ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ঝড়ে নিহত তিন ॥ ৬শ’ বাড়ি বিধ্বস্ত

প্রকাশিত: ০৬:১৯, ১৬ মে ২০১৭

ঝড়ে নিহত তিন ॥ ৬শ’ বাড়ি বিধ্বস্ত

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ সোমবার ভোরে শরীয়তপুর, ঝালকাঠি, মুন্সীগঞ্জ ও মাগুরার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে তিনজন নিহত ও ৬ শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো- শরীয়তপুর ॥ সোমবার সকালে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের চরপায়াতলী গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪৭) নিহত হয়েছে। অর্ধশত কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এদিকে একই সময় জেলার নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা, নওপাড়া এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা, পালের চর গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ৩ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ও বাজারের দোকানপাট বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে বহু গাছপালা উপড়ে গেছে। আহত হয়েছে ২০ জন। আহতদের মধ্যে নুরু বয়াতি, মিয়াজুল ঢালী, মানিক মালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ায় শরীয়তপুর শহরসহ ৬টি উপজেলার কোথায়ও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুত সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। মুন্সীগঞ্জ ॥ সোমবার ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শ্রীনগর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ভাগ্যকূল, রাঢ়ীখাল ও বাঘরা এলাকাসহ ৭টি গ্রামের মসজিদ মন্দিরসহ জেলায় প্রায় ৩শ’ বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বহু বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা উপড়ে গেছে। ঝড়ে ১০টি গাভী মারা গেছে। আহত হয়েছে ২০ জন। উপজেলায় বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গাছপালা উপড়ে পড়ায় বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বিঘিœত হয়। অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। জানা গেছে, সকাল ৭টার দিকে আকস্মিক এ ঝড়ে ল-ভ- করে দেয় বাড়িঘর। শুধু কোলাপাড়া গ্রামেই ৫০টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং দুটি গরু মারা গেছে। পাশের রাঢ়ীখালে ৪০টি দোকান বিধ্বস্ত হয়। ৮টি বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে যায়। প্রায় পাঁচ মিনিট স্থায়ী এ ঝড়ে রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের নতুন বাজার, বাঘাডাঙ্গা, তিন দোকান, বাঘরা ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ি ও রৌদ্রপাড়া, কোলাপাড়া ইউনিয়নের কাদুরগাঁও, কুকুটিয়া ইউনিয়নের কাজলপুর ও ভাগ্যকূল ইউনিয়নের কামারগাও গ্রামের প্রায় ৩শ’ বাড়িঘর ল-ভ- হয়ে যায়। এ সময় আড়িয়ল বিলে ধান কাটায় ব্যস্ত ১৬ দিন মজুর আহত হয়। ঝড়ে উড়ে আসা টিন ও গাছের ডালের আঘাতে তারা আহত হয়। এছাড়াও জেলার লৌহজং, টঙ্গীবাড়ি, সিরাজদিখান ও সদর উপজেলায় এ ঝড়ে গাছপালা উপড়ে যায়। ঝড়ে পড়ে গেছে কাঁচা-পাকা আম-কাঁঠাল। তবে এসব এলাকায় ব্যাপক কোন ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। মাগুরা ॥ সোমবার সকালে মাগুরার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা ও কাঁচা ঘরের ক্ষতি হয়েছে। এ সময় ঘর চাপায় সাজেদা খাতুন (৩০) নিহত হয়েছে। সড়কে গাছ ভেঙ্গে পড়ায় মাগুরা-ঢাকা মহাসড়কে এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্যাপকভাবে কাঁচা আম ঝড়ে পড়েছে। ঝালকাঠি ॥ সোমবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে আচমকা দমকা বাতাস ও বৃষ্টিতে গাছের ডাল ভেঙ্গে কৃষ্ণকান্ত আচার্য্য নিহত হয়েছে। কৃষ্ণকান্ত ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা এলাকার সুনীল আচার্য্যরে পুত্র। ঘটনার সময় সে বাড়ির পাশে একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিল।