভাগি করতে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হবে স্বজনেরা। মিলনমেলা বসবে ঘরে ঘরে। তার আগেই নতুন পোশাক কিনতে শপিং মল-মার্কেটের দিকে ছুটছে দেশের মানুষ। রমজানের শুরু থেকেই চট্টগ্রামের মার্কেট-শপিং মলে দর্শনার্থীদের ভিড়। ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বিক্রিও। ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পোশাক ও জুতার ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, বর্তমানে ভারতীয় পোশাকের চাহিদাই বেশি। বলতে গেলে, ভারতীয় পোশাকের দখলেই চট্টগ্রামের ঈদ বাজার। সরেজমিনে দেখা গেছে, সানমার ওশান সিটি, সেন্ট্রাল প্লাজা, ইউনেস্কো সেন্টার, বিপণি বিতান, ফিনলে স্কয়ার, আখতারুজ্জামান সেন্টার, লাকি প্লাজা, সাউথল্যান্ড সেন্টার, সিঙ্গাপুর মার্কেট, গুলজার টাওয়ার, মতি টাওয়ার, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, আমিন সেন্টার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, তামাকুমন্ডি লেইন, শাহ আমানত মার্কেট, ঝলক প্লাজা, বিনিময় টাওয়ার, বে শপিং, হকার্সসহ নগরীর সব মার্কেটের সব দোকানই ভারতীয় পোশাকে ঠাসা। বিক্রিও হচ্ছে ভাল। খুচরা পোশাক বিক্রেতারা বলেন, ঈদের পোশাকের ক্ষেত্রে ডিজাইনকে গুরুত্ব দেয়া হয়। দেশীয় পোশাকের তুলনায় ভারতীয় পোশাক বেশি ঝলমলে। সেগুলোর চাহিদাও বেশি। সেদিকে লক্ষ্য রেখে রোজায় আগেই ভারতীয় পোশাক আমদানি করা হয়েছে। বিক্রিও ভাল হচ্ছে। সানমারের জারা ফ্যাশানের মালিক মোজাম্মেল বাদশা বলেন, আমরা কিশোরী-নারীদের পোশাক বিক্রি করি। ভারতীয় পোশাকের আগ্রহ বেশি। ভারতীয় ডিআইডি কটন, পেপার সিল্ক, গাউন, ব্রাইডাল গাউন, ইন্ডিয়ান বেনারসি কাতান, ভারতীয় জনপ্রিয় সিনেমা বাহুবলীর পোশাকই বেশি বিক্রি হচ্ছে। সানমারের আকর্ষণ ফ্যাশানের বিক্রেতা মোঃ সোহেল বলেন, এখানে সব দোকানেই ভারতীয় পোশাক বিক্রি হচ্ছে। দেশী পোশাকের তুলনায় সেগুলোর দামও অনেক বেশি। তবু চাহিদা থাকায় বেশি দামে ভারতীয় পোশাক মজুদ করেছি। দাম বেশি হলেও বিক্রি ভাল। ভারতীয় পোশাক বিক্রি প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলেন, বাহারি রং ও নজরকাড়া ডিজাইনের পাশাপাশি ভারতীয় সিরিয়াল, চলচ্চিত্র ও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কারণে দেশীয় পোশাকের চেয়ে এসব পোশাকের চাহিদা বেশি। শপিংমলগুলোতে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সেগুলো। দেশীয় পোশাকের আউটলুক ভাল না হওয়ায় সেগুলোর বিক্রি কম। রিয়াজউদ্দিন বাজারের তনু শাড়ী হাউসের মালিক হাজী আবুল কালাম জানান, এবার ভারতীয় কাতান, বেনারসি, কাঞ্চিবরণ, মিনাকুমারী, মৌ মাস্তান, কাশ্মীরি সিল্ক ইত্যাদি শাড়ি বিক্রি করছি। এখন পর্যন্ত বিক্রিও ভাল। মিমি সুপার মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা জেসমিন আরা বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে মার্কেটে এসেছি। যা পছন্দ হচ্ছে সবই ভারতীয় পোশাক। সেগুলো দেখতে আকর্ষণীয় এবং আরামদায়ক। আর দেশীয় পোশাকে সুক্ষ্ম ডিজাইনের অভাব রয়েছে। ডিজাইনে ভিন্নতা কম। ভারতীয় পোশাক বেছে নিতে হচ্ছে। ভাল মানের দেশীয় পোশাক পেলে অবশ্যই কিনতাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী জোবাইদা জান্নাত বলেন, বছরের বিভিন্ন সময়ে দেশী পোশাক কিনি। কিন্তু ঈদের জন্য ভারতীয় পোশাক কিনছি। দেশে ভাল ডিজাইনের পোশাক তৈরি হলে আমরা সেগুলোই কিনবো; ভারতীয় পোশাক নয়। অতিরিক্ত দামের অভিযোগ তুলে ক্রেতারা বলছেন, গত রমজানে মেজবাহ উদ্দিন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক থাকাকালে বাজারে মনিটারিং টিম ছিল। সাধ্যের মধ্যে ঈদের কেনাকাটা করতে পেরেছিলাম। কিন্তু চলতি বছরে তেমন কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দাম দিতে হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনের কারণে ভালমানের দেশী পোশাকের চেয়ে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশি। আর প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগে নিম্নমানের ভারতীয় পোশাক দিয়ে দোকান সাজিয়েছে ব্যবসায়ীরা। তবে ভারতীয় পোশাক বেশি বিক্রি হলেও দেশীয় বুটিকসের পোশাকের বিক্রি কম- তা বলা যাবে না। নগরীর আফমি প্লাজাতে দেশী দশ, ২ নম্বর গেটের আড়ং, এসএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন, শৈল্পিক, বাঙালী বাবু, ইজি, খাঁদি বাজারসহ বিভিন্ন শো-রুমে দেশী পোশাক ভাল বিক্রি হচ্ছে। নগরীর জিইসি মোড়ে জেন্টাল পার্কের ইনচার্জ নূর হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে পোশাকের রং ও ডিজাইনের প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছি। ঐতিহ্যের পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন ডিজাইনও এনেছি আমরা। বিক্রিও ভাল হচ্ছে। আমাদের দেশী কাপড়ের মানও খুব ভাল। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিক্রি আরও বাড়বে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২