সোমবার ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

ঘর সাজান ব্যতিক্রমী ওয়ালম্যাটে

  • রেজওয়ানা আলী তনিমা

একটি সুন্দর গৃহ সাজে শুধু আসবাব না মেঝের কার্পেট, জানালার পর্দা, সোফার কুশন, টেবিলের কভার, ঘরের কোণের টব এমনকি দেয়ালের ছোট্ট ওয়ালম্যাটও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একসময় আমাদের ঘরে দেয়ালসজ্জায় ওয়ালম্যাট বলতে ছিল আমাদের মা খালাদের করা নকশী বুননের ওয়ালপিসগুলো। আর রুচিশীল শিল্পমনাদের বাড়িতে পেইন্টিং। এগুলো এখনও নান্দনিক সৌন্দর্য ছড়ায়। কিন্তু এখন শুধু এইরকম ওয়ালম্যাট কিছুটা একঘেঁয়ে হয়ে পরেছে। সবাই এখন ব্যতিক্রম খোঁজেন। গৎবাঁধা নিয়মে কেউ ঘরসাজাতে চান না। সেজন্য এখানে দেয়া হলো ব্যতিক্রমী কিছু ওয়ালম্যাটের আইডিয়া।

১. ঘরের আসবাব যদি বেতের বা কাঠের হয় এবং বাঙালীয়ানা ধাঁচের সজ্জা থাকে তাহলে মাটি, বাঁশ, পাট, কাঠ কিংবা পাথরের ওয়ালম্যাট চমৎকার লাগবে। এছাড়া সিরামিকের উপর ছবি, নকশা ইত্যাদির প্লেট বা পাত ঝুলাতে পারেন। বাজারে নিজের ইচ্ছামতো দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার কাজ করে এমন কিছু দোকান রয়েছে। এগুলো দিয়ে ডিজাইনে আনতে পারেন নিজস্বতা।

২. আমাদের দেশে কাচের ওপর রঙিন আঁকিবুকির ধারাটি অনেক পরে এসেছে। গ্লাসপেইন্টিং এখন হচ্ছে দরজা জানালায়, করিডোরে। কিন্তু দেয়ালসজ্জায়ও এটি নতুন আঙ্গিক যোগ করতে পারে। দেয়ালে স্বচ্ছ কাচখ-ের ওপর আঁকা রঙিন ছোটআকারের ছবিগুলো পছন্দসই ফ্রেমে বাঁধাই করে ঝুলাতে পারেন। আরেকটু আকর্ষণীয় করতে চাইলে কাচের নকশার ওপর ইচ্ছামতো গ্লিটার, পাথর ইত্যাদি বসিয়ে নিন। অল্প আয়াসে ঘরে জমকালো ভাব আসবে।

৩. ধাতব বিশেষত পিতলের তৈরি জিনিসপত্র আভিজাত্যের প্রতীক। মাঝখানে এর চল কমে গিয়েছিল। এখন আবার ঐতিহ্যবাহী জিনিসগুলো ফিরে আসছে। তাই ঘরে আভিজাত্য আনতে ব্যবহার করুন পিতলের ওয়ালপিস বা প্লেটগুলো। তবে পিতলের জিনিস সবখানে মানায় না। যেসব ঘরে পুরনো ধাঁচের, গাঢ়রঙের বার্নিশে অভিজাত কাঠ বা মখমলমোড়া ভারি আসবাব রয়েছে, সাজগোজে সাবেকি আমলের গাম্ভীর্য সেখানে এসব সবচেয়ে ভাল মানায়।

৪. বাহারি কারুকাজের ঝুলন্ত গাছের টব বা ফ্রেম বাঁধানো আয়নাকেও ব্যতিক্রমী ওয়ালম্যাট হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো যে কোন এক বা দুইপাশের দেয়ালে গুচ্ছকারে ছোটবড় কয়েকটি করে দিলে ভাল দেখাবে। টবের ক্ষেত্রে ছোটছোট কয়েকটি নিয়ে একটি ফ্রেমে বা বোর্ডে এঁটে তাতে গাছের পাশাপাশি ছোট খোপ তৈরি করে সেখানে শোপিস, মোমদানি ইত্যাদি রাখতে পারেন। অভিনবত্ব আসবে।

৫. ঘরসাজে গতানুগতিক ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। দেয়ালে ভারি কোন উপাদান ব্যবহার না করে প্রক্রিয়াকৃত পেপারক্রাফট দিয়েও সাজাতে পারেন। এখন বাংলাদেশে ছোট আকারে হলেও কিছুকিছু ব্যক্তিদ্যোগে পেপারক্রাফট হচ্ছে। চাইলে নিজের মনের মতো করে কাগজে ডিজাইন কেটে বোর্ডে বসিয়ে নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন মনমতো পেপারক্রাফট।

৬. একেবারেই অন্যরকম কিছু করতে চান? যা ব্যয়বহুলও না কিন্তু আকর্ষণীয়? তাহলে বাটিক টাইডাই এর রংচঙে পছন্দসই সাইজের টুকরা কাপড় সুন্দর ফ্রেমে বসিয়ে নিন। আবার মাঝখানে কোন পেইন্টিং রেখে চারধারে মোটা করে এসব কাপড়ে মুড়ে বাঁধাতে পারেন। এছাড়া সুঁইসুতোয় কাঁথাস্টিচ ফোঁড় টেনে কাপড়খানায় মাঝে মাঝে চুমকি পুতি পাথর লেইসফিতা ইত্যাদি বসিয়ে নিন। একই কাজ করা যায় বেনারসি বা জামদানি পাড় দিয়ে। অব্যবহৃত পুরনো কাপড়টি আলমারিতে ফেলে না রেখে এভাবে কাজে লাগান। গৃহসজ্জায় নতুনত্ব আসবে। কয়েক রঙের একরঙা কাপড় বসিয়ে এ্যাপ্লিকের মতো করে বোর্ডে সেঁটেও বাঁধিয়ে নিতে পারেন। পেয়ে যাবেন বর্ণিল ভিন্নধর্মী ওয়ালম্যাট।

৭. দেয়ালসজ্জায় চমক সৃষ্টি করতে চাইলে বোতামের ওয়ালম্যাট ব্যবহার করতে পারেন। নিজের পছন্দমতো ফুলপাতার ছবি এঁকে নিন কাপড়ে বা কাগজে। এর ওপরে ভরাট করে রংবেরঙের বোতাম বসান আঠা দিয়ে। ব্যস হয়ে গেল একেবারেই অন্যরকম একটি ওয়ালম্যাট। দেয়ালে ঝুললে আগত অতিথিদের মুগ্ধ দৃষ্টি কেড়ে নেবেই।

৮. আরেকটি বুদ্ধি হলো বৈচিত্র্যময় প্লেটের ব্যবহার। কয়েকটি বিভিন্ন ধরনের প্লেট নিন। দেয়ালে বৃত্ত, চতুর্ভূজ, ত্রিভূজ ইত্যাদি জ্যামিতিক আকারে পাশাপাশি সামান্য দূরত্ব রেখে ঘন করে সেট করুন। লক্ষ্য রাখতে হবে প্লেটগুলোর ডিজাইনে যেন পারস্পরিক সমন্বয় থাকে। সবগুলো প্লেট মিলিয়ে একটি সুন্দর ওয়ালপিসের আবহ দেবে। প্লেট ছাড়াও পাশাপাশি কয়েকটি নানারকম স্ট্রহ্যাট বা মাথাল এভাবে লাগাতে পারেন।

৯. দেয়ালে ড্রাইফ্লাওয়ার বা শুকনোফুলের ওয়ালম্যাটও চমৎকার। বাজারে তো পাওয়া যায়ই, নিজেও ইচ্ছামতো সমন্বয়ে কাঠের বোর্ডের ওপর বসিয়ে নিয়ে এ রকম ওয়ালম্যাট তৈরি করতে পারেন। এগুলোর আরেকটি সুবিধা হলো সবরকমের ঘরসাজে এটি মানায়।

ওয়ালম্যাট ব্যবহারে কয়েকটি টিপস

ওয়ালম্যাট ব্যবহারে সবসময়েই ঘরের অবস্থান আকার, সাজসজ্জা ও আসবাব হিসাবে নেয়া উচিত। ঘর বড় হলে যে কোন একপাশ বেছে নিয়ে তাতে বড়সড় আকারের দেয়ালজোড়া ওয়ালম্যাট ঝোলাতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বাকি দেয়ালগুলো যেন হালকা সাজের হয়। সব দেয়ালে বড় বড় ওয়ালম্যাট থাকলে ঘরকে জবর জং দেখাবে। ছোট ঘরের দেয়ালে অপেক্ষাকৃত ছোট ওয়ালপিস রাখা উচিত। নাহলে ঘর আরও ছোট দেখায়। এক্ষেত্রে মাত্র একটি থাকলে বেশি সাদামাটা দেখায় তাই ছোটছোট কয়েকটি দেয়ালের বিভিন্ন উচ্চতায় গুচ্ছাকারে লাগালে সুন্দর লাগবে। ওয়ালম্যাট বসাতে ঘরের আলোকসজ্জা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেখানেই লাগানো হোক আলো যেন ঠিকভাবে এর উপর পড়ে। ওয়ালপিস যেখানে বসানো হবে তার উপরে আলোর ব্যবস্থা থাকলে ভালো হয়। ঝুলন্ত র‌্যাক হলে এর মাঝে মাঝে ক্ষুদে স্পটলাইট বসাতে পারেন। পুরো কাঠামো সুন্দর আলোকিত হবে। সর্বোপরি ওয়ালম্যাট সাজাতে ঘরের প্রতিটি ছোটবড় উপাদান বিবেচনায় নিতে হবে। ঠিকঠাক রং ডিজাইনে সমন্বয় করে লাগালে ঘরের আবহই বদলে দেয়া সম্ভব।

শীর্ষ সংবাদ: