সোমবার ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

আশরাফুল ম্যাজিকে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

  • অনুর্ধ-১৮ এশিয়া কাপ হকি

রুমেল খান ॥ ‘আমার যে কেমন লাগছে, তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমার গোলে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ জিতেছে, এটা যেন স্বপ্নের মতো!’ কথাগুলো আশরাফুল ইসলামের। বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৮ দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার তিনি। তবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেয়ার পাশাপাশি সিদ্ধহস্ত পিসি (পেনাল্টি কর্নার) থেকে গোল করাতেও। বিকেএসপির এই তরুণ শিক্ষার্থীর হ্যাটট্রিকসহ চার গোলেই অনুর্ধ-১৮ এশিয়া কাপ হকি প্রতিযোগিতায় শনিবার স্বাগতিক বাংলাদেশ দল ৫-৪ গোলে হারিয়েছে শক্তিশালী ভারতকে। আন্তর্জাতিক হকি টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় জয়। উল্লেখ্য, এই আসরে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে বাংলাদেশ যুব হকি বিশ^কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

জয়ী দলের ফজলে হোসেন রাব্বি অপর গোলটি করেন। ম্যাচে বাংলাদেশ চারবার আগে গোল করে লিড নেয়। ভারত লিড নেয় মাত্র একবার। প্রথমার্ধে খেলার স্কোর ছিল ২-২।

বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে আছে পুল ‘এ’তে। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ওমানের মুখোমুখি হবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর। শনিবার পুল ‘বি’র প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তান ৬-১ গোলে চাইনিজ তাইপেকে ও চীন ৬-০ গোলে হংকংকে হারায়।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মাঠে গড়ানোর কথা বেলা তিনটায়। অগোছালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কারণে তা শুরু হয় ৪৫ মিনিট দেরিতে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। বাকি ছয় দলের পতাকা ঠিকঠাক উড়লেও বাংলাদেশের পতাকা কিছুক্ষণ ওড়ার পর তা টার্ফে পড়ে যায়। অনেকক্ষণ পর তা কুড়িয়ে এনে আবার ওড়ানো হয়। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ উপভোগ করতে গ্যালারিতে হাজির ছিলেন হাজারখানেক দর্শক।

এদিকে চরম বিশৃঙ্খল এবং অগোছালোভাবে শুরু হয় ‘অনুর্ধ-১৮ এশিয়া কাপ হকি’র আসর। এ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নিয়ে নাজোহল হন সাংবাদিকরা। টুর্নামেন্টের লোগো ছিল নকল! মিডিয়াকর্মীদের নির্ধারিত বসার চেয়ারগুলো দখল করে রাখেন বহিরাগত ও বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়রা। চেয়ারের অভাবে সাংবাদিকরা দাঁড়িয়ে থেকে ম্যাচ কভার করেন! পাানি সরবরাহ ছিল অপ্রতুল। খেলা শুরুর ১৫ মিনিট পর খেলোয়াড়-তালিকা দেয়া হয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কোন ফল জানান হয়নি!

আয়োজকরা ক্রিকেটের মতো নতুনত্ব আনতে চেয়েছে সাউন্ড সিস্টেম দিয়ে। কিন্তু অনভিজ্ঞতায় সেটি হয় হ-য-ব-র-ল! খেলোয়াড়রা মাঠে নামার পরও বাজতে থাকে চড়া মিউজিক। কখন যে শুরু করতে হবে আর কখন যে শেষ হবে, তা বোঝার উপায় ছিল না। স্টেডিয়ামের পাঁচটি গেট খোলা থাকলেও সে অনুপাতে দর্শক আসেনি। দর্শকরা জানতেনই না, গেট খোলা হয়েছে!

খেলা চলাকালীন সময়ে মাঠের পাশে বিভিন্ন হকি কর্তাব্যক্তিরা অবস্থান নেন, আনাগোনা করেন এবং সাক্ষাতকার দেন টিভি মিডিয়াগুলোকে। পৃথিবীর কোথাও এমন নজির নেই। মিডিয়াকক্ষে ওয়াই ফাই ইন্টারনেট সংযোগও ঠিকমতো না পাওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় কর্মরত সাংবাদিকদের। তারপরও সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনায় ছিল শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্মরণীয় এই জয়।

শীর্ষ সংবাদ: