ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

বিদেশ

পাকিস্তানের দক্ষিণ পাঞ্জাব॥ জঙ্গিবাদের চারণভূমি

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ৩১ মে ২০১৬

পাকিস্তানের দক্ষিণ পাঞ্জাব॥ জঙ্গিবাদের চারণভূমি

অনলাইন ডেস্ক॥ দক্ষিণ এশিয়ায় যদি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই চালাতে হয়, তাহলে মূল নজর দিতে হবে পাকিস্তানের দক্ষিণ পাঞ্জাবের দিকে- এই পর্যবেক্ষণ ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের। বিশ্বজুড়ে সহিংস সংঘাতের পূর্বাপর নিয়ে গবেষণা এবং তা থেকে উত্তরণে পরামর্শ দেওয়া ব্রাসেলসভিত্তিক বেসরকারি সংস্থাটি সোমবার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের বিশ্লেষণে পাকিস্তানের দক্ষিণ পাঞ্জাবে জঙ্গিদের শক্তিশালী হয়ে ওঠার কারণ, তাদের প্রতি দেশটির সরকারের নমনীয় নীতি, তাদের সদস্য সংগ্রহে বিদেশি মদদ সবকিছুই উঠে এসেছে। দক্ষিণ পাঞ্জাবের ভৌগলিক অবস্থানই একে জঙ্গিবাদীদের কিংবা জিহাদিদের চারণভূমি হিসেবে গড়ে তুলেছে বলে মনে করছে ক্রাইসিস গ্রুপ। পাকিস্তানের এই প্রদেশটির এক পাশের সীমান্তজুড়ে ভারতের সীমানা, এক পাশে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মির এবং অন্য পাশে রয়েছে তালেবান হামলায় বিক্ষত উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ। অবস্থানগত এবং সরকারের নমনীয়তার এই সুবিধা নিয়ে মানুষের মধ্যে জইশ-ই মোহাম্মদ ও লস্কর-ই জাংভির মতো সংগঠনগুলো জেঁকে বসেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এতে বলা হয়েছে, এই দক্ষিণ পাঞ্জাবেই মাদ্রাসা ‍ও মসজিদভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহের পাশাপাশি সীমান্ত ছাড়িয়ে অন্য জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা চলে। জইশ-ই মোহাম্মদের নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশি জঙ্গিদের যোগাযোগের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। তাদের মতো আরেকটি দল লস্কর-ই তৈয়বার কয়েকজন সদস্য গ্রেপ্তারও হন বাংলাদেশে। পাকিস্তানি জিহাদি এই দলগুলোর তৎপরতার ভারতেও দেখা গেছে বিভিন্ন সময়। নয়া দিল্লি অনেক দিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইসলামাবাদ এদের মদদ দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জঙ্গি তৎপরতা যদি কমিয়ে আনতে হয় তাহলে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ও পাঞ্জাবের প্রাদেশিক উভয় সরকারকে এই দল দুটির অবাধ বিচরণের বর্তমান পরিবেশ বদলাতে হবে। পাঞ্জাব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সমাজ কিন্তু এরকম ছিল না। গত কয়েক দশক ধরে সেখানে চরমপন্থিদের দৌরাত্ম্য চলছে। এজন্য পাকিস্তান রাষ্ট্রের তরফে ছায়া দিয়ে যাওয়া, বিদেশ থেকে বিশেষ করে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তহবিল জোগানো, রাজনৈতিক ও সামাজিক জটিলতাকে দায়ী করেছে ক্রাইসিস গ্রুপ। আইনের শাসনের অনুপস্থিতিও জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে তাদের মূল দক্ষিণ পাঞ্জাবের সমাজে প্রোথিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।