ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

সহায়তা করবে ভারত

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বগুড়া সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মিত হচ্ছে

প্রকাশিত: ০৩:৪০, ২৬ মে ২০১৭

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বগুড়া সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মিত হচ্ছে

সমুদ্র হক ॥ অনেক ঝড় ঝাপটা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ফাইল হিমঘর থেকে বের হয়ে এসেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এবার আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত। ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় রেলপথটি নির্মিত হতে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, ভারতীয় এলওসি বা ঋণ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য রেলওয়ে মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে রেলপথ নির্মাণে সহযোগিতা দিতে লাইন অব ক্রেডিটের কথা বলেছেন। আশা করা হয়েছে তারই আলোকে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জে সরাসরি ৭৪ কিলোমটার মিশ্রগেজ রেলপথ নির্মিত হবে। যমুনায় বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু নির্মাণের সময়ই উত্তরবঙ্গ থেকে রাজধানী ঢাকা রেল যোগাযোগে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ৭৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি গুরুত্ব পায়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ওই সময়ে এই রেলপথ নির্মাণের ফিজিবিলিটি স্টাডি করে জানায় উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নে এই রেলপথ নির্মাণ জরুরী। পরে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী অযাচিতভাবে পরিবেশ বিপন্নের কথা বলে প্রকল্পটি স্থগিত করে রাখে। তারপর প্রকল্পের ফাইলটি কখনও টেবিলে ওঠে কখনও ফিরে যায় হিমঘরে। জানা যায়, পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী এক শ্রেণী ওপর মহলে দেনদরবার করে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেলপথ নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেললাইন স্থাপনের পর রাজধানী ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোকে ঈশ্বরদী হয়ে উত্তরবঙ্গে পৌঁছতে ৪শ’ থেকে ৫শ’ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। যার দেড়শ’ কিলোমিটারেরও বেশি ঘুরপথ। বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ মনসুর আলী রেল স্টেশন পর্যন্ত ৭৪ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেললাইন স্থাপিত হলে উত্তরবঙ্গের যে কোন জেলায় যেতে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুই-ই সাশ্রয় হবে। তখন ট্রেনে ঢাকা থেকে বগুড়া পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘণ্টা। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেলপথ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে গত ১৫ বছর ধরেই আলোচনা হচ্ছে। এই রেলপথ নির্মাণের দাবিতে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে আন্দোলন হয়েছে। আন্দোলনের মুখে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ৭৪ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপনের বিষয়টি দাতা সংস্থাকে জানানো হয়। এডিবি অর্থায়নে রাজি হয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বগুড়া থেকে শাজাহানপুর শেরপুর হয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের জমি অধিগ্রহণের জরিপ শুরু হয়। রেলপথ নির্মাণে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত পুরনো কাঁচা সড়কটিকে আমলে নেয়া হয়। সিরাজগঞ্জের জেলা পরিষদের তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা এই সড়কটির সন্ধান দিয়ে সরকারকে জানালে তা গৃহীত হয়। প্রকল্পের ছারপত্র তৈরি হয়। বলা হয় ২০০৯ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ হয়ে রেলগাড়ি চলাচল করবে। পরে সকল প্রকল্পই অজ্ঞাত কারণে ভেস্তে যায়। ২০১১ সালের ৯ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেললাইন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তারপরই ফাইল বের করে ফের শুরু হয় চিঠি চালাচালি। কিছুদিন পরই তা ঝিমিয়ে পড়ে। ২০১৫ সালের ১২ নবেম্বর বগুড়ায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর ফাইল নড়েচড়ে ওঠে। ওই সময় বৈদেশিক অর্থ সহযোগিতা প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। চীনা রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়। পরবর্তী সময়ে তাও ভেস্তে যায়। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণসহ পূর্বাঞ্চলেরও কয়েকটি রেললাইন ও অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নের ফাইল ওয়ার্ক শুরু করেছে।