বৃহস্পতিবার ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বিএনপি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন নিয়ে এবার মাঠে নামছে

  • রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প হবে শুরু

শরীফুল ইসলাম ॥ এবার ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আর প্রথম ইস্যু করতে চায় রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প। এছাড়া গ্যাস বা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো কিংবা এ ধরনের অন্য কোন জনসম্পৃক্ত ইস্যু পেলে সেগুলো নিয়েও আন্দোলন কর্মসূচী পালনের কথা চিন্তা করছে দলটি। আর এ ধরনের আন্দোলনে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থন লাভের চেষ্টা করবে বিএনপি। এ ধরনের কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে একদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা আর অপরদিকে জনসমর্থন বৃদ্ধির কৌশল নিচ্ছে বিএনপি হাইকমান্ড। রামপাল বিদ্যুত প্রকল্পকে আন্দোলনের ইস্যু করতে ইতোমধ্যেই খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে এ প্রকল্পকে পরিবেশ বিধ্বংসী আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প বাতিলের দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে তিনি দলের স্থায়ী কমিটি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রথমে সংবাদ সম্মেলন করে এ ইস্যুতে দেশবাসীকে সচেতন করা ও পরে আন্দোলনের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ নিয়ে জোটের বাইরে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন।

রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প ইস্যুতে বিএনপি যে আন্দোলনে যাচ্ছে তা বৃহস্পতিবার জিয়াউর রহমানের মাজারে গিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেয়া বক্তব্য থেকেই প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেছেন, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে সরকার কেমন প্রতিক্রিয়া জানায় তার ওপর ভিত্তি করে বিএনপি আন্দোলন কর্মসূচী ঠিক করবে। আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। বিদ্যুত চাহিদা পূরণে আরও বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আছে, কিন্তু সুন্দরবনের ক্ষতিসাধন করে এ বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ আমরা সমর্থন করতে পারি না। তিনি আরও বলেন, রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প বাতিলের দাবিতে বাম দলগুলোর আন্দোলনে বিএনপির সমর্থন রয়েছে।

জানা যায়, রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প ইস্যুতে আপাতত বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে জনমানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি বাম দলের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে এ ইস্যুতে আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করবে বিএনপি। আর ঈদের পর আস্তে আস্তে বাম দলগুলোর সঙ্গে এ ইস্যুতে সম্পর্ক উন্নয়ন করে একপর্যায়ে বিএনপিই আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করে অন্যান্য দলের সমর্থন নেয়ার চেষ্টা করবে। এর মাধ্যমে রাজপথ দখলের চেষ্টা করবে। এছাড়া সরকার গ্যাস বা বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করলে ওই ইস্যুতেও বিএনপি আন্দোলন কর্মসূচী দেবে। পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতেও সোচ্চার থাকবে। এর মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আস্তে আস্তে তারা রাজপথ দখলে নেয়ার চেষ্টা করবে।

প্রসঙ্গত, গতবছর দেশব্যাপী টানা ৯২ দিন আন্দোলন চলাকালে গাড়ি পোড়ানো ও হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে বিএনপিকে বড় ধরনের সঙ্কটের মুখে ফেলেছেন দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। এ আন্দোলনের কারণে মামলায় জড়িয়ে দলটির বিভিন্ন স্তরের বেশ ক’জন নেতা কারাগারেও রয়েছেন। শীঘ্রই এসব মামলা থেকে তাদের রেহাই পাওয়ার কোন সম্ভাবনাও নেই। বরং আরও অনেক সিনিয়র নেতা এসব মামলায় গ্রেফতার হতে পারেন। মামলার কারণে কারাগারে গেলে আপাতত রাজনীতিও করতে পারবেন না তারা। দলের নেতারা এখনও আন্দোলনের পরিবর্তে নিজেদের নিরাপদ রাখার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাই বাস্তবতার নিরিখে ওই ধরনের আন্দোলনে আর না গিয়ে আপাতত জনসম্পৃক্ত ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন কর্মসূচী নিয়ে আবার মাঠে নামতে চায় বিএনপি।

সূত্রমতে, সরকারবিরোধী আন্দোলনে এর আগে কয়েকবার ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপি এখন এ বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করে পথ চলতে চায়। আন্দোলন করতে গিয়ে আগের মতো আর বৈরী অবস্থায় পড়তে চায় না তারা। আর সরকারবিরোধী আন্দোলনে না যাওয়ার ব্যাপারে বিএনপির ওপর বিভিন্ন মহলের চাপও রয়েছে। এছাড়া খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় ইচ্ছা করলেও হঠাৎ করে আগের মতো আর কঠোর আন্দোলনে যেতে পারবে না বিএনপি।

সরকারবিরোধী বড় ধরনের আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি প্রথম ব্যর্থ হয় ২০১৩ সালে। ওই বছর শেষদিকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী লাগাতার আন্দোলন করে বিএনপি। আন্দোলন চলাকালে সারাদেশে ব্যাপক নাশকতাও চালানো হয়। ওই আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে ব্যাপক কূটনীতিক তৎপরতা চালায় বিএনপি। এতেও সফল না হওয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। কিন্তু বিএনপি জোট বর্জন করলেও আওয়ামী লীগ সমমনা দলগুলোকে নিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে সরকার গঠন করে।

বিএনপি হাইকমান্ড মনে করেছিলেন আওয়ামী লীগ হয়ত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে আরেকটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু সে আশা পূরণ না হওয়ায় গত বছর ৬ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে টানা ৯২ দিন অবরোধ ও দফায় দফায় হরতাল পালন করে। এমনকি আন্দোলন চলাকালে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বাসা ছেড়ে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন। এর আগে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চাঙ্গা করতে গত বছর ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করার সিদ্ধান্ত নেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীদের রাজধানীতে জড়ো হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। এ জন্যই প্রস্তুতি জোরদার করতে ৩ জানুয়ারি রাতে বাসা ছেড়ে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। তার সঙ্গে দলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করেন।

খালেদা জিয়ার ডাকে গত বছর ৬ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ কর্মসূচী শুরু হয়। এ কর্মসূচী পালনকালে দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে তেমন সক্রিয় না থাকলেও তা সফল করতে চোরাগোপ্তা নাশকতা চালিয়ে সারাদেশে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। বিশেষ করে পেট্রোলবোমার আঘাতে শতাধিক মানুষ মারা যাওয়া, শতাধিক মানুষ আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হওয়া এবং কয়েক হাজার যানবাহন ও সরকারী স্থাপনা জ্বালিয়ে দেয়ার মতো নেতিবাচক দিকগুলো এখনও দেশের সাধারণ মানুষ ভুলতে পারেনি।

অভিজ্ঞমহলের মতে, গত বছরের টানা ৯২ দিনের নেতিবাচক আন্দোলন কর্মসূচীর কারণেই আন্দোলনের কথা মনে হলে মানুষ বিএনপির বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের অভিযোগ উত্থাপন করে। বিদেশী কূটনীতিকরাও বারবার এ বিষয়টির প্রতি দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এদিকে আন্দোলনের নামে নাশকতামূলক কর্মকা-ে জড়ানোর অভিযোগ এনে সরকারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধমে বিএনপি নেতাকর্মীদের কঠোর নজরদারির আওতায় আনে। বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়ায় দলের অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন। আর পুলিশের চোখ এড়াতে দলের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। কেউ কেউ দলীয় কর্মকা-ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এ কারণেই জাঁকজমকভাবে জাতীয় কাউন্সিল করার পর ৫৯১ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি হলেও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা হচ্ছে না। এসব কিছু বিবেচনায় রেখেই বিএনপি বাস্তবতার আলোকে ধীরগতিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের দিকে যেতে চায়। আর এ কারণেই এবার জনসম্পৃক্ত ইস্যু নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচী শুরু করতে চায় বিএনপি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, আন্দোলন আমরা আগেও করেছি, ভবিষ্যতেও করব। বিশেষ করে জনসম্পৃক্ত কিছু ইস্যু নিয়ে এবার আন্দোলন করতে চাই আমরা। এই যে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে দেশের পরিবেশের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরেছেন। সরকার এতে কর্ণপাত না করলে জনগণকে নিয়ে আন্দোলনে যেতে হবে।

শীর্ষ সংবাদ:
জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে ধানমন্ডি-বনানীতে আবাসিক হোটেল বন্ধ         বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী আলজেরিয়া : বাণিজ্যমন্ত্রী         ‘১লা অক্টোবরের মধ্যে সব সংস্থাকে সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয়ে আসতে হবে’         শোধরানো হবে প্রকল্পের অস্বাভাবিক খরচ         ঢাকায় ডি-এইট সম্মেলন জানুয়ারিতে         মালিকরাও প্রত্যাহার চান বাসের বর্ধিত ভাড়া         ‘ট্রেনের টিকিট হস্তান্তর করলে তিন মাসের জেল’         এবার টেলিভিশনের পর্দায় ‘হাসিনা: আ ডটার’স টেল’         জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা         রিজেন্ট-জেকেজি সম্পর্কে যা জানি বলেছি : সাবেক স্বাস্থ্য মহাপরিচালক         করোনা আক্রান্ত কানিজ আলমাস আইসিইউতে         মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নিয়োগ         দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৪৪ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৬১৭         ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে ধ্বংস করা হয়েছে ॥ তথ্যমন্ত্রী         দেশের ৮ বিভাগে হচ্ছে ক্যানসার-কিডনি-হৃদরোগের চিকিৎসার বিশেষ হাসপাতাল         এসকে সিনহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা         বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সুস্থ ও সবল আছে ॥ খালিদ মাহমুদ         কুড়িগ্রামে বাসচাপায় এক পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪         স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক ডিজিকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ         শিগগিরই ভারতের ভিসা চালুর চেষ্টা হচ্ছে জানালেন রীভা গাঙ্গুলি        
//--BID Records