ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

জেলেপল্লীতে আতঙ্ক

যশোরে বাঁওড় দখলে মরিয়া প্রভাবশালী

প্রকাশিত: ০৬:২২, ২৪ মে ২০১৬

যশোরে বাঁওড় দখলে মরিয়া প্রভাবশালী

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ চৌগাছা উপজেলার কাকুড়িয়া বাঁওড় দখলে চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় লালিত সন্ত্রাসীরা। এজন্য তারা গত শনিবার ওই গ্রামের জেলে পল্লীতে বসবাসরত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাও চালিয়েছে। মারধর করে হুমকি দিয়েছে জীবননাশের। সেই থেকে এ পল্লীতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অব্যাহত হুমকির কারণে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি। আর বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় অভিভাবকরা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের পাঠিয়ে দিয়েছেন অন্যত্র। ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আটকে রাখার হুমকি দেয়ায় নির্ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছেন বাঁওড় পারের জেলে পল্লীর বাসিন্দারা। চৌগাছা উপজেলা সদরের পশ্চিমে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা একটি গ্রামের নাম কাকুড়িয়া। এই গ্রামে রয়েছে কাকুড়িয়া নামে একটি বাঁওড়। ৭৪ দশমিক ২৫ একর আয়তনের এ বাঁওড়টিই এখানে বসবাসরত ১৫টি জেলে পরিবারের রোজগারের একমাত্র অবলম্বন। সরকারী নিয়ম মেনে তারা লিজ নিয়ে এখানে মাছ চাষ করে সংসার চালান। কিন্তু গত ৭-৮ বছর ধরে তারা বাঁওড় লিজ নিলেও তাতে মাছ চাষ করতে পারেন না। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা জোর জবরদস্তি করে তাদের কাছ থেকে বাঁওড় লিখে নেন। তারপর তারাই সেখানে মাছ চাষ করেন। চলতি অর্থ বছরেও জেলেরা তাদের সমিতির নামে (কাকুড়িয়া মৎস্য সমবায় সমিতি) ৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা জমা দিয়ে বাঁওড়ের ডাক আনেন। তারপর তাতে মাছও ছাড়েন। কিন্তু হঠাৎ গত ১৪ মে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসী বকুল হোসেন, তরিকুল ইসলাম, শামীম হোসেন ও সন্তোষের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের বাঁওড়ে ৮-১০ হাঁড়ি শুধু পানি ঢেলে তাতে তারা মাছ ছেড়েছেন বলে জেলেদের আর বাঁওড়ে না নামার হুমকি দেন। সেই থেকে এ জেলে পল্লীতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি তারক হালদার বাড়িঘর ও স্ত্রী সন্তান ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন। আর ভয়ে পল্লীর স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বাঁওড় দখল করার চেষ্টা করছেন ক্ষমতাসীন দলের এক পক্ষের নেতাদের ছত্রছায়ায় লালিত বকুল, টিটো, সন্তোষসহ ১০-১২ জন। তাদের হয়ে নেপথ্যে কাজ করছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ মিশ্র জয়। জেলে পল্লীর বাসিন্দাদের অভিযোগ জয়ও বাঁওড় লিখে দিতে তাদের হুমকি দিচ্ছেন। নিজ সম্প্রদায়ের নেতা তাদের বিপক্ষে থাকায় তারা আরও বেশি ভয় পাচ্ছেন।